২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর গঠিত সরকারের ছয় মাস পার হয়েছে। ১৮০ দিনের পরিকল্পনা, অর্থনীতি ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ, বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকট এবং প্রশাসনে সুশাসন—এই সময়ে সরকারের অর্জন কতটা, আর কোথায় ঘাটতি রয়ে গেছে?
এসব বিষয় নিয়েই দৈনিক সকালের টকশো ‘সকালের সমীকরণ’-এ কথা বলেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভাইস চেয়ারম্যান ড. আসাদুজ্জামান রিপন।
তার মতে, দীর্ঘ সময় পর জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার পাওয়া একটি বড় অর্জন। তবে ছয় মাসে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয় বলেও মনে করেন তিনি। একই সঙ্গে সরকারের কোথায় আরও কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন, সে বিষয়েও নিজের মূল্যায়ন তুলে ধরেছেন বিএনপির এই নেতা।
সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সোনিয়া হক।
সম্পূর্ণ আলোচনা দেখতে ছবির ওপরে ক্লিক করুন

জনগণের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা ছিল একটি নির্বাচিত সরকার পাওয়া। দীর্ঘ সময় পর জনগণ নিজের ভোটে একটি সরকার বেছে নিতে পেরেছে। আমার কাছে এটিই সবচেয়ে বড় অর্জন। গণতন্ত্র নতুন করে যাত্রা শুরু করেছে। জনগণ তাদের পছন্দের প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ পেয়েছে।
নির্বাচিত সরকারই সবচেয়ে বড় অর্জন
দৈনিক সকাল: সরকারের বয়স ছয় মাস পার হয়েছে। ১৮০ দিন পর সরকারের কার্যক্রম মূল্যায়নের কথাও বলা হয়েছিল। এই সময়ে জনগণের প্রত্যাশার কতটুকু প্রাপ্তি ঘটেছে বলে মনে করেন?
ড. আসাদুজ্জামান রিপন: প্রথমে বলব, জনগণের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা হচ্ছে—তারা একটি নির্বাচিত সরকার পেয়েছে। দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর পর জনগণ নিজের ভোটে একটি নির্বাচিত সরকার পেয়েছে। আমার কাছে এটিই সবচেয়ে বড় অর্জন।
গণতন্ত্রের পথে নতুন করে যাত্রা শুরু হয়েছে। জনগণ তার ইচ্ছা অনুযায়ী সরকার বেছে নিতে পেরেছে, পছন্দের প্রধানমন্ত্রী পেয়েছে, সংসদ পেয়েছে। এর জন্য আমাদের অনেক মানুষ জীবন দিয়েছেন।
কেউ প্রশ্ন করতে পারেন, শুধুই কি একটি জাতীয় সংসদ বা একটি সরকারের জন্য মানুষ জীবন দিয়েছে? আমি বলব, ভোটের অধিকারের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একটি সত্যিকারের নির্বাচিত সরকার জনগণের সরকার হয়। নির্বাচিত সরকারকে ভাবতে হয়, পরবর্তী মেয়াদে আবার তাকে ভোটে জিততে হবে।
যখন পরবর্তী নির্বাচনে জেতার চিন্তা মাথায় থাকবে, তখন সরকারকে গণমুখী কাজ করতে হবে। জনগণের ‘পালস’ বুঝতে হবে। তাদের সুখ-দুঃখ ও প্রত্যাশার কথা চিন্তা করতে হবে। মানুষ কোন কারণে বিরক্ত হচ্ছে, সেটিও মাথায় রাখতে হবে।
আমার মতে, অতীতে এই জবাবদিহির জায়গাটি ছিল না। এখন সরকার ইচ্ছা করলেই জনগণকে উপেক্ষা করে চলতে পারবে না। জনগণের কাছে জবাবদিহিতার একটি জায়গা তৈরি হয়েছে।
মানুষের প্রয়োজন আর্থিক নিরাপত্তা
দৈনিক সকাল: কিন্তু গণঅভ্যুত্থানের পর মানুষের প্রত্যাশা শুধু একটি নির্বাচনেই সীমাবদ্ধ ছিল না। সাধারণ মানুষ খেয়ে-পরে শান্তিতে থাকতে চায়। দ্রব্যমূল্য, নিত্যপণ্যের দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের জায়গায় সরকার কতটা প্রত্যাশা পূরণ করতে পেরেছে?
ড. আসাদুজ্জামান রিপন: গণতান্ত্রিক সরকারের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, তাকে প্রশ্ন করা যাবে। তাকে বেশি সমালোচনা শুনতে হবে। যে রাষ্ট্রে বা যে সরকারের আমলে প্রশ্ন করা যায় না, প্রশ্ন তোলা যায় না, সেটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা হতে পারে না।
আপনি ঠিকই বলেছেন, গণঅভ্যুত্থানের পর মানুষের আকাঙ্ক্ষা ছোট নয়; বরং অনেক বড়, আকাশচুম্বী।
মানুষ জবাবদিহিমূলক সরকার চায়। একই সঙ্গে সেই সরকারের কাছে জানমালের নিরাপত্তা চায়। সে তার চাকরির নিরাপত্তা চায়। তবে সবাই তো চাকরি করে না। তাই আমি এটিকে ‘ইনকাম সিকিউরিটি’ বা আয়ের নিরাপত্তা বলব। মানুষের আয়ের সংস্থান থাকতে হবে।
জীবনধারণের নিরাপত্তা বলতে শুধু চুরি-ডাকাতি বা সন্ত্রাসীর ভয় থেকে মুক্ত থাকা নয়। আমি যেন বাজারে যেতে পারি, প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে পারি, সন্তানের মুখে খাবার তুলে দিতে পারি—এটাও নিরাপত্তা। অর্থাৎ মানুষ আর্থিক নিরাপত্তা চায়।
আমাদের সংবিধানে অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার কথা বলা হয়েছে। শিক্ষা, চিকিৎসা ও ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার মানুষের রয়েছে।
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, ৫৫ বছরের বাংলাদেশে আমরা কি প্রত্যেক নাগরিককে ক্ষুধামুক্ত করতে পেরেছি? শিক্ষার ক্ষেত্রেও দেখবেন, প্রচুর শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে। কেউ তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণির পর আর পড়ছে না, কেউ অষ্টম শ্রেণির পর যাচ্ছে না, কেউ মাধ্যমিকের পর উচ্চমাধ্যমিকে যেতে পারছে না।
সবাইকে মাস্টার্স করতে হবে, এমন নয়। উন্নত দেশেও সবাই উচ্চশিক্ষার সর্বোচ্চ পর্যায়ে যায় না। কিন্তু আমাদের দেশে অনেকের শিক্ষাজীবন থেমে যাওয়ার পেছনে বড় কারণ আর্থিক সংকট।
দৈনিক সকাল: অর্থাৎ শিক্ষার ক্ষেত্রেও আপনি আর্থিক নিরাপত্তার প্রশ্নটিকেই সামনে আনছেন?
ড. আসাদুজ্জামান রিপন: অবশ্যই। একজন বাবা-মা তার সন্তানকে স্কুলে পাঠাবেন। কিন্তু স্কুলে পাঠানোর আগে তো তাকে পেট ভরে খাওয়াতে হবে। সেই বাবা-মায়ের আর্থিক সংগতি থাকতে হবে।
আমাদের দেশের অনেক দরিদ্র পরিবারের সন্তান, বিশেষ করে গৃহকর্মে যুক্ত মানুষের সন্তানদের দেখবেন অল্প বয়সেই কাজে লেগে যাচ্ছে। এটাকেই আমরা শিশুশ্রম বলি।
যে শিশুর স্কুলে থাকার কথা, পাঠ্যবইয়ে মনোযোগ দেওয়ার কথা, খেলার মাঠে থাকার কথা—তাকে আপনি হয়তো রাস্তায় ফুল বা অন্য কিছু বিক্রি করতে দেখছেন। কারণ তার বাবা-মা তাকে বাড়তি আয়ের জন্য কাজে পাঠাচ্ছেন।
এর মূলেও আর্থিক নিরাপত্তার প্রশ্ন রয়েছে। আমরা এখনো সবার জন্য সেই আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারিনি।
তবে আমাদের সরকার মাত্র ছয়-সাত মাস হলো দায়িত্ব নিয়েছে। রাতারাতি সবকিছু পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।
দেশের প্রকৃত অবস্থা জানানো উচিত ছিল
দৈনিক সকাল: এই ছয় মাসে এমন কী ছিল, যা সরকার করতে পারত কিন্তু করেনি?
ড. আসাদুজ্জামান রিপন: আমি বারবার বলেছি, একটি কাজ সরকার করতে পারত। দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশের প্রকৃত অবস্থা জনগণের সামনে তুলে ধরতে পারত।
আমার মূল্যায়ন হচ্ছে, বিগত সময়ে দেশে শুধু কর্তৃত্ববাদী ব্যবস্থাই ছিল না, একই সঙ্গে ব্যাপক লুটপাটও হয়েছে। আমি ফ্যাসিজম ও লুটপাটকে আলাদা করে দেখি। একটি সরকার ফ্যাসিস্ট হতে পারে, কিন্তু সে অবশ্যই লুটেরা হবে—এমন নয়।
উদাহরণ হিসেবে হিটলারের কথা বলা যায়। হিটলার ফ্যাসিস্ট ছিলেন, কিন্তু জার্মান জনগণের সম্পদ লুট করে নিজের পরিবারের জন্য ব্রিটেন বা ফ্রান্সে পাঠিয়ে রেখেছিলেন—এমন নয়। মুসোলিনির ক্ষেত্রেও একই ধরনের আলোচনা করা যায়।
কিন্তু বাংলাদেশে বিগত সরকারের ক্ষেত্রে আমার অভিযোগ হচ্ছে, কর্তৃত্ববাদের পাশাপাশি রাষ্ট্রের সম্পদ লুট এবং বিদেশে অর্থ পাচারের ঘটনাও ঘটেছে।
আপনি দেখছেন, আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী-নেতাদের অনেকে এখন লন্ডন, ইউরোপ বা অন্য জায়গায় বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন। আমার বক্তব্য হচ্ছে, জনগণ ও দেশের অর্থ লুট করে বিদেশে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
ভারতেও আওয়ামী লীগের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অবস্থান করছেন বলে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হয়েছে। সেখানে তারা কীভাবে জীবনযাপন করছেন—এই প্রশ্নও আসে।
ব্যাংকগুলোর অবস্থাও দেখুন। আমার বক্তব্য হচ্ছে, ব্যাংকের ভল্ট পর্যন্ত খালি করে ফেলা হয়েছে। একটি ব্যক্তি বা একটি গ্রুপের হাতে সাতটি ব্যাংকের মালিকানা যাওয়ার মতো ঘটনাও বাংলাদেশে ঘটেছে।
দৈনিক সকাল: তাহলে দায়িত্ব নেওয়ার পর সরকারের কী করা উচিত ছিল?
