শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ
একটি অটোরিকশা আর তার ভেতরের কয়েকটি ব্যাটারি হয়তো বাজারদর খুব বেশি নয়। কিন্তু এই সামান্য টাকার লোভেই কি কেড়ে নেওয়া হলো ২৫ বছরের এক তরুণের তাজা প্রাণ। ভেঙে দেওয়া হলো একটি পুরো পরিবারের বাঁচার স্বপ্ন।
বগুড়ার শেরপুরে করতোয়া নদী থেকে গলাকাটা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে নিখোঁজ অটোরিকশাচালক আসাদুলের (২৫) লাশ। বাড়ি থেকে নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে করতোয়া নদীর মধ্য থেকে তাঁর ক্ষতবিক্ষত নিথর দেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত আসাদুল শেরপুর উপজেলার গাড়িদহ ইউনিয়নের কাফুরা গ্রামের সন্তান। মাত্র কয়েক বছর আগে জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করা এই তরুণের আকস্মিক হত্যায় পরিবারে নেমে এসেছে অমাবস্যার অন্ধকার।
ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে অটোরিকশা নিয়ে উপার্জনের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন আসাদুল। দিন শেষে রাতেও ঘরে না ফেরায় স্বজনরা চারদিকে খোঁজ নিতে শুরু করেন। কোনো উপায় না পেয়ে পরদিন শেরপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন আসাদুলের মা।
বগুড়া সদর উপশহরের রায়পুর এলাকার একটি স্কুলের পাশ থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় আসাদুলের অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়। কিন্তু রিকশাটি ছিল চালকহীন এবং ভেতর থেকে খোয়া গিয়েছিল মূল্যবান ব্যাটারিগুলো। তখন থেকেই পরিবারের মনে দানা বাঁধছিল মারাত্মক আশঙ্কা।
অবশেষে মঙ্গলবার বিকেলে শাহবন্দেগী ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর নামাপাড়া এলাকায় করতোয়া নদীর পূর্ব পাড়ে একটি লাশ ভেসে ওঠার খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় আসাদুলের পরিবার। সেখানে গিয়ে স্বামীর রক্তাত্ব নিথর দেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্ত্রী মিম খাতুন।
একদিকে ছিনতাই হওয়া অটোরিকশা পাওয়া গেল বগুড়া সদরে, অন্যদিকে চালকের লাশ মিলল নদীর চরে সব মিলিয়ে ঘটনাটির পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্র জড়িত নাকি এর পেছনে অন্য কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতা কাজ করছে, সেই প্রশ্ন এখন পুরো এলাকাবাসীর মুখে মুখে। এক তরুণ চালকের এমন নির্মম পরিণতিতে পুরো শেরপুরে শোক ও চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
লাশ উদ্ধারের পর প্রাথমিক তদন্ত শেষে শেরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাহিদুল ইসলাম বলেন, “আসাদুলকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে জবাই করে হত্যা করা হয়েছে। আলামত দেখে মনে হচ্ছে, অটোরিকশা ও ব্যাটারি ছিনতাইয়ের পর অপরাধ ঢাকতে এবং পরিচয় গোপন রাখতে তাকে হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল।”
হত্যাকাণ্ডে জড়িত ঘাতকদের চিহ্নিত করতে মাঠে নেমেছে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা।
শেরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নুল আবেদিন জানান, “মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অপরাধীরা যত কৌশলই নিক না কেন, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। এই নৃশংস অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান জোরদার করা হয়েছে।”