বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম অভিযোগ করেছেন, অতীতে ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসগুলোতে নিপীড়ন ও নির্যাতনের পরিবেশ তৈরি করেছিল এবং বর্তমানে ছাত্রদলও একই ধরনের রাজনীতির পথে হাঁটছে।
শহীদ আবরার ফাহাদের শাহাদাতবার্ষিকী ও নিপীড়নবিরোধী দিবস উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির আয়োজিত ‘ক্ষতচিহ্নের ক্যানভাস: নির্যাতনের ক্যাম্পাস’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও চিত্রপ্রদর্শনীতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে চিত্রপ্রদর্শনী শুরু হয়। এতে বিভিন্ন সময়ে ক্যাম্পাসে সংঘটিত নিপীড়ন, নির্যাতন ও সহিংসতার ঘটনা চিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়। পরে বিকেল ৩টায় একই স্থানে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও ডাকসুর এজিএস মহিউদ্দিন খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংগঠনটির সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি সিরাজুল ইসলাম, ডাকসুর ভিপি মো. আবু সাদিক কায়েম এবং জিএস এস এম ফরহাদ।
নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, গত ১৭ বছরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বহু নিপীড়ন ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। তার দাবি, ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসে ভয় ও সহিংসতার পরিবেশ তৈরি করেছিল। একই সঙ্গে তিনি বর্তমান সরকার ও ছাত্রদলের সমালোচনা করে বলেন, তারা অনেক ক্ষেত্রে অতীতের সেই রাজনীতিরই পুনরাবৃত্তি করছে।
ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি সিরাজুল ইসলাম নিজের বুয়েটে নির্যাতনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, ভিন্নমতকে শত্রুতা হিসেবে না দেখে সমালোচনা গ্রহণের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।
ডাকসুর ভিপি মো. আবু সাদিক কায়েম বলেন, সহিংসতামুক্ত ক্যাম্পাস নিশ্চিত করাই ডাকসুর অন্যতম বড় অর্জন। তিনি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষার ওপর গুরুত্ব দেন।
ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ অভিযোগ করেন, গত ১৫ বছরে ক্যাম্পাসে নির্যাতনের অন্যতম কাঠামো ছিল গণরুম ও গেস্টরুম সংস্কৃতি। তার দাবি, এ সংস্কৃতির শেকড় ছাত্রদলের সময় থেকেই তৈরি হয়েছিল এবং বিভিন্ন ক্যাম্পাসে এখনো একই ধরনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
সমাপনী বক্তব্যে মহিউদ্দিন খান বলেন, নতুন করে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী নির্যাতনের চেষ্টা হলে তা প্রতিরোধ করা হবে। একই সঙ্গে সব ছাত্রসংগঠনকে শিক্ষার্থীদের স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
আলোচনা সভায় বক্তারা শিক্ষাঙ্গনে সহিংসতা, নিপীড়ন ও মানবিক মর্যাদাহানি বন্ধের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দাবি জানান।