ঢাকার মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট, ভাঙচুর ও দখলের চেষ্টার ঘটনায় অভিযোগ ওঠার পর সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন।
পদত্যাগপত্রে ফেরদৌসী আহমেদ উল্লেখ করেন, তিনি সম্পূর্ণ সজ্ঞানে ও স্বেচ্ছায় সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
পদত্যাগপত্রে তিনি লিখেছেন, ‘মাননীয় স্পিকার, আমি ফেরদৌসী আহমেদ, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্য (সংরক্ষিত মহিলা আসন) হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছি। আমি সম্পূর্ণ সজ্ঞানে ও স্বেচ্ছায় জাতীয় সংসদের সদস্য (সংরক্ষিত মহিলা আসন-২৩) পদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। অতএব, বিনীত প্রার্থনা এই যে আমার পদত্যাগপত্রটি গ্রহণ করে পদত্যাগ কার্যকর করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে আপনার সদয় মর্জি হয়।’
পদত্যাগের পর সংসদ সচিবালয় আসনটি শূন্য ঘোষণা করেছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আইন অনুযায়ী শূন্য আসনে ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
এর আগে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠে। এ পরিস্থিতিতে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য পদ থেকে তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, বুধবার রাতে তাকে দ্রুত পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পদত্যাগ না করলে দলীয়ভাবে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছিল বলে সূত্রটি দাবি করে। এর পরদিনই পদত্যাগ করেন মিষ্টি।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকারের দপ্তরে যান ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। প্রায় পাঁচ মিনিট পর, ১টা ৪৫ মিনিটে তিনি সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন।
এ সময় অপেক্ষমাণ সাংবাদিকরা তাকে পদত্যাগের বিষয়ে প্রশ্ন করেন। জবাবে তিনি বলেন, ‘স্পিকার ডেকেছেন। স্পিকারের সঙ্গে কথা বলতে আসছি।’
স্পিকারের সঙ্গে দেখা করে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মিষ্টি বলেন, ‘তদন্ত হোক। তদন্তে যা হবে, সেটাই হবে। আমাকে স্পিকার ডেকেছেন, আমি স্পিকারের সঙ্গে কথা বলতে আসছি।’
পরে আবারও পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিএনপির সিদ্ধান্ত যেটা হবে, সেটাই হবে।’ এরপর আর কোনো প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে সংসদ ভবন ত্যাগ করেন তিনি।
বিকেলে সংসদ ভবনে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম জানান, ফেরদৌসী আহমেদ তার দপ্তরে এসে লিখিতভাবে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।
স্পিকার বলেন, সংবিধান অনুযায়ী পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তার সংসদীয় আসনটি শূন্য হয়ে গেছে। বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকেও জানানো হবে এবং ওই দিন থেকেই পদত্যাগ কার্যকর হয়েছে।
এরপর বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ব্রিফিং করেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ। তিনি জানান, ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগে শূন্য হওয়া সংরক্ষিত নারী আসনে ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী উপনির্বাচনের মাধ্যমে শূন্য আসনটি পূরণ করা হবে। এ জন্য শিগগিরই তপশিল ঘোষণা করা হবে। একাধিক প্রার্থী থাকলে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। আর একক প্রার্থী থাকলে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে বিএনপি পেয়েছে ৩৬টি। জামায়াতের জোট পেয়েছে ১৩টি এবং স্বতন্ত্র জোট পেয়েছে একটি আসন। গত ৩০ এপ্রিল সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ করা হয়। পরে ৩ মে তারা শপথ নেন।
গেজেট প্রকাশের প্রায় পাঁচ মাসের মধ্যেই সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করলেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি।