২০১৫ সালে গ্রেপ্তারের পর নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্যসচিব রবিউল ইসলাম নয়ন। ওই সময়ের একটি ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিজের কারাবাস ও নির্যাতনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেলে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ছবিটি পোস্ট করে এসব কথা লেখেন যুবদলের এই নেতা।
পোস্টে রবিউল ইসলাম নয়ন দাবি করেন, ২০১৫ সালে আওয়ামী লীগের একতরফা নির্বাচনের পর বিএনপি দেশজুড়ে আন্দোলন গড়ে তোলে। সেই আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার কারণে তিনি গ্রেপ্তার হন। পরে আওয়ামী লীগের তৎকালীন সমর্থক বাহিনীর হাতে নির্যাতনের শিকার হন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নয়নের ভাষ্য, গ্রেপ্তারের পর তাঁর হাত-পায়ে ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে তাঁকে প্রায় বিনা চিকিৎসায় ফেলে রাখা হয় এবং ঠিকমতো ওষুধও দেওয়া হতো না বলে দাবি করেন তিনি।
পোস্টে তিনি আরও অভিযোগ করেন, তৎকালীন সময়ে যারা এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও টকশোতে বক্তব্য দিচ্ছেন, তাঁদের অনেকেই আন্দোলনের সময় রাজপথ থেকে দূরে ছিলেন। তাঁদের কেউ কেউ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা করে চলেছেন বলেও দাবি করেন তিনি। এখন তাঁরাই দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীদের উপদেশ দিচ্ছেন বলে মন্তব্য করেন এই যুবদল নেতা।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে আওয়ামী লীগের বিরোধিতায় সক্রিয় না থাকা কিছু ব্যক্তির সমালোচনা করে নয়ন বলেন, বর্তমানে নিজেদের বিপ্লবী দাবি করা অনেকে তখন আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ অবস্থানে ছিলেন। এখন তাঁরা অন্যদের ‘গুপ্ত’ বলে আখ্যায়িত করে নিজেদের অতীত আড়াল করার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের উদ্দেশে নয়ন লেখেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন আকস্মিক কোনো ঘটনা ছিল না। তাঁর দাবি, বিএনপি ও দলটির নেতাকর্মীদের দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিক পরিণতি ছিল এই পতন।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি দীর্ঘ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পরিবর্তনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছিল। জুলাইয়ের আন্দোলনে সেই সংগ্রামের চূড়ান্ত পরিণতি এসেছে বলে মনে করেন তিনি।