ড. আসাদুজ্জামান রিপন: সরকারের উচিত ছিল দায়িত্ব নেওয়ার কিছুদিন পরই একটি শ্বেতপত্রের মতো কিছু প্রকাশ করা।
দায়িত্ব নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই যদি সব তথ্য না থাকে, এক মাস পরে না পারলে তিন মাস পরে করত। তিন মাসেও না পারলে ছয় মাস পরে করত।
এখন ছয় মাস পার হয়েছে। সরকার তো বুঝেছে কোথায় কী নেই, কোন খাতে কী সমস্যা। এলএনজি সময়মতো কেনা যাচ্ছে কি না, আমদানি কমে যাচ্ছে কেন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান কেন আমদানি করতে পারছে না, ডলারের ঘাটতি কোথায়, ঋণখেলাপির পরিস্থিতি কী—এসব এখন সরকারের জানা থাকার কথা।
সরকার জনগণকে বলতে পারত, ‘আমরা একটি ভগ্নস্তূপের মধ্যে দায়িত্ব গ্রহণ করেছি।’
‘সাড়ে সাত কোটির জন্য আট কোটি কম্বল’
দৈনিক সকাল: আপনি ঐতিহাসিক একটি উদাহরণও দিতে চাচ্ছিলেন।
ড. আসাদুজ্জামান রিপন: হ্যাঁ। ১৯৭২ সালে শেখ মুজিবুর রহমান দেশে ফিরে অকপটে বলেছিলেন, পাকিস্তানি বাহিনী দেশকে লুট করে একটি ভগ্নস্তূপ রেখে গেছে। তিনি জনগণের কাছে সময় চেয়েছিলেন। মানুষও সেটি গ্রহণ করেছিল।
আমার কিশোর বয়সে এসব কথা শুনেছি। মানুষ বাস্তব পরিস্থিতি বুঝেছিল।
কিন্তু মানুষ কখন বিরক্ত হয়? যখন দেখে সুশাসন নেই।
শেখ মুজিবুর রহমানের একটি বহুল আলোচিত বক্তব্য আছে। তিনি বলেছিলেন, ‘সাড়ে সাত কোটি মানুষের জন্য আট কোটি কম্বল আসলো, আমার কম্বল গেল কোথায়?’
সাড়ে সাত কোটি মানুষের জন্য আট কোটি কম্বল এলে হিসাব অনুযায়ী প্রত্যেকের অন্তত একটি করে কম্বল পাওয়ার কথা। একটি পরিবারে সাতজন থাকলে সাতটি কম্বল পাওয়ার কথা।
একজন প্রধানমন্ত্রী যখন নিজেই প্রশ্ন করেন, ‘আমার কম্বল গেল কোথায়?’ তখন বোঝা যায়, ব্যবস্থাপনার মধ্যে সমস্যা ছিল, সুশাসনের ঘাটতি ছিল।
একইভাবে তিনি আক্ষেপ করে বলেছিলেন, তার ডানে চোর, বামে চোর, সামনে চোর, পেছনে চোর। আবার ‘চোরের খনি’ পাওয়ার কথাও বলেছিলেন।
আমি এই উদাহরণগুলো দিচ্ছি এ কারণে যে, দেশের প্রকৃত পরিস্থিতি জনগণের কাছে বলা যায়। বর্তমান বিএনপি সরকারেরও উচিত ছয় মাস পরে দাঁড়িয়ে বলা—আমরা বাংলাদেশকে কোন অবস্থায় পেয়েছি, কোথায় কতটা সমস্যা ছিল এবং আমরা কী করছি।
এক টাকার জিনিস দশ টাকায় কিনে সেই প্রকল্পের জন্য ঋণ নেওয়া হয়েছে। এখন সেই ঋণের কিস্তি বর্তমান সরকারকে দিতে হচ্ছে। আমি এটাকে বলি, ‘চুরির টাকার কিস্তি শোধ করা।’
দৈনিক সকাল: আগের সময়ের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের দায় বর্তমান সরকারকে বহন করতে হচ্ছে—এমনটাই কি বলতে চাইছেন?
ড. আসাদুজ্জামান রিপন: অবশ্যই। ধরুন, এক টাকার জিনিস দশ টাকায় কেনা হয়েছে এবং সেই প্রকল্পের জন্য ঋণ নেওয়া হয়েছে। এখন সেই ঋণের কিস্তি তো বর্তমান সরকারকেই দিতে হচ্ছে।
আমি এটাকে বলি, ‘চুরির টাকার কিস্তি শোধ করা।’
আগের সময়ে যদি অতিরিক্ত মূল্যে কোনো কিছু কেনা হয়ে থাকে, সেই ঋণের কিস্তি বর্তমান সরকারকে শোধ করতে হচ্ছে। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন, এলএনজি আমদানি বা অন্য প্রয়োজনীয় খাতে অর্থ ব্যয় করার সক্ষমতার ওপরও চাপ পড়ে।
এই বাস্তবতা জনগণের সামনে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা দরকার।
সরকার বলতে পারে, ‘এই পরিস্থিতি আমরা পেয়েছি। আমরা জানি, আপনাদের আমাদের কাছে অনেক প্রত্যাশা আছে। আমরা আপনাদের সুশাসন দিতে চাই, তবে আমাদের কিছুটা সময় প্রয়োজন।’
আইনশৃঙ্খলা ও পুলিশের কার্যকারিতা
দৈনিক সকাল: সুশাসনের কথায় আসি। ছিনতাই, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও দখলদারত্ব বন্ধের ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ে সরকারের উদ্যোগ কতটা দেখছেন? সম্প্রতি সংসদ ভবন এলাকাতেও ছিনতাইয়ের শিকার হয়ে এক নারীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা তো সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকার কথা।
ড. আসাদুজ্জামান রিপন: স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে অবশ্যই তাই। একটি সরকারের কাছে আপনি প্রত্যাশা করবেন, পুলিশ তার নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
পুলিশ সরকারের নিয়ন্ত্রণে আছে। কিন্তু কাজ করার জন্য আপনার কার্যকর ‘টুল’ বা যন্ত্র প্রয়োজন। যে যন্ত্র দিয়ে কাজ করবেন, সেটি যদি ভোঁতা হয়ে যায়, তাহলে সেটি দিয়ে কার্যকরভাবে কাজ করা কঠিন।
আমার মতে, বর্তমান সরকার যে পুলিশ বাহিনী পেয়েছে, প্রতিষ্ঠান হিসেবে সেটি অত্যন্ত ভঙ্গুর অবস্থায় ছিল। দীর্ঘ সময় ধরে বিগত সরকার পুলিশকে এত বেশি রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করেছে যে প্রতিষ্ঠানটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আমার অভিযোগ হচ্ছে, পুলিশকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে রাখার পরিবর্তে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে। গুম, হয়রানি, মাদক মামলার ভয় দেখানো এবং অর্থ আদায়ের মতো গুরুতর অভিযোগও অতীতে পুলিশের বিরুদ্ধে উঠেছে।
পোশাক পরে এ ধরনের কাজ করা হলে সেটি তো একধরনের ডাকাতির মতোই।
দৈনিক সকাল: আপনার বক্তব্য হচ্ছে, রাজনৈতিক ব্যবহারের কারণে পুলিশের পেশাদারত্ব নষ্ট হয়েছে?
