মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
মুন্সীগঞ্জ পৌর এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের লক্ষ্যে ১০ কোটি ২৬ লাখ ৯০ হাজার ২৩৭ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে পানি শোধনাগার। ধলেশ্বরী নদীর পানি পরিশোধন করে প্রতিদিন ৩ লাখ ৫০ হাজার লিটার পানি সরবরাহের সক্ষমতাসম্পন্ন এ প্রকল্পের নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। নমুনা পরীক্ষা ও পরীক্ষামূলক পানি সরবরাহও শুরু হয়েছে। তবে কিছু কারিগরি কাজ বাকি থাকায় এখনো পুরোপুরি চালু হয়নি শোধনাগারটি। ফলে নিরাপদ সুপেয় পানির সুবিধা পেতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে পৌরবাসীকে।
দেশের ৩৭টি জেলা শহরে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে নেওয়া প্রকল্পের আওতায় ২০১৮ সালে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার হাটলক্ষীগঞ্জ এলাকায় এ পানি শোধনাগার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
প্রায় ১৭ দশমিক ৭৪ বর্গকিলোমিটার আয়তনের মুন্সীগঞ্জ পৌরসভায় বসবাস করেন প্রায় এক লাখ মানুষ। এখানে পরিবারের সংখ্যা প্রায় ২৫ হাজার। কিন্তু পৌরসভার সব ওয়ার্ডে পাইপলাইনের মাধ্যমে সুপেয় পানি সরবরাহের ব্যবস্থা নেই। ফলে অনেক বাসিন্দাকে নিরাপদ পানির চাহিদা পূরণে বিকল্প উৎসের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, পৌর এলাকায় প্রতিদিন পানির চাহিদা প্রায় ৩৩ লাখ গ্যালন। এর বিপরীতে সরবরাহ রয়েছে ২৩ লাখ ৫ হাজার গ্যালন।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হুমায়ুন কবীর জানান, পৌরবাসীর সুপেয় পানির সংকট দূর করতে ১০ কোটি ২৬ লাখ ৯০ হাজার ২৩৭ টাকা ব্যয়ে শোধনাগারটি নির্মাণ করা হয়েছে। ধলেশ্বরী নদী থেকে পানি সংগ্রহ করে আধুনিক প্রক্রিয়ায় পরিশোধনের পর পাইপলাইনের মাধ্যমে পৌর এলাকার বাসিন্দাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। প্রতিদিন ৩ লাখ ৫০ হাজার লিটার পানি শোধন করার সক্ষমতা রয়েছে কেন্দ্রটির।
তিনি বলেন, শোধনাগারের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। ইতোমধ্যে পানির নমুনা পরীক্ষা এবং পরীক্ষামূলক সরবরাহ শুরু হয়েছে। শুষ্ক মৌসুমেও পানি সরবরাহ অব্যাহত রাখতে প্রকল্প এলাকায় একটি গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। এখান থেকে সরবরাহ করা পানি হবে বিশুদ্ধ, নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত এবং আয়রনমুক্ত।
নির্বাহী প্রকৌশলী আরও জানান, প্রকল্পের কিছু কারিগরি কাজ এখনো চলমান রয়েছে। সেগুলো শেষ হলেই শোধনাগারটি পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ বিষয়ে পৌর কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী (পানি) মো. আনিসুর রহমান বলেন, বর্তমানে পৌরসভায় প্রায় ৪০ কিলোমিটার পানির পাইপলাইন রয়েছে। জনসংখ্যা ও পৌর এলাকার বিস্তৃতির তুলনায় এ লাইন পর্যাপ্ত নয়। নতুন পানি শোধনাগার চালু হলে আরও প্রায় ১০ কিলোমিটার পাইপলাইন সম্প্রসারণ করা সম্ভব হবে। এতে নতুন করে পাঁচ শতাধিক পরিবার পাইপলাইনের মাধ্যমে সুপেয় পানি পাওয়ার সুযোগ পাবে। পাশাপাশি পৌর এলাকার পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
জেলা নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক মো. আরিফ উল ইসলাম বলেন, শোধনাগারটি চালু হলে পৌরবাসী পাইপলাইনের মাধ্যমে নিরাপদ, আর্সেনিক ও আয়রনমুক্ত পানি পাবেন। মানুষের সুপেয় পানির চাহিদা পূরণে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই আর দেরি না করে দ্রুত শোধনাগারটি চালুর মাধ্যমে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
গনকপাড়া এলাকার বাসিন্দা ও প্রধান শিক্ষক মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, পানি শোধনাগারটি চালু হলে পৌর এলাকায় পানির সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নতি হবে। তবে এ সুবিধা চালুর পর যেন পানি উন্নয়ন কর বাড়ানো না হয়, সে বিষয়েও পৌর কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকতে হবে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, শোধনাগারটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু এবং পাইপলাইন সম্প্রসারণ করা গেলে মুন্সীগঞ্জ পৌর এলাকার সুপেয় পানির সংকট অনেকটাই কমবে। এখন দ্রুত অবশিষ্ট কারিগরি কাজ শেষ করে প্রকল্পটি চালুর অপেক্ষায় রয়েছেন পৌরবাসী।