মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
মুন্সীগঞ্জের তিন উপজেলায় একই দিনে পৃথক তিনটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত ছয়টি টিনের ঘর ও ঘরের আসবাবপত্র পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে শ্রীনগর, সিরাজদিখান ও টঙ্গিবাড়ী উপজেলায় এসব ঘটনা ঘটে। আগুন নেভাতে গিয়ে সিরাজদিখানে আহাদ হাওলাদার (২০) নামে এক যুবক আহত হয়েছেন। তবে ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত পদক্ষেপে আগুন আশপাশের ঘরবাড়িতে ছড়িয়ে পড়েনি।
মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম পিএফএম এসব তথ্য জানান।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে শ্রীনগর উপজেলার বাঘড়া ইউনিয়নের রুদ্রপাড়া এলাকার জোর মসজিদসংলগ্ন সালমা বেগমের টিনের বসতঘরে আগুন লাগে। খবর পেয়ে শ্রীনগর ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। টিন ও কাঠের তৈরি ঘর হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লেও ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতায় তা একটি ঘরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা সম্ভব হয়। এতে ঘর ও আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি।
এরপর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সিরাজদিখান উপজেলার বাসাইল ইউনিয়নের গুয়াখোলা গ্রামের আলগাপাড়া এলাকায় একটি বসতবাড়িতে আগুন লাগে। খবর পেয়ে সিরাজদিখান ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে। এতে নিয়াশা বেপারী, নাদিম বেপারী ও সোনা মিয়ার তিনটি টিনের ঘর এবং ঘরের আসবাবপত্র পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এ সময় স্থানীয়ভাবে আগুন নেভাতে সহযোগিতা করতে গিয়ে আহাদ হাওলাদারের পা টিনের আঘাতে কেটে যায়। পরে তিনি সিরাজদিখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন। প্রাথমিকভাবে রান্নার সময় লাকড়ির চুলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করছে ফায়ার সার্ভিস।
অন্যদিকে, দুপুর ১টার দিকে টঙ্গিবাড়ী উপজেলার দিঘিরপাড় ইউনিয়নের দক্ষিণ মুলচর গ্রামে বাবুল বেপারীর বাড়িতে আগুন লাগার খবর পায় টঙ্গিবাড়ী ফায়ার স্টেশন। পরে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন সম্পূর্ণ নির্বাপণ করা হয়। এ ঘটনায় দুটি টিনের ঘর, ফ্রিজ, খাট, আলমারি ও অন্যান্য আসবাবপত্র পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক গোলযোগকে আগুনের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি।
মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম পিএফএম বলেন, অগ্নিকাণ্ড এড়াতে বৈদ্যুতিক তার ও সংযোগ নিয়মিত পরীক্ষা করা প্রয়োজন। রান্না শেষে চুলার আগুন সম্পূর্ণ নেভানোর পাশাপাশি বাড়িতে অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।