বালাদেশের প্রত্যেকটা প্রান্তে এক নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশ বিরাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে কথা বললে বিএনপি সরকার পুলিশ দিয়ে বাসা থেকে জোর করে তুলে নিয়ে যায় বলেও দাবি করেন তিনি।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিরোধীদলের লংমার্চে যশোরের পথসভায় দেওয়া এক বক্তব্যে এনসিপির এ নেতা এসব কথা বলেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আমরা দেখতে পেয়েছি, সারা বাংলাদেশের প্রত্যেকটা প্রান্তে এক নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশ বিরাজ করছে। যেখানে আমাদের মন খারাপ করার অধিকার নেই। যেখানে আমরা নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে কথা বলি, নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলি, তখন দেখতে পাই বিএনপি সরকার পুলিশ দিয়ে বাসা থেকে জোর করে তুলে নিয়ে যায়।’
ময়মনসিংহের একটি ঘটনার উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা দেখতে পেয়েছি, ময়মনসিংহে যখন এক নারী বিএনপিকে ভোট দিয়ে ভুল স্বীকার করেন, তার মধ্যে বোধোদয় হয়েছে—বিএনপিকে ভোট দেওয়া তার উচিত হয়নি—এই বিষয়টি যখন তিনি ফেসবুক লাইভে এসে বলেছেন, তখন বাসা থেকে পুলিশ এসে তাকে ধরে নিয়ে গেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এমন এক সময় কথা বলছি, যখন প্রতিবাদ করলে আইজিপি আমাদের ক্রসফায়ারের ভয় দেখান। প্রিয় বিএনপি সরকার, আপনারা যদি ক্রসফায়ার দেওয়া শুরু করেন, তাহলে আপনার দলের একটা লোককেও খুঁজে পাবেন না। কারণ, ক্রসফায়ার দিতে হলে চাঁদাবাজদের দিতে হবে, টেন্ডারবাজদের দিতে হবে। যারা মহিষের ঘাসে বিষ দেয়, তাদের দিতে হবে। যারা পুকুরের মধ্যে বিষ দেয়, তাদের দিতে হবে।’
চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘যারা ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলে চাঁদা নেয়, যারা চাকরির কথা বলে ঘুষ নেয়, যারা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে চাঁদা নেয়, তাদের ক্রসফায়ার দিতে হবে। আর পুলিশ যখন এই ক্রসফায়ার দেবে, তখন আপনাদের নিজ দলের ব্যক্তিদেরই দিতে হবে। কারণ, বিএনপির সবাই চাঁদাবাজি করে না এটা যেমন সত্য; তেমনি যারা চাঁদাবাজি করে, তারা প্রত্যেকেই বিএনপির।’
মালয়েশিয়া সফর ও কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আমরা দেখতে পেলাম, মালয়েশিয়া থেকে ফিরে এসে বলা হলো, লাখ লাখ কর্মসংস্থান করা হবে। কিন্তু মালয়েশিয়া বলছে, এমন কোনো চুক্তি নাকি হয়নি। আমাদের দেশের মানুষ ভাত চায়, কর্মসংস্থান চায়, জ্বালানি চায়, নিরাপদে বাঁচতে চায়।’
বিএনপি সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘বিএনপি সরকার, আমাদের বাঁচতে দিন, আমাদের জয় দিন, আমাদের কর্মসংস্থান দিন। না হলে দেশের জনগণ আবার রাস্তায় নেমে আসবে।’
রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের আগে আমাদের বলা হয়েছিল, রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোর কাঠামোগত সংস্কার করা হবে। কিছুদিন আগে আমরা দেখলাম, বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোতে এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে যে সোনালী, রূপালী, জনতা ও অগ্রণী ব্যাংকের এমডি পদে বিভিন্ন বেসরকারি কোম্পানির ডিএমডিদের বসানো হচ্ছে। অথচ ঋণখেলাপিরা ঋণ নিয়ে নিয়ে ব্যাংকগুলোকে পঙ্গু করে ফেলেছেন। এই ব্যাংকগুলোকে আবার ঘুরে দাঁড় করানোর কোনো প্রকল্প বিএনপি সরকারের নেই।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার পরিচালনার চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে এনসিপির নেতা বলেন, ‘জনাব তারেক রহমানকে একটা ফিটনেসবিহীন, ইঞ্জিনবিহীন গাড়িতে তুলে দেওয়া হয়েছে গাড়িটা চালানোর জন্য। আমরা জনাব তারেক রহমানকে বলব, আপনি যতই ভালো ড্রাইভার হন না কেন, আওয়ামী লীগ সরকার এই বাসের ইঞ্জিনটা নষ্ট করে ফেলেছে। বাংলাদেশ নামের এই বাসের চাকাগুলো নষ্ট করে ফেলা হয়েছে। আপনি যত ভালো ড্রাইভারই হন না কেন, এই বাসটা চালাতে পারবেন না।’
জয়ের পরদিন শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা দেলাওয়ার হোসেনের বাসায় ফুলের তোড়া নিয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মির্জা ফয়সল আমীন। এ সময় দুই নেতা কোলাকুলি করেন, একে অপরকে মিষ্টিমুখ করান এবং অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে কুশল বিনিময় করেন।
এ প্রসঙ্গে সমালোচনা করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আমরা একবার বলব কারচুপি হয়েছে, আবার গিয়ে মিষ্টি খাব—এ ধরনের বিরোধিতা হতে পারে না।’