সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

মুন্সীগঞ্জের বীজতলায় শীতের আগাম প্রস্তুতি, চারা বিক্রিতে ৮ কোটি টাকার বাণিজ্য

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি: শীত আসতে এখনো সময় আছে। কিন্তু শীতকালীন সবজির চাষের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে মুন্সীগঞ্জে। মাঠে সবজির চাষ শুরুর আগেই জেলার বিভিন্ন বীজতলায় তৈরি হচ্ছে আগাম সবজির চারা। কৃষকেরা ব্যস্ত বীজ বোনা, চারা পরিচর্যা, পানি দেওয়া ও বিক্রির প্রস্তুতিতে। এই চারার ওপর ভর করেই প্রতি মৌসুমে জমে ওঠে কোটি টাকার বাণিজ্য। বীজতলা প্রস্তুতকারী কৃষকদের […]

মুন্সীগঞ্জের বীজতলায় শীতের আগাম প্রস্তুতি, চারা বিক্রিতে ৮ কোটি টাকার বাণিজ্য

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১:৩৫

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি:

শীত আসতে এখনো সময় আছে। কিন্তু শীতকালীন সবজির চাষের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে মুন্সীগঞ্জে। মাঠে সবজির চাষ শুরুর আগেই জেলার বিভিন্ন বীজতলায় তৈরি হচ্ছে আগাম সবজির চারা। কৃষকেরা ব্যস্ত বীজ বোনা, চারা পরিচর্যা, পানি দেওয়া ও বিক্রির প্রস্তুতিতে।

এই চারার ওপর ভর করেই প্রতি মৌসুমে জমে ওঠে কোটি টাকার বাণিজ্য। বীজতলা প্রস্তুতকারী কৃষকদের হিসাবে, তিন থেকে চার মাসের মৌসুমে প্রায় ৭ থেকে ৮ কোটি টাকার চারা বিক্রি হয়। মুন্সীগঞ্জের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি এসব চারা চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলার কৃষকদের কাছে।

সদর উপজেলার পঞ্চসার, বজ্রযোগিনী ও রামপাল এলাকায় গড়ে উঠেছে ছোট-বড় দেড় শতাধিক চারা উৎপাদনের প্রকল্প। এর সিংহভাগই পঞ্চসার এলাকায়। আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে শুরু হয় চারা উৎপাদন। সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে শুরু হয় বিক্রির ধুম, যা তিন থেকে চার দফায় ডিসেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত চলে।

বীজতলায় ব্যস্ততার দৃশ্য

সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পঞ্চসার ইউনিয়নের ভট্টাচার্যেরবাগ, কেপিবাগ ও সিকদার বাড়ি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ বীজতলা বাঁশের চাটাই দিয়ে ঢাকা। চাটাইয়ের নিচে সারিবদ্ধ বীজতলায় বেড়ে উঠছে টমেটো, বেগুন, বাঁধাকপি, ফুলকপি, ব্রকলি, লাউ, মিষ্টিকুমড়া ও মরিচের চারা।

কোনো বীজতলায় চাটাই সরিয়ে পানি দিচ্ছেন কৃষক। কোথাও চলছে আগাছা পরিষ্কার। আবার কেউ ব্যস্ত নতুন বীজতলা তৈরিতে।

চারাগুলোকে অতিরিক্ত রোদ ও বৃষ্টি থেকে রক্ষা করতে বাঁশের চাটাই ব্যবহার করা হয়। সকালে ও বিকেলে চাটাই সরিয়ে চারায় রোদ লাগানো হয়। আর দুপুর ও বৃষ্টির সময় বীজতলা ঢেকে রাখা হয়।

৫০ শতকে ৫০ বীজতলা

সিকদার বাড়ি এলাকার চারা চাষি আতিক হাসান বলেন, তাঁদের ৫০ শতক জমিতে প্রায় ৫০টি বীজতলা রয়েছে। এক মৌসুমে প্রতিটি বীজতলায় তিন দফায় চারা উৎপাদন করা হয়। প্রতিটি বীজতলার এক দফার চারা কমপক্ষে ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়।

তাঁর হিসাবে, সব মিলিয়ে প্রতি মৌসুমে তাঁদের বীজতলা থেকে ৪০ থেকে ৪৫ লাখ টাকার চারা বিক্রি হয়।

আতিক হাসান বলেন, চারা উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত কৃষকেরা মোটামুটি একই ধরনের দামে চারা বিক্রি করেন। তবে ভালো জাতের ও মানসম্মত চারার চাহিদা বেশি থাকায় বিক্রিও ভালো হয়।

