রাজনৈতিক ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ এক পরিবারের উত্তরসূরি হলেও নিজের শিক্ষা, মেধা ও পেশাগত দক্ষতায় স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তুলেছেন ব্যারিস্টার জাইমা জারনাজ রহমান। আইন পেশা থেকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পথচলা শুরু করা এই তরুণীর আজ ৩১তম জন্মদিন।
আজ রোববার (২৫ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং ডা. জুবাইদা রহমানের একমাত্র কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন। ১৯৯৫ সালের এই দিনে রাজধানী ঢাকার হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। জীবনের ৩১ বছর পূর্ণ করে আজ ৩২তম বছরে পা রাখলেন এই তরুণ আইনজীবী।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত পরিবারের সদস্য জাইমা রহমান। তাঁর দাদা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং দাদি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। অন্যদিকে তাঁর নানা রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান ছিলেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সাবেক প্রধান ও সরকারের মন্ত্রী।
এমন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ঐতিহ্যের পরিবারে বেড়ে উঠলেও জাইমা রহমান নিজের পেশাগত পরিচয় প্রতিষ্ঠার জন্য বেছে নিয়েছেন আইন ও জননীতির ক্ষেত্র।
শৈশবের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় কাটিয়েছেন রাজধানীর ঢাকা সেনানিবাসের শহীদ মইনুল রোডের বাসভবনে। ঢাকার ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে শুরু হয় তাঁর শিক্ষাজীবন। ২০০৮ সালে বাবা তারেক রহমানের সঙ্গে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান তিনি। এরপর দীর্ঘ সময় লন্ডনে পরিবারের সঙ্গে বসবাস ও উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন।
যুক্তরাজ্যের স্বনামধন্য কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন জাইমা রহমান। পরবর্তী সময়ে ২০১৯ সালে যুক্তরাজ্যের ইনার টেম্পল থেকে ব্যারিস্টার হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন।
আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষার পর তিনি পেশাগত অভিজ্ঞতা অর্জন করেন বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যে। দেশের পরিচিত আইন প্রতিষ্ঠান সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটসেও কাজ করেছেন তিনি। সাংবিধানিক আইন, বাণিজ্যিক ও করপোরেট আইনসহ বিভিন্ন আইনি বিষয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন জাইমা।
দেশের আইন অঙ্গনেও নিজের অবস্থান তৈরির লক্ষ্যে ২০২৬ সালের জুন মাসে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আইনজীবী তালিকাভুক্তি পরীক্ষার প্রথম ধাপ, অর্থাৎ এমসিকিউ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন তিনি।
পেশাগত জীবনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিসরেও ধীরে ধীরে পরিচিতি পেয়েছেন জাইমা রহমান। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত ন্যাশনাল প্রেয়ার ব্রেকফাস্টে বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নেন তিনি। ওই সফরে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন জাইমা। এটি ছিল আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিসরে তাঁর উল্লেখযোগ্য উপস্থিতিগুলোর একটি।
তবে তাঁর পেশাগত জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন আসে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ড. খলিলুর রহমানের কার্যালয়ে আইন কর্মকর্তা বা লিগ্যাল অফিসার হিসেবে নিয়োগ পান ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির নির্বাহী দপ্তরে আইনবিষয়ক দায়িত্ব পালনের সুযোগ তাঁর পেশাগত জীবনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। আন্তর্জাতিক পরিসরে এ ধরনের দায়িত্ব তাঁর আইন ও নীতিবিষয়ক অভিজ্ঞতা আরও সমৃদ্ধ করার সুযোগ তৈরি করেছে।
আইন পেশার পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়ন ও মানবিক কর্মকাণ্ডের প্রতিও আগ্রহ রয়েছে জাইমা রহমানের। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা নিয়ে কাজ করা সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা ‘সুরভী’র পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন তিনি বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সুশাসন, ন্যায়বিচার, শিক্ষার প্রসার, নারীর ক্ষমতায়ন, লিঙ্গসমতা, ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার মতো বিষয়গুলোও তাঁর আগ্রহের ক্ষেত্র।
দীর্ঘ প্রবাসজীবন শেষে ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর বাবা-মায়ের সঙ্গে দেশে ফেরেন জাইমা রহমান। বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিত একটি পরিবারের সদস্য হওয়ায় তাঁর ব্যক্তিগত ও পেশাগত কর্মকাণ্ডও বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমের আলোচনায় এসেছে।
তবে পারিবারিক পরিচয়ের বাইরেও একজন আইনজীবী হিসেবে তাঁর শিক্ষা, অভিজ্ঞতা ও আন্তর্জাতিক দায়িত্ব বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
আজ জন্মদিনে জীবনের আরও একটি অধ্যায়ে পা রাখলেন ব্যারিস্টার জাইমা জারনাজ রহমান। সামনে অপেক্ষা করছে নতুন সম্ভাবনা, নতুন অভিজ্ঞতা এবং বৃহত্তর পরিসরে কাজ করার সুযোগ।
জন্মদিনে শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রত্যাশা, নিজের মেধা, যোগ্যতা ও মানবিক মূল্যবোধকে কাজে লাগিয়ে আগামী দিনে আইন, সমাজ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও অর্থবহ ভূমিকা রাখবেন ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।