গাজীপুরের কাপাসিয়ায় গবাদিপশু ও পোষা প্রাণীর বিনা মূল্যে স্বাস্থ্যসেবা, টিকাদান ও ওষুধ বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। গাজীপুর ভেটেরিনারি স্টুডেন্টস’ অ্যাসোসিয়েশনের (জিভিএসএ) উদ্যোগে বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল ১০টায় উপজেলার ডেফুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়।
ক্যাম্পেইনে গবাদিপশু ও পোষা প্রাণীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় টিকা প্রদান, বিনা মূল্যে ওষুধ বিতরণ এবং প্রাণীর রোগব্যাধি ও পরিচর্যা বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়। এ আয়োজনে স্থানীয় খামারি ও প্রাণী পালনকারীরা সেবা গ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন গাজীপুর সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ শাহীন মিয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন কাপাসিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ কে এম আতিউর রহমান এবং কাপাসিয়ার ভেটেরিনারি সার্জন ডা. সুজন হাসান।
এসময় জিভিএসএ-এর সাধারণ সম্পাদক মো. মেহেদী হাসান বলেন, এ ধরনের ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে প্রান্তিক খামারিদের বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের বাস্তব সমস্যাগুলো সরাসরি জানার সুযোগ তৈরি হয়। একই সঙ্গে গাজীপুরের ভেটেরিনারি শিক্ষার্থী ও অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ে। ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে এ ধরনের আয়োজন করার মাধ্যমে বেশি সংখ্যক খামারিকে সেবার আওতায় আনার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
অনুষ্ঠানের সভাপতি ডা. সাফি বিন আমজাদ বলেন, প্রাণিসম্পদ সুরক্ষা এবং প্রান্তিক খামারিদের কাছে আধুনিক চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তরুণ ভেটেরিনারি শিক্ষার্থীদের সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতেও সংগঠনের এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
প্রধান অতিথি ডা. মোহাম্মদ শাহীন মিয়া বলেন, প্রাণিচিকিৎসা বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রান্তিক খামারিদের সচেতন করে তুলতে এ ধরনের ক্যাম্পেইন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি খামারিদের নিবন্ধিত ভেটেরিনারি চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া প্রাণীর শরীরে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার না করার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, অপ্রয়োজনীয় ও অনিয়ন্ত্রিত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ফলে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সের ঝুঁকি বাড়ে। এতে ভবিষ্যতে সাধারণ সংক্রমণের চিকিৎসাও কঠিন হয়ে পড়তে পারে। প্রাণিস্বাস্থ্য ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের জনসচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন আরও বেশি আয়োজনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
আয়োজকেরা জানান, এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে প্রান্তিক খামারিদের কাছে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা ও পরামর্শ পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি প্রাণিস্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো সম্ভব। একই সঙ্গে প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে ভেটেরিনারি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা জোরদার হবে বলে তাঁরা আশা করেন।