ড. আসাদুজ্জামান রিপন: আমার মূল্যায়ন সেটিই। বিগত সরকারের সময়ে পুলিশকে নির্বাচনসহ রাজনৈতিক কাজে ব্যবহার করা হয়েছে।
এমন অবস্থাও তৈরি হয়েছিল যে পুলিশের অনেক সদস্য মনে করতেন, তারাই সরকারকে ক্ষমতায় রেখেছেন। আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গেও বিভিন্ন টকশোতে আমার কথা হয়েছে। ব্যক্তিগত আলোচনায় তাদের কেউ কেউ বলতেন, পুলিশ এমপিদের কথাও অনেক সময় শুনত না।
কারণ তাদের মধ্যে এমন একটি মনোভাব তৈরি হয়েছিল—‘তোমাকে তো আমরাই এমপি বানিয়েছি।’
একটি প্রতিষ্ঠানকে যখন এভাবে দীর্ঘ সময় ব্যবহার করা হয়, তখন তার স্বাভাবিক পেশাদার কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এরপর গণঅভ্যুত্থান হয়েছে। সেই সময় পুলিশও জনগণের তোপের মুখে পড়েছে, পুলিশের মধ্যেও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। ফলে গণঅভ্যুত্থান ও গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিস্থিতিতে পুলিশের মধ্যে একধরনের ট্রমা তৈরি হয়েছে।
দৈনিক সকাল: এখন পুলিশের মধ্যে কী ধরনের সমস্যা দেখছেন?
ড. আসাদুজ্জামান রিপন: আমার পর্যবেক্ষণ হচ্ছে, পুলিশ অনেকটাই নিষ্ক্রিয় হয়ে গেছে। তারা সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে—কোনটা করবে, কোনটা করলে আবার সমস্যায় পড়বে, এ ধরনের দ্বিধা রয়েছে।
পোশাক পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু মনস্তাত্ত্বিকভাবে তারা অনেকটা নিচে নেমে গেছে।
এখানে আমি একটি কথা পরিষ্কার করতে চাই। আমি রাজনীতি করি মানুষের জন্য, দেশের জন্য। রাজনীতি আমার পেশা নয়। রাজনীতি করে নিজের পেট চালানো, চুরি-বাটপারি বা দুর্বৃত্তপনা করা আমার উদ্দেশ্য নয়।
এই জায়গা থেকেই বলছি, পুলিশকে আবার কার্যকর অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হবে।
দৈনিক সকাল: পুলিশ সদর দপ্তরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ১ হাজার ২৮৯ জন খুন হয়েছেন, ১১ হাজার ১৬৫ জন নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, ৫১২টি অপহরণ, ৪০৫টি ছিনতাই এবং চুরি-ডাকাতিসহ পুলিশের ওপর ৩৫০টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই পরিস্থিতিকে কীভাবে দেখছেন?
ড. আসাদুজ্জামান রিপন: আমি এটাকে শুধু অস্থিরতা বলব না, আমি বলব ‘ইনার্শিয়া’। অর্থাৎ একধরনের স্থবিরতা।
তাদের মধ্যে সিদ্ধান্তহীনতা আছে, ইতস্তত ভাব আছে—কী করবে, কী করবে না, তা নিয়ে দ্বিধা রয়েছে।
আমি সরকারি কেউ নই। এমপি বা মন্ত্রীও নই। যে দল সরকার পরিচালনা করছে, সেই দলের একটি পদে আছি। ফলে আমার কথা শুনে কেউ ভাবতে পারেন, আমি সরকারকে সমর্থন করার জন্য এসব বলছি।
কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতিটা চিন্তা করতে হবে। গণঅভ্যুত্থানের সময় এবং তার পরবর্তী দেড় বছরে যে পরিস্থিতি ছিল, তার সঙ্গে পুলিশের অবস্থাও বিবেচনা করতে হবে।
শুধু পুলিশ নয়, বেসামরিক প্রশাসনেও একই ধরনের সমস্যা রয়েছে।
আমার কাছে বরং মনে হয়, পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারত। আমাদের দেশের মানুষ সামগ্রিকভাবে ভালো বলেই হয়তো তা হয়নি।
কার্যকর পুলিশ, প্রশাসন ও বিচার বিভাগ প্রয়োজন
দৈনিক সকাল: অপরাধপ্রবণতা এবং আইনশৃঙ্খলার প্রয়োজনীয়তা বোঝাতে আপনি নেপালের বন্যার একটি উদাহরণ দিয়েছিলেন।
ড. আসাদুজ্জামান রিপন: মানুষ চরিত্রগতভাবেই অনেক সময় অপরাধপ্রবণ হয়ে পড়ে। নেপালে এত বড় বন্যা হলো। ব্যাংকও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হলো, ব্যাংকের ভল্ট পর্যন্ত ভেসে গেল।
এমন একটি দুর্যোগে মানুষের প্রথম কাজ হওয়ার কথা নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়া এবং বিপদে থাকা মানুষকে উদ্ধার করা। কিন্তু দেখা গেল, কেউ কেউ ভেসে যাওয়া ব্যাংকের ভল্ট বা অর্থের দিকে ছুটছে।
নিজের জীবন ঝুঁকিতে থাকা সত্ত্বেও কারও মাথায় অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চিন্তা আসতে পারে।
এই কারণেই কার্যকর আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কার্যকর পুলিশ দরকার, কার্যকর বেসামরিক প্রশাসন দরকার এবং বিচার বিভাগও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
দৈনিক সকাল: বিচার বিভাগ নিয়েও আপনার সমালোচনা আছে?
