আমার ছেলের মৃত্যুর ঘটনা আত্মহত্যা (সুইসাইড) নয়। সরকার তদন্ত করলে এর সঙ্গে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের বের করতে পারবে- এমনটাই জানিয়েছেন বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরির বাবা।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ময়নাতদন্তের পর ছেলের মরদেহ বুঝে নিয়ে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গের সামনে সাংবাদিকের এ কথা জানান তিনি।
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে আজ বেলা ২টা ২০ মিনিটে লাশ গ্রহণ করেন কে এম এনায়েতুল করিম। পরে মরদেহ ফ্রিজিং ভ্যানে উত্তরার বাসায় নেওয়া হয়।
মর্গে এনায়েতুল করিম সাংবাদিকদের বলেন, ‘ঘটনার আগের দিন তাহসিফ তার মায়ের সঙ্গে ছিল। শপিং করেছে, হ্যাপি মুডে ছিল। সে তো অ্যাসেট। দেশের পাইলট। ওর দ্বীপ নামের একটা বন্ধু এসেছিল। মাকে বলেছিল নিচ থেকে কথা বলে আসছি। এরপরে আর ফেরে নাই।’
এনায়েতুল করিম আরও বলেন, ‘রাত ১টা ৩৫ মিনিটে তাহসিফ তার মাকে ভয়েস মেসেজ দিয়েছিল, আমি আসতেছি। এরপর আর আসেনি। দ্বীপের কাছে তাহসিফের ব্যাপারে জানতে চাইলে সে বলে, আমি জানি না। তবে দ্বীপ বলেছিল, ঘটনার আগের দিন রাত ১২টা পর্যন্ত তাহসিফ আমাদের বাসার কম্পাউন্ডে ছিল।’
এক সাংবাদিকের প্রশ্নে তিনি বলেন, আত্মহত্যার তো প্রশ্নই আসে না, সে অত্যন্ত ‘প্লেজেন্ট পার্সোনালিটির’ একজন মানুষ। আর একজন কমিশনড অফিসার তো অনেক কষ্ট করে তাকে এটা অর্জন করতে হয়। সে বিভিন্ন কোর্স করে তারপরে…এরকম একজন অফিসার…এরকম কোনো ব্যাপার ছিল না।
তিনি বলেন, হত্যা করা হয়েছে, তাকে নিয়ে নদীতে ফেলে দিয়েছে বলে আমি সাসপেক্ট করি।
আজ দুপুরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে তাহসিফের লাশের ময়নাতদন্ত করেন কলেজের সহকারী অধ্যাপক নাসাত জাবিন। তিনি বলেন, তাহসিফের অঙ্গ–প্রত্যঙ্গের কিছু নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত করে বলা যাবে।
ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ‘ভিডিও ধারণকারী’ হিসেবে আলোচনায় থাকা বিমান বাহিনীর ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছিল।
এর আগে, বুধবার বিকেলে তুরাগের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তার ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে টঙ্গী নৌ পুলিশ ফাঁড়ি। তার বাসা উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের রাজউক অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের ‘করবী’ ভবনে।