শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

২০৫০ সালে দেশে প্রবীণ হবেন প্রায় ৪ কোটি, প্রয়োজন প্রবীণবান্ধব সমাজ: উপাচার্য

মাসুম হোসেন অন্তু শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ ২০৫০ সাল নাগাদ বাংলাদেশে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা প্রায় চার কোটিতে পৌঁছাবে উল্লেখ করে প্রবীণদের সামাজিক মর্যাদা, নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও যথাযথ যত্ন নিশ্চিত করতে এখন থেকেই সমন্বিত ও প্রবীণবান্ধব উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক তাহ্‌মিনা আখতার। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ […]

২০৫০ সালে দেশে প্রবীণ হবেন প্রায় ৪ কোটি, প্রয়োজন প্রবীণবান্ধব সমাজ: উপাচার্য

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:৪৮

মাসুম হোসেন অন্তু শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ

২০৫০ সাল নাগাদ বাংলাদেশে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা প্রায় চার কোটিতে পৌঁছাবে উল্লেখ করে প্রবীণদের সামাজিক মর্যাদা, নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও যথাযথ যত্ন নিশ্চিত করতে এখন থেকেই সমন্বিত ও প্রবীণবান্ধব উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক তাহ্‌মিনা আখতার।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অডিটোরিয়ামে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উদযাপন এবং বাংলাদেশ জেরোন্টোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (BGA)-এর নবগঠিত কমিটির অভিষেক উপলক্ষে আয়োজিত ‘গুণীজন সংবর্ধনা, আলোকিত প্রবীণ সম্মাননা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক তাহ্‌মিনা আখতার বলেন, বাংলাদেশের জনমিতিক রূপান্তরের (Demographic Transformation) ফলে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে দেশে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ প্রবীণ ব্যক্তি রয়েছেন। ২০৫০ সালে এ সংখ্যা প্রায় চার কোটিতে পৌঁছাতে পারে।

তাই প্রবীণদের সামাজিক অবস্থান, মর্যাদা, যত্ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাঁদের জন্য একটি প্রবীণবান্ধব সমাজ গড়ে তুলতে কার্যকর নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন জরুরি। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা থাকায় সব ক্ষেত্রে একযোগে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে কিছুটা চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

তবে সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সরকার প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, কৃষক, পরিবার ও মুয়াজ্জিন এবং পুরোহিতদের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ ও বিশেষ সুবিধা গ্রহণ করেছে। প্রবীণ জনগোষ্ঠীর কল্যাণেও এ ধরনের উদ্যোগ আরও সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।

প্রবীণদের স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করার বিষয়ে উপাচার্য বলেন, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রবীণদের জন্য পৃথক কর্নার বা সেবা কেন্দ্র চালু করা যেতে পারে। পাশাপাশি কমিউনিটি ওয়ার্কারদের মাধ্যমে প্রবীণদের ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন, উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করা সম্ভব।

এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত বড় ধরনের আর্থিক ব্যয়ের প্রয়োজন হবে না; বরং বিদ্যমান স্বাস্থ্যসেবা কাঠামোকে কাজে লাগিয়েই কার্যকর অগ্রগতি অর্জন করা সম্ভব। আন্তঃপ্রজন্ম সম্পর্ক উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে অধ্যাপক তাহ্‌মিনা আখতার বলেন, স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের জন্য প্রবীণদের যত্ন ও সেবাবিষয়ক ব্যবহারিক শিক্ষা চালু করা যেতে পারে।

স্থানীয় পর্যায়ে প্রবীণদের সমস্যার কথা শোনা, তাঁদের খোঁজখবর নেওয়া, প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা এবং যত্নের কাজে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করা হলে নতুন প্রজন্মের মধ্যে প্রবীণদের প্রতি শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধ তৈরি হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে তারাও প্রবীণ বয়সে এ ধরনের সামাজিক সহযোগিতা ও সুরক্ষা পাবে।