ড. আসাদুজ্জামান রিপন: অবশ্যই। গণঅভ্যুত্থানের পর বিচারকদেরও পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা আমরা দেখেছি। প্রশ্ন হচ্ছে, বিচারককে কেন পালাতে হবে?
বাংলাদেশে কি এই প্রথম অভ্যুত্থান হয়েছে? ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের ঘটনা হয়েছে, ৭ নভেম্বরের ঘটনা হয়েছে, ১৯৯০ সালে গণঅভ্যুত্থান হয়েছে। তখন কি এভাবে বিচারকদের পালিয়ে যেতে হয়েছে?
আমার বক্তব্য হচ্ছে, যখন কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয় এবং এমন কাজ করে, যার জন্য নিজের মধ্যেই ভয় তৈরি হয়, তখন পরিস্থিতি পরিবর্তন হলে স্বাভাবিকভাবে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
আমাদের দেশে তো গানও হয়েছে—‘বিচারপতি তোমার বিচার করবে যারা আজ জেগেছে সেই জনতা।’ অর্থাৎ বিচারব্যবস্থার জবাবদিহির প্রশ্ন এ দেশের মানুষের কাছে নতুন নয়।
দৈনিক সকাল: একই সমস্যা কি বেসামরিক প্রশাসনেও দেখছেন?
ড. আসাদুজ্জামান রিপন: হ্যাঁ। বিগত সরকারের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে যারা প্রশাসনে কাজ করেছেন, তাদের অনেকেই এখন নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন বলে আমার মনে হয়।
অনেকে এখন এমনভাবে চলছেন, যেন কিছুই জানেন না। ফলে প্রশাসনের কাজও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
পুলিশসহ বিভিন্ন সরকারি চাকরিতে বিগত সরকারের সময়ে নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয় যাচাইয়ের অভিযোগ ছিল। কার পরিবার বিএনপি করে, কে ভিন্নমতের—এসব পর্যন্ত দেখা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।
সেই সময়ে নিয়োগ পাওয়া সবাইকে তো এখন একসঙ্গে বাদ দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এখনো ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছেন। তাদের নিয়েই সরকারকে কাজ করতে হচ্ছে।
আমার পর্যবেক্ষণ হচ্ছে, তাদের একটি অংশ সক্রিয়ভাবে কাজ না করে সময় পার করছে।
বিদ্যুৎ-গ্যাস খাতে দুর্নীতি ও কৃত্রিম সংকটের আশঙ্কা
দৈনিক সকাল: বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতে এখনো দুর্নীতি কিংবা কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা হচ্ছে বলে মনে করেন?
ড. আসাদুজ্জামান রিপন: বিদ্যুৎ-গ্যাস খাতে দুর্নীতির অভিযোগ অবশ্যই আছে। কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টাও একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
কারণ এখানে দুই-চার বা দশ-বিশ টাকার ব্যবসা নয়; বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা।
কৃত্রিম সংকট তৈরি করে যদি গ্যাস বা এলএনজি আমদানির খরচ বাড়ানো যায়, তাহলে কেউ কেউ রাতারাতি বিপুল অর্থের মালিক হয়ে যেতে পারে। ফলে স্বার্থান্বেষী বা ধান্দাবাজ মহলের তৎপরতা থাকবে—এটা মাথায় রাখতে হবে।
কিন্তু একই সঙ্গে সরকারকে বুঝতে হবে, তারা এমন একটি ব্যবস্থার মধ্যে দায়িত্ব নিয়েছে, যেখানে কাজ করার জন্য যেসব প্রশাসনিক ‘টুলস’ রয়েছে, তার অধিকাংশই আগের সরকারের রেখে যাওয়া।
সবকিছু একদিনে বাদ দিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। তাদের নিয়েই সরকারকে চলতে হবে। তাই যুদ্ধংদেহী মনোভাব নয়; ধীরস্থির পরিকল্পনার মাধ্যমে নতুন করে এগোতে হবে।
গভর্ন্যান্সের প্রশ্নেও রাতারাতি সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে না। কিন্তু তার মানে এই নয় যে হাল ছেড়ে দিতে হবে।
বিনিয়োগের জন্য চারটি বিষয় জরুরি
দৈনিক সকাল: মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে। মূল্যস্ফীতি, বাসাভাড়া, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও তেলের দাম—সব মিলিয়ে চাপ বাড়ছে। আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফেরানো এবং বিনিয়োগ বাড়াতে সরকারের অগ্রগতি কীভাবে দেখছেন?
ড. আসাদুজ্জামান রিপন: বিনিয়োগের জন্য আমার মতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্যারামিটার আছে।
প্রথমত, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। কারণ আপনি কলকারখানা করবেন, সেখানে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি লাগবেই।
দ্বিতীয়ত, স্থিতিশীলতা দরকার। একটি স্থিতিশীল সরকার ও রাজনৈতিক পরিবেশ থাকতে হবে।
তৃতীয়ত, আইনশৃঙ্খলা শক্তিশালী থাকতে হবে।
চতুর্থত, সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে।
একজন বিনিয়োগকারী একটি ফাইল দিলেন। তিন মাস পর গেলে তাকে বলা হলো—জানি না, কাল আসেন। দুই মাস পরে আবার গেলে বলা হলো—ফাইল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এটা সুশাসন নয়।
বিনিয়োগ আনতে হলে প্রথমে এনার্জি সিকিউরিটি নিশ্চিত করতে হবে।
দৈনিক সকাল: কিন্তু বর্তমানে তো বিদ্যুৎ সংকট ও লোডশেডিং আছে। অনেক কারখানা প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ পাচ্ছে না।
ড. আসাদুজ্জামান রিপন: ঠিক। কিন্তু বিকল্পও চিন্তা করতে হবে।
সরকার শুধু বলবে, আগের সরকার এই অবস্থা করে গেছে—এতেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। জনগণ আগের সরকারের ভূমিকা জানে। কিন্তু এখন জনগণকে উদ্ধার করবে কে?