জেলার সীমানা ছাড়িয়েছে চাহিদা

মুন্সীগঞ্জের চারা এখন জেলার বাইরেও পরিচিত। স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পর এসব চারা যাচ্ছে সাভার, মানিকগঞ্জ, কেরানীগঞ্জ, রংপুর, সিলেট, হবিগঞ্জ, কুমিল্লা ও চাঁদপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়।

চারা ব্যবসায়ী লিটন শিকদার বলেন, মুন্সীগঞ্জের বীজতলায় উন্নত জাতের বীজ ব্যবহার করা হয়। এক কেজি বীজের দাম এক লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত। এসব বীজ থেকে উৎপাদিত চারা দিয়ে কৃষকেরা কাঙ্ক্ষিত ফলন পান। এ কারণেই বিভিন্ন জেলায় মুন্সীগঞ্জের চারার চাহিদা রয়েছে।

তবে প্রতিবছর লাভের পরিমাণ এক থাকে না। লিটন শিকদার বলেন, প্রতি মৌসুমে ৭ থেকে ৮ কোটি টাকার চারা বিক্রি হয়। কোনো বছর খরচ বাদ দিয়ে ভালো লাভ হয়, আবার কোনো বছর লাভ কমে যায়। তারপরও বংশপরম্পরায় তাঁরা এ ব্যবসা ধরে রেখেছেন।

স্বাধীনতার আগে শুরু

চারা উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত অন্তত ১০ জন কৃষক ও কৃষিশ্রমিকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্বাধীনতার আগে থেকেই মুন্সীগঞ্জে শীতকালীন সবজির চারা উৎপাদন ও বিক্রি হয়ে আসছে।

তখন অল্প পরিমাণে চারা উৎপাদন করা হতো। জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও আশপাশের দু-একটি জেলায় এসব চারা বিক্রি করা হতো। প্রায় দুই যুগ ধরে ধীরে ধীরে এ ব্যবসার প্রসার ঘটে।

কৃষকেরা খৈল, জৈবসার ও পরিমিত রাসায়নিক সার ব্যবহার করে উন্নত জাতের চারা উৎপাদন শুরু করেন। একপর্যায়ে মুন্সীগঞ্জের চারার সুনাম ছড়িয়ে পড়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায়।

চারার আয়েই চলে সংসার

কেপিবাগ এলাকার কৃষক স্বপন দেওয়ান বলেন, সবজি উৎপাদনের চেয়ে চারা উৎপাদন তাঁদের কাছে বেশি লাভজনক। প্রতিবছর তিন-চার মাস ব্যাপকভাবে শীতকালীন সবজির চারা উৎপাদন করেন তাঁরা। এই সময়ের আয় দিয়েই সারা বছর ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা ও সংসারের খরচ চালানো সম্ভব হয়।

তবে এই আয়ের সঙ্গে ঝুঁকিও কম নয়। স্বপন দেওয়ান (৫০) বলেন, গত বছর বৃষ্টির কারণে তাঁদের চারার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল। বৃষ্টির কারণে বিক্রিও কমে যায়। ফলে তেমন লাভ হয়নি।

তিনি বলেন, এবারও মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টি হচ্ছে। কয়েক দিনের মধ্যে চারা বিক্রির ধুম শুরু হওয়ার কথা। বৃষ্টি বেশি হলে কৃষকেরা জমিতে সবজি আবাদে দেরি করবেন। তখন বিক্রির উপযোগী অনেক চারা ফেলে দেওয়া ছাড়া উপায় থাকবে না। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার ভালো লাভের আশা করছেন তিনি।

২৫-৩০ দিনেই শেষ করতে হয়

শ্রমিক বাবু দেওয়ান বলেন, চারা উৎপাদনের কাজ বেশ কঠিন। প্রতিটি ধাপ খুব সতর্কতার সঙ্গে করতে হয়। অঙ্কুরিত হওয়ার ২৫ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে চারা বিক্রি করতে হয়।

তিনি বলেন, অতিরিক্ত রোদ ও বৃষ্টি চারা সহ্য করতে পারে না। তাই দুপুর ও বৃষ্টির সময় চাটাই দিয়ে বীজতলা ঢেকে রাখতে হয়। আবার সকালে ও বিকেলে রোদ দেওয়ার জন্য চাটাই সরিয়ে রাখা হয়। পানি দেওয়া ও আগাছা পরিষ্কারের সময়ও খুব সতর্ক থাকতে হয়।