তিনি এ প্রসঙ্গে শিক্ষার প্রসারে অতীতে বিদ্যালয় পর্যায়ে ব্যবহারিক শিক্ষার উদ্যোগের উদাহরণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, একসময় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে নবম ও দশম শ্রেণিতে ৫০ নম্বরের ব্যবহারিক পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আশপাশের নিরক্ষর মানুষকে অক্ষরজ্ঞান ও প্রয়োজনীয় শিক্ষা দেওয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার ব্যবস্থা ছিল।

অনুরূপভাবে প্রবীণদের সেবা ও সুরক্ষার বিষয়টিও শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক শিক্ষার অংশ করা যেতে পারে। এর মাধ্যমে নবীন ও প্রবীণদের মধ্যে আন্তঃপ্রজন্ম সংযোগ, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহযোগিতার পরিবেশ গড়ে উঠবে। তরুণ প্রজন্ম প্রবীণদের সুরক্ষায় অংশগ্রহণ করলে ভবিষ্যতে তারাও একটি সহমর্মী ও প্রবীণবান্ধব সমাজের সুফল ভোগ করতে পারবে।

অনুষ্ঠানে তাঁকে গুণীজন হিসেবে সংবর্ধনা প্রদান করায় বাংলাদেশ জেরোন্টোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন অধ্যাপক তাহ্‌মিনা আখতার। তিনি এ ধরনের আয়োজনের সফলতা কামনা করে বলেন, প্রবীণদের অধিকার, মর্যাদা, সুরক্ষা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে এ ধরনের সচেতনতামূলক আয়োজন আরও বেশি হওয়া প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন আগামীতে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ও এই ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশ জেরোন্টোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের নবনির্বাচিত কমিটির সকল সদস্যকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান।

অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আমেরিকান ওয়েলনেস সেন্টারের চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক এবং বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-পরিচালক ডা. আবু নাসের।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ জেরোন্টোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (BGA) মহাসচিব অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হাফিজ উদ্দিন ভূঞা। এছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রবীণ বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। উল্লেখ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের জেরোন্টোলজি অ্যান্ড জেরিয়াট্রিক ওয়েলফেয়ার (GGW) এবং বাংলাদেশ জেরোন্টোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (BGA) যৌথভাবে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে।

সারাদেশ

আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’, পরিচয় দেন রাজুর স্ত্রী হিসেবে

কুমিল্লায় ধর্ষণ ও হত্যার শিকার স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) মৃত্যুর আগে কক্সবাজারে অবস্থানের নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সেখানকার একটি আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তার নাম লেখা হয়েছিল ‘তানজু আক্তার’। বয়স দেখানো হয় ১৮ বছর। আর সঙ্গে থাকা রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুকে পরিচয় দেওয়া হয় তার স্বামী হিসেবে। হোটেলের রেজিস্টার, সিসিটিভি ফুটেজ এবং রিয়াজের পরিচিত ব্যক্তিদের দেওয়া […]

আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’, পরিচয় দেন রাজুর স্ত্রী হিসেবে

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৮

কুমিল্লায় ধর্ষণ ও হত্যার শিকার স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) মৃত্যুর আগে কক্সবাজারে অবস্থানের নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সেখানকার একটি আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তার নাম লেখা হয়েছিল ‘তানজু আক্তার’। বয়স দেখানো হয় ১৮ বছর। আর সঙ্গে থাকা রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুকে পরিচয় দেওয়া হয় তার স্বামী হিসেবে।

হোটেলের রেজিস্টার, সিসিটিভি ফুটেজ এবং রিয়াজের পরিচিত ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য থেকে তাজমিনের কক্সবাজারে অবস্থান ও বাড়ি ফেরার আগের ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে এসব তথ্য জানা গেছে।

হোটেলের রেজিস্টার অনুযায়ী, গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে কক্সবাজারের কলাতলীতে কুটুমবাড়ি-সংলগ্ন সড়কের শেষ মাথায় অবস্থিত একটি তিনতলা আবাসিক হোটেলের ৩০২ নম্বর কক্ষে ওঠে তাজমিন ও রিয়াজ। সেখানে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’ এবং বয়স ১৮ বছর উল্লেখ করা হয়। রিয়াজের ঠিকানা হিসেবে বান্দরবানের লামা এলাকার তথ্য দেওয়া হয়। তার বাবার নাম লেখা হয় মনির আহমদ।