নেপালে বন্যা হলে সেখানকার সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে মানুষকে উদ্ধার করা, পুনর্বাসন করা এবং পুনর্গঠন করা।
একইভাবে আমাদের দেশে যদি বিপর্যস্ত অর্থনীতি, বিপর্যস্ত আইনশৃঙ্খলা এবং বিপর্যস্ত প্রশাসন থাকে, তাহলে বর্তমান সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানো, পুনর্গঠন করা এবং জনগণকে স্বপ্ন দেখানো।
ছাদকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে ব্যবহারের প্রস্তাব
দৈনিক সকাল: বিদ্যুতের ক্ষেত্রে আপনি সোলার প্যানেল নিয়ে একটি বড় পরিকল্পনার কথা বলছেন। সেটি কী?
ড. আসাদুজ্জামান রিপন: আমি মনে করি, বিদ্যুতের ক্ষেত্রে একটি প্রাগম্যাটিক সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।
সরকার বলতে পারে, প্রতিটি বাড়ির ছাদে সোলার প্যানেল ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
গ্রামে মানুষ যেমন বাড়ির আঙিনায় নিজের প্রয়োজনের জন্য গাছ লাগায়, একইভাবে ছাদকেও বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করা যায়।
দৈনিক সকাল: কিন্তু সোলার প্যানেল ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের দামও তো বাড়ছে।
ড. আসাদুজ্জামান রিপন: আমি সেটাই বলছি। ধরুন, ঢাকা শহরে দশ লাখ বাড়ি আছে। দশ লাখ বাড়ির জন্য সোলার প্যানেল গুলিস্তান বা গুলশানের দোকান থেকে খুচরা কিনলে হবে না।
সরকার যখন নীতিগত সিদ্ধান্ত নেবে, তখন বিপুল পরিমাণে সোলার প্যানেল আমদানি করতে হবে।
পাকিস্তানও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে চীনের সোলার প্যানেলের বড় বাজারে পরিণত হয়েছে।
এখন ধরুন, একটি বাড়িতে সোলার প্যানেল বসাতে দশ লাখ টাকা লাগবে। একজন বাড়ির মালিকের কাছে হয়তো এই মুহূর্তে দশ লাখ টাকা নেই। শুধু সরকার বলে দিল—সোলার লাগান; তাহলে তো তিনি লাগাতে পারবেন না।
এখানেই ব্যাংকের ভূমিকা আসতে পারে।
দৈনিক সকাল: ব্যাংক কীভাবে অর্থায়ন করবে?
ড. আসাদুজ্জামান রিপন: ব্যাংকগুলোর কাছে বিনিয়োগযোগ্য তারল্য আছে, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে বিনিয়োগের জায়গা পাচ্ছে না—এমন তথ্যও আমরা দেখছি।
নতুন কলকারখানায় বিনিয়োগ কম হলে এই অর্থ সোলার প্রকল্পে বিনিয়োগ করা যেতে পারে।
একজন বাড়ির মালিক ব্যাংকে যাবেন। তিনি বাড়ির মালিক—এটি প্রমাণ করবেন। এরপর ব্যাংক নির্দিষ্ট অনুপাতে তাকে অর্থায়ন করবে। সেটা ৫০ শতাংশ, ৭০ শতাংশ বা নীতিমালা অনুযায়ী অন্য কোনো হার হতে পারে।
ব্যাংকের এই ঋণ দিতে দ্বিধা করার কারণ কম। কারণ আল্লাহর দেওয়া সূর্যের আলো পাওয়া যাচ্ছে। প্যানেল বসানোর পর থেকেই বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে।
বাংলাদেশ ইউরোপ বা আমেরিকার মতো কম সূর্যালোকের দেশ নয়। এখানে পর্যাপ্ত সূর্যের আলো রয়েছে।
দৈনিক সকাল: উৎপাদিত বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় কীভাবে যুক্ত হবে?
ড. আসাদুজ্জামান রিপন: প্রতিটি বাড়ির সোলার প্যানেল যদি পরস্পরের সঙ্গে এবং শেষ পর্যন্ত জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত করা যায়, তাহলে বাড়িগুলো বিদ্যুৎ উৎপাদক হয়ে যাবে।
যেমন ইন্টারনেট বা ডিশ লাইনের ক্ষেত্রে বাড়ি থেকে বাড়ি সংযোগ রয়েছে, একইভাবে একটি সমন্বিত ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
ধরুন, একটি বাড়ি আজ ১০০ টাকার বিদ্যুৎ উৎপাদন করল। সেই বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে গেল। বিদ্যুৎ বিভাগ সেই বিদ্যুৎ অন্য কোনো কারখানা বা গ্রাহকের কাছে বিক্রি করল। গ্রাহক বিল দিল।
সেই অর্থের একটি অংশ ব্যাংকের ঋণ পরিশোধে চলে যেতে পারে।
তাহলে ব্যাংকের সামনে একটি বড় বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে, বাড়ির মালিক বিদ্যুৎ উৎপাদন করবেন, জাতীয় গ্রিড বিদ্যুৎ পাবে এবং শিল্পকারখানাও বিদ্যুৎ পাবে।
আমি মনে করি, এটিকে বড় পরিসরে চিন্তা করা সম্ভব।
প্রতিটি বাড়ির সোলার প্যানেল জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত করা গেলে বাড়িগুলো বিদ্যুৎ উৎপাদক হয়ে উঠবে। ব্যাংক বিনিয়োগের সুযোগ পাবে, জাতীয় গ্রিড বিদ্যুৎ পাবে এবং শিল্পকারখানাও উপকৃত হবে।
প্রতিহিংসা ও বিচার এক নয়
দৈনিক সকাল: রাজনৈতিক সহাবস্থান, জবাবদিহিতা এবং বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গড়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে বেরিয়ে আসার বিষয়টি আপনি কীভাবে দেখছেন?