বাড়ছে উৎপাদন খরচ

একই এলাকার কৃষক নজরুল ইসলাম (৮০) বলেন, এবার সার ও বীজের দাম আগের চেয়ে বেড়েছে। এখনো চারা বিক্রি শুরু হয়নি। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে ব্যাপক লোকসান গুনতে হবে। এ ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে তাঁরা সরকারের সহযোগিতা চান।

কৃষকদের মতে, চারা উৎপাদনে সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা আবহাওয়া। বিশেষ করে মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টি হলে একদিকে যেমন চারার ক্ষতি হয়, অন্যদিকে বিক্রিও কমে যায়।

বিঘায় আয় ১০ থেকে ১২ লাখ

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. হাবিবুর রহমান বলেন, সদর উপজেলায় চারা উৎপাদন কৃষকদের জন্য অন্যতম লাভজনক খাতে পরিণত হয়েছে।

পঞ্চসার, রামপাল ও বজ্রযোগিনী ইউনিয়নে ২৫ থেকে ৩০ জন কৃষি উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছেন। তাঁরা শুধু শীতকালেই নয়, সারা বছর উন্নত ও মানসম্মত চারা উৎপাদন করছেন। এসব চারার জন্য বিভিন্ন জেলায় প্রতিষ্ঠিত বাজার রয়েছে এবং চাহিদাও ব্যাপক।

তিনি বলেন, কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি বিঘা জমি থেকে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা আয় করছেন চারা চাষিরা। নিয়মিত চারা উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে কৃষি বিভাগ সব সময় সহযোগিতা করছে।

ফলে শীতের সবজি মাঠে ওঠার আগেই মুন্সীগঞ্জের বীজতলাগুলোতে তৈরি হচ্ছে সেই সবজির ভবিষ্যৎ। কৃষকের জমিতে আগাম সবজি উৎপাদনের পেছনে এখন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে জেলার এই চারা উৎপাদনকেন্দ্রগুলো।

সারাদেশ

বিএনপির মিছিলে ছাত্রলীগের হামলা, আহত ১০

পটুয়াখালীর বাউফলে বিএনপির একটি মোটরসাইকেল মিছিলে হামলা চালিয়েছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও যুবলীগ। এতে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। শনিবার (২৭ জুন) রাত পৌনে ৯টার দিকে দাশপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন- মধ্য দাশপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন (৪৫), যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ (৩৫), শ্রমিক দলের […]

বিএনপির মিছিলে ছাত্রলীগের হামলা, আহত ১০

বিএনপির মিছিলে ছাত্রলীগের হামলা, আহত ১০

ডেস্ক রিপোর্ট

২৮ জুন ২০২৬, ১০:৩০

পটুয়াখালীর বাউফলে বিএনপির একটি মোটরসাইকেল মিছিলে হামলা চালিয়েছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও যুবলীগ। এতে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। শনিবার (২৭ জুন) রাত পৌনে ৯টার দিকে দাশপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন- মধ্য দাশপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন (৪৫), যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ (৩৫), শ্রমিক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক কাওসার (৪২) এবং ছাত্রদলের সহসভাপতি রাসেল (৩০)। তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

দাশপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিবর মৃধা জানান, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে সন্ধ্যায় পৌর শহরের বাংলাবাজার এলাকা থেকে দাশপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে ৪০-৫০টি মোটরসাইকেল নিয়ে নেতাকর্মীরা মিছিল বের করেন। মিছিলটি নাজিরপুর ইউনিয়নের ডালিমা ও কালাইয়া বন্দর বেইলী ব্রিজ হয়ে দাশপাড়া বাসস্ট্যান্ডের কাছে পৌঁছালে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

উপজেলা যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম খোকন অভিযোগ করে বলেন, রিয়াজ, হেলাল রাড়ী, সালাম, রাব্বি, রাসেল ও হেলালের নেতৃত্বে ২০-২৫ জন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মোটরসাইকেলের বহরে এই হামলা চালায়। হামলাকারীরা কালাইয়া ও দাশপাড়া ইউনিয়নের নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মী এবং সমর্থক। হামলায় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের ১০ নেতাকর্মী আহত হয় এবং ২০-২৫টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। ঘটনা জানার পর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক তসলিম তালুকদার আহত নেতাকর্মীদের দেখতে বাউফল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান।

বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সিরাজুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