হোটেলের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এক রাত অবস্থানের পর ৭ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে তারা হোটেল ছেড়ে চলে যান। রেজিস্টারে রিয়াজের দুটি মুঠোফোন নম্বর ও একটি জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বরও পাওয়া গেছে।

তথ্য অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর হোটেল ছাড়ার পর রিয়াজ তাজমিনকে কুমিল্লাগামী একটি বাসে তুলে দেন। এরপর বাড়ি ফেরার পথে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠে তাজমিন। অভিযোগ অনুযায়ী, অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করেন।

পরদিন ৮ অক্টোবর সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার ভোরালজগপুর উত্তরপাড়া গ্রামের একটি ধানক্ষেতের আইল থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় করা হত্যা মামলায় সিএনজিচালক সুমন মিয়াকে (৩৫) চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোন উদ্ধার করা হয়।

রিয়াজের এক সহকর্মীর দাবি, ঘটনার প্রায় ১৭ দিন আগে ফেসবুকের মাধ্যমে তাজমিনের সঙ্গে রিয়াজের পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। পরে তাজমিন কক্সবাজারে গেলে তারা একসঙ্গে সময় কাটান।

তবে রিয়াজের ঘনিষ্ঠ অন্য একটি সূত্রের দাবি, প্রায় পাঁচ মাস আগে তাদের পরিচয় হয়েছিল এবং এরপর থেকে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল।

তাজমিনের বাড়ি ছাড়ার বিষয়ে জানা যায়, গত ৪ অক্টোবর এক বান্ধবীকে হাতঘড়ি দেওয়া নিয়ে মায়ের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। এরপর সে বাড়ি থেকে বের হয়ে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক বান্ধবীর কাছে যায়।

সেখান থেকে মুঠোফোনে রিয়াজের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে কক্সবাজারে আসতে বলা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। যাতায়াতের খরচ হিসেবে রিয়াজ বিকাশের মাধ্যমে ৫০০ টাকা পাঠিয়েছিলেন বলেও জানা গেছে।

সহকর্মী জানান, কক্সবাজার থেকে ফেরার জন্য ‘আইকনিক এক্সপ্রেস’ পরিবহনের একটি বাসের টিকিট কিনে তাজমিনকে তুলে দেন রিয়াজ। টিকিটের মূল্য ছিল ৯০০ টাকা।

ওই সহকর্মীর ভাষ্য অনুযায়ী, কুমিল্লায় পৌঁছে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠার পরও তাজমিনের সঙ্গে রিয়াজের মুঠোফোনে যোগাযোগ হচ্ছিল। এমনকি অটোরিকশাচালক সম্পর্কে কিছু তথ্যও রিয়াজকে জানিয়েছিল তাজমিন।

তবে রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে তাজমিনের মুঠোফোনের লাইভ লোকেশন বন্ধ হয়ে যায়। এরপর তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেন ওই সহকর্মী।

পরদিন টেলিভিশনের সংবাদে তাজমিনের হত্যার খবর জানতে পেরে রিয়াজ হতবাক হয়ে পড়েন বলেও জানান তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রিয়াজের এক সহকর্মী আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের খবর প্রকাশের পর রিয়াজ তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। এ সময় তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে সহযোগিতা চান। তাজমিনের হত্যার সঙ্গে নিজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

ওই সহকর্মীর তথ্য অনুযায়ী, রিয়াজ প্রায় তিন বছর ধরে কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলে কাজ করছেন। ঘটনার পর তিনি কর্মস্থল থেকে ছুটিতে রয়েছেন।

এদিকে রিয়াজের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য সরাসরি জানা সম্ভব হয়নি।

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, তাজমিন হত্যার ঘটনায় মুঠোফোনের কললিস্টসহ বিভিন্ন তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার আসামি হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তদন্ত শেষ হলে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ও পরিষ্কার হবে।