ড. আসাদুজ্জামান রিপন: প্রথমে প্রতিহিংসা ও বিচারের পার্থক্য বুঝতে হবে।
প্রতিহিংসা মানে হচ্ছে—ওরা আমাদের জেলে পাঠিয়েছে, নির্যাতন করেছে, তাই আমরাও তাদের একইভাবে শেষ করে দেব। আমি সেটার কথা বলছি না।
মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা সশস্ত্রভাবে বিরোধিতা করেছে, মানুষ হত্যা করেছে, তাদের কেউ কেউ বিচারের সম্মুখীন হয়েছে। হিটলারের সময়কার অপরাধের বিচারও বহু বছর পরে হয়েছে।
সুতরাং প্রতিহিংসা এক জিনিস, বিচার আরেক জিনিস।
একজন ছিনতাইকারী যদি কাউকে হত্যা করে, নিহত ব্যক্তির পরিবার কি বলবে—আমি প্রতিহিংসা চাই না, তাই বিচারও চাই না? নিশ্চয়ই নয়।
তারা বিচার চাইবে।
প্রতিহিংসা হচ্ছে বিচারবহির্ভূতভাবে কাউকে নিঃশেষ করে দেওয়া। আর ন্যায়বিচার হচ্ছে আইন অনুযায়ী অপরাধের বিচার করা।
দৈনিক সকাল: গণঅভ্যুত্থানের সময় নিহতদের বিচারের ক্ষেত্রেও কি একই কথা বলছেন?
ড. আসাদুজ্জামান রিপন: অবশ্যই। গণঅভ্যুত্থানে ১২৫টি শিশু হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে বলে যে হিসাব এসেছে, সেই শিশুর মা কি বলবেন—আমি বিচার চাই না?
তিনি প্রতিহিংসা নাও চাইতে পারেন, কিন্তু সন্তানের হত্যার বিচার চাইবেন।
আমি একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে, একজন বাবা হিসেবে, একজন ভাই হিসেবে, একজন স্বামী হিসেবে বলছি—প্রতিহিংসা করার প্রয়োজন নেই। কিন্তু ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
যে মা সন্তান হারিয়েছেন, তার সন্তানের হত্যাকারীর বিচার হবে না কেন?
যারা দেশের সম্পদ লুট করে বিদেশে সম্পদ করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিচার হবে না কেন?
একজন সাবেক ভূমিমন্ত্রীর বিদেশে শত শত ফ্ল্যাট থাকার যে খবর প্রকাশিত হয়েছে—সেসব অভিযোগের বিচার হবে না কেন?
এখানে প্রধানমন্ত্রীর ‘প্রতিহিংসা নয়’ বক্তব্যের সঙ্গে বিচারকে গুলিয়ে ফেললে চলবে না। প্রতিহিংসা ও বিচার সমার্থক নয়।
প্রতিহিংসা হচ্ছে অন্যায়ভাবে কারও ওপর জুলুম করা। কিন্তু মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে।
আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ জনগণই নির্ধারণ করবে
দৈনিক সকাল: আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কী?
ড. আসাদুজ্জামান রিপন: আমার বক্তব্য হচ্ছে, কোনো রাজনৈতিক দল ভুল রাজনীতি করলে তাকে শেষ করার জন্য প্রতিশোধ নেওয়ার প্রয়োজন হয় না। জনগণই তার সিদ্ধান্ত দেয়।
উদাহরণ হিসেবে মুসলিম লীগের কথা বলা যায়।
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টিতে মুসলিম লীগ ছিল প্রধান রাজনৈতিক শক্তি। তৎকালীন পূর্ববাংলাও পাকিস্তানের অংশ হয়েছিল। কিন্তু মাত্র সাত বছরের মধ্যে, ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে ভুল রাজনীতির কারণে মুসলিম লীগ প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। এরপর আর আগের অবস্থায় ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি।
অর্থাৎ ভুল রাজনীতি করলে জনগণই একটি দলকে প্রত্যাখ্যান করতে পারে।
আওয়ামী লীগের ক্ষেত্রেও আমার বক্তব্য হচ্ছে, গণঅভ্যুত্থানকে যদি তারা এখনো ষড়যন্ত্র বলে, নিজেদের ভুল স্বীকার না করে, মানুষের মৃত্যুর দায় নিয়ে অনুশোচনা না করে এবং বিগত সময়ের কর্মকাণ্ডের জন্য কোনো ‘রিমোর্স’ বা অনুতাপ না দেখায়, তাহলে তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ জনগণই নির্ধারণ করবে।
মানুষকে হত্যা, গুম এবং বিভিন্ন বাহিনীকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের যেসব অভিযোগ রয়েছে, সেগুলোর বিচার অবশ্যই হতে হবে।
রাষ্ট্রের দরকার যোগ্য মানুষ
দৈনিক সকাল: বৈষম্যের বিরুদ্ধে যে অভ্যুত্থান হলো, সেই বৈষম্য কি এখন সব জায়গায় দূর করা সম্ভব হচ্ছে? বিশেষ করে সরকারি নিয়োগে স্বজনপ্রীতি বন্ধ এবং পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়েছে কি?
ড. আসাদুজ্জামান রিপন: আমি বিষয়টি দুই ভাগে দেখব।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ, পুলিশে নিয়োগ, বিজিবিতে নিয়োগ, সেনাবাহিনীতে নিয়োগ, বিচার বিভাগে নিয়োগ—এগুলো নিয়মিত সরকারি নিয়োগ।
এসব ক্ষেত্রে অবশ্যই দলনিরপেক্ষভাবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রের জন্য কাজ করার মতো দক্ষ ও উপযুক্ত মানুষকে নিয়োগ দিতে হবে।
এখানে দলবাজির কোনো সুযোগ নেই।
সেনাবাহিনীতে একজন সৈনিক বা কর্মকর্তা নিয়োগের সময় তিনি কোন দল করেন, সেটা কেন দেখা হবে? নিয়োগের নির্দিষ্ট যোগ্যতা ও শর্ত আছে। যিনি সেসব শর্ত পূরণ করবেন, তিনিই নিয়োগ পাবেন।
দৈনিক সকাল: কিন্তু বর্তমান সরকারের সময়েও তো রাজনৈতিক নিয়োগ হয়েছে?