সারাদেশ

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা […]

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৫ জুলাই ২০২৬, ২১:২০

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা খাইয়ো না। তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না। একপর্যায়ে তিনি শিক্ষার্থীদের পা ধরে শান্ত থাকার অনুরোধ জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মানববন্ধনের সময় শিক্ষার্থীরা বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় মোহাম্মদ মহসিন আন্দোলন থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটা আমার বদলির অংশ। আমি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেবো না। এরপর তিনি আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা আমাদের শিক্ষকদের কোনো ক্ষতি হতে দেব না। স্যার সরকারি চাকরিজীবী। চাকরি নিয়ে শঙ্কা থেকেই তিনি আমাদের সামনে কান্না করেছেন। সামান্য বৃষ্টির পানিকে ইস্যু করে একসঙ্গে সাতজন শিক্ষককে বদলি করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, এই মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে যদি শিক্ষকদের ওপর কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হয়, তাহলে আন্দোলন শুধু মহিলা কলেজে সীমাবদ্ধ থাকবে না, প্রয়োজন হলে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বৃষ্টির পানি কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ সাতজন শিক্ষককে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীরা ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন এবং বদলির আদেশ পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে আসছেন।

সারাদেশ

শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধা, চাঁদা দাবির অভিযোগ

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধার ঘটনা ঘটেছে। পড়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবার। ঘটনাটি ঘটেছে শাহজাদপুর পৌর শহরের বাড়াবিল শিমুলপাড়া মহল্লার প্রবাসী মোঃ তারেক রহমানের বাড়িতে। তারেক রহমান ওই গ্রামের মোঃ দেরাজ প্রামানিকের ছেলে। অভিযুক্তরা তাদের প্রতিবেশী আনসার প্রামাণিক ও তার তিন ছেলে রোশনাই, আল মাহমুদ ও […]

শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধা, চাঁদা দাবির অভিযোগ

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৯ জুলাই ২০২৬, ২২:০৮

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধার ঘটনা ঘটেছে। পড়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবার।

ঘটনাটি ঘটেছে শাহজাদপুর পৌর শহরের বাড়াবিল শিমুলপাড়া মহল্লার প্রবাসী মোঃ তারেক রহমানের বাড়িতে। তারেক রহমান ওই গ্রামের মোঃ দেরাজ প্রামানিকের ছেলে। অভিযুক্তরা তাদের প্রতিবেশী আনসার প্রামাণিক ও তার তিন ছেলে রোশনাই, আল মাহমুদ ও আলম।

আজ বুধবার দুপুরে সরেজমিনে ভুক্তভোগী প্রবাসী তারেক রহমানের বাড়িতে গেলে তারা অভিযোগ করে বলেন। বাড়ির কাজ করার জন্য ইট ও রড নিয়ে আসার সময় অভিযুক্তরা বাঁধা দেয়। এসময় তারা আমাদের জায়গা দিয়ে বাড়ির পেছনে অবস্থিত জলাশয়ে যাওয়ার রাস্তা দাবি করেন।

পরে এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে বাড়ীর পূর্ব পাশের দেয়াল ভেঙে তাদের রাস্তা দেওয়া হয়। আজ তাদের বাড়ির সামনে দিয়ে শ্রমিকরা আসার সময় তারা বাধা দেয় ও গালাগালি করলে শ্রমিকরা ফিরে যায়। পরে আমরা বিষয়টি জানতে গেলে আমাদের সাথেও দুর্ব্যবহার করে এবং অসুস্থ দেরাজ প্রামানিককে ধাক্কা দেয়।

এসময় তারা আরো বলেন, আনসার প্রামাণিক ও তার ছেলেরা এখন বাড়ির মাঝ দিয়ে রাস্তা চায়। নাহলে তারা আমাদের বাঁড়ি করতে দিবে না। এছাড়া লোক মারফত আমাদের কাছে ১ লাখ টাকা দাবি করেছে, টাকা দিলে আর বাধা দিবে না।

এই ঘটনায় আনসার প্রামাণিক ও তার ছেলে আল মাহমুদ ও রোশনাই বলেন, আমাদের জায়গা দিয়ে রাস্তা হয়েছে তাদের বাড়ি দিয়েও রাস্তা দেয়ার কথা ছিল এবং সেই মোতাবেক খুঁটি লাগানো ছিল। এখন বাড়ির মাঝখান দিয়ে রাস্তা না দিলে আমরা যেতে দেবো না।