তবে তাজমিনের কক্সবাজারে অবস্থান, হোটেলের রেজিস্টারে ভিন্ন নাম ও বয়স ব্যবহার এবং রিয়াজের সঙ্গে তার যোগাযোগের বিষয়গুলো তদন্তে কীভাবে বিবেচিত হচ্ছে, তা এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি।

সারাদেশ

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরি, লুট মালামাল

আমজাদ শিবলু, সেনবাগ উপজেলা প্রতিনিধি  নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার বীজবাগ নুরজাহান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটেছে। রাতের কোনো একসময় বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে চারটি সিলিং ফ্যান, একটি ল্যাপটপ, একটি চার্জার ফ্যানসহ বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার (০৭ অক্টোবর) সকালে বিদ্যালয়ে এসে বিষয়টি শিক্ষকদের নজরে আসে। পরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোকেয়া বেগম […]

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরি, লুট মালামাল

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২৭

আমজাদ শিবলু, সেনবাগ উপজেলা প্রতিনিধি 

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার বীজবাগ নুরজাহান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটেছে। রাতের কোনো একসময় বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে চারটি সিলিং ফ্যান, একটি ল্যাপটপ, একটি চার্জার ফ্যানসহ বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।

বুধবার (০৭ অক্টোবর) সকালে বিদ্যালয়ে এসে বিষয়টি শিক্ষকদের নজরে আসে। পরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোকেয়া বেগম উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ ও সেনবাগ থানা পুলিশকে ঘটনাটি জানান।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, চোরেরা অফিস কক্ষে প্রবেশের পর দুটি স্টিলের আলমিরা ও একটি ফাইল কেবিনেটের তালা ভেঙে ফেলে। এরপর সেখান থেকে বিভিন্ন মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষক রোকেয়া বেগম বাদী হয়ে সেনবাগ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

সেনবাগ থানার ওসি (তদন্ত) মো. হযরত আলী মিলন গণমাধ্যমকে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি এবং এ ঘটনায় কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি।

সারাদেশ

মধুপুরে আকস্মিক ঘূর্ণিঝড়ে কৃষকের কলা ও আনারস বাগানের বেহাল অবস্থা

মধুপুর উপজেলার জয়নাগাছা, সোলাকুড়ীসহ আশপাশের এলাকায় ঝড়ের প্রভাবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। ভেঙে গেছে অসংখ্য কলাগাছ, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আনারস, পেঁপেসহ বিভিন্ন ফসলের বাগান। কৃষকদের ভাষ্য, বছরের পর বছর পরিশ্রম আর বিনিয়োগের পর ফলন পাওয়ার সময় এমন ঝড় তাদের বড় ধরনের ক্ষতির মুখে ফেলেছে। হরিণধরা গ্রামের কৃষক আবু সায়েম হোসেন বলেন, জীবনের প্রায় অর্ধেক […]

মধুপুরে আকস্মিক ঘূর্ণিঝড়ে কৃষকের কলা ও আনারস বাগানের বেহাল অবস্থা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২১

মধুপুর উপজেলার জয়নাগাছা, সোলাকুড়ীসহ আশপাশের এলাকায় ঝড়ের প্রভাবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। ভেঙে গেছে অসংখ্য কলাগাছ, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আনারস, পেঁপেসহ বিভিন্ন ফসলের বাগান।

কৃষকদের ভাষ্য, বছরের পর বছর পরিশ্রম আর বিনিয়োগের পর ফলন পাওয়ার সময় এমন ঝড় তাদের বড় ধরনের ক্ষতির মুখে ফেলেছে। হরিণধরা গ্রামের কৃষক আবু সায়েম হোসেন বলেন, জীবনের প্রায় অর্ধেক পুঁজি তিনি আনারস ও কলাবাগানে ব্যয় করেছেন। আকস্মিক এই ঝড়ে তার সব আশা-আকাঙ্ক্ষা যেন মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেছে।

কৃষকদের কাছে কলাগাছের মাজা ভেঙে যাওয়া শুধু একটি গাছের ক্ষতি নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে তাদের পরিবারের স্বপ্ন ও জীবিকার হিসাব। আকস্মিক এই ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের এখন ঘুরে দাঁড়ানোর অপেক্ষা।