ড. আসাদুজ্জামান রিপন: কিছু ‘পলিটিক্যাল অ্যাপয়েন্টমেন্ট’ হয়েছে, এটি ঠিক। বিশেষ করে কিছু করপোরেশন, আধা সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের নিয়োগ হয়েছে।
কিন্তু আপনি দেখবেন, বিএনপির কোনো নেতাকে সচিব বানিয়ে দেওয়া হয়নি। সাবেক ছাত্রদল বা যুবদলের কোনো নেতাকে এনে পুলিশের আইজিপি বানিয়ে দেওয়া হয়নি। বিচারপতি পদেও এভাবে কাউকে বসানো যায় না।
এসব পদে নিয়ম ও যোগ্যতা অনুযায়ী নিয়োগ দিতে হবে।
আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি এবং আমার দলও মনে করে—
রাষ্ট্রের বিএনপির পুলিশ দরকার নেই। বিএনপির বিচারপতি দরকার নেই। বিএনপির সচিব দরকার নেই। রাষ্ট্রের দরকার উপযুক্ত ও যোগ্য মানুষ।
তারা যদি সত্যিকার অর্থে রাষ্ট্রের কাজ করেন, তাহলেই যথেষ্ট।
কর্মসংস্থান ও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি
দৈনিক সকাল: কর্মসংস্থানের বিষয়টিতে আসি। নির্বাচনী ইশতেহারে নতুন কর্মসংস্থান তৈরির আশ্বাস ছিল। দেশের বিপুলসংখ্যক বেকার তরুণ-তরুণী এখন সেই প্রতিশ্রুতির দিকে তাকিয়ে আছেন। বন্ধ রাষ্ট্রীয় শিল্পকারখানা চালু করার মাধ্যমে কর্মসংস্থান তৈরির সুযোগ কতটা?
ড. আসাদুজ্জামান রিপন: সরকার ছয়টি পাটকল বেসরকারিভাবে চালু করার বিষয়ে কাজ করছে। কিন্তু শুধু ছয়টি পাটকল দিয়ে খুব বড়সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান হবে না।
এখানে আরেকটি বাস্তবতা বুঝতে হবে।
বিএনপি যখন নির্বাচনী ইশতেহারে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তখন দলটি সরকারে ছিল না। সেই প্রতিশ্রুতিগুলো একটি নির্দিষ্ট বা ‘আইডিয়াল’ পরিস্থিতিকে সামনে রেখে করা হয়েছিল।
কিন্তু সরকারে আসার পর বাস্তবতা বদলে যেতে পারে।
দৈনিক সকাল: অর্থাৎ আপনি বলছেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির সময়কার বাস্তবতা এবং সরকার পরিচালনার বাস্তবতা এক নাও হতে পারে?
ড. আসাদুজ্জামান রিপন: অবশ্যই। পৃথিবীর বড় বড় শক্তিধর দেশের ক্ষেত্রেও এটা হয়।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানকে নিয়ে যে ধরনের হিসাব করেছিলেন, বাস্তবে পরিস্থিতি তার পরিকল্পনা অনুযায়ী নাও এগোতে পারে। ইসরায়েল-ইরান সংঘাত, ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়া, হরমুজ প্রণালি নিয়ে পরিস্থিতি—এসব নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে।
একজন রাষ্ট্রপ্রধান যখন কোনো সিদ্ধান্ত নেন, তখন হয়তো তিনি একটি নির্দিষ্ট পরিস্থিতি কল্পনা করেন। পরে এমন নতুন চ্যালেঞ্জ সামনে আসে, যা শুরুতে তার হিসাবের মধ্যে ছিল না।
নেপালের ক্ষেত্রেও একই কথা বলা যায়। সেখানে তরুণদের আন্দোলনের পর নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। মানুষ নতুন সরকার নিয়ে নতুন স্বপ্ন দেখেছে। কিন্তু হঠাৎ বড় বন্যা এসে পুরো পরিস্থিতি বদলে দিয়েছে।
হিমালয়ের হিমবাহ ভেঙে পড়া বা বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ আপনি রাতারাতি মেরামত করতে পারবেন না। এটি সরকারের সামনে একটি নতুন ও অপ্রত্যাশিত চ্যালেঞ্জ।
আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির অভিঘাত
দৈনিক সকাল: বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও কি আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে?
ড. আসাদুজ্জামান রিপন: অবশ্যই আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির অভিঘাত রয়েছে।
তারেক রহমান যখন সরকার গঠন করলেন, তখন কি আমরা সবাই ভেবেছিলাম ইরানকে ঘিরে সংঘাতের এমন পাল্টা প্রতিক্রিয়া হবে? পুরো মধ্যপ্রাচ্যে এর অভিঘাত পড়বে? সারা পৃথিবীর জ্বালানি ও পরিবহনব্যবস্থায় চাপ তৈরি হবে?
হরমুজ প্রণালি নিয়ে সংকট তৈরি হলে বিকল্প পথে তেল আনতে হয়। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ে, পরিবহন খরচ বাড়ে।
এগুলো নতুন বাস্তবতা এবং অনেক সময় তিক্ত বাস্তবতা।
এর সঙ্গে আরও ভূরাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ সামনে আসতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতি, অতিরিক্ত শুল্ক, অভিবাসননীতি, বিদেশি শিক্ষার্থীদের বিষয়ে নীতি—এসবও আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে নতুন পরিস্থিতি তৈরি করে।
একটি সরকারের সামনে প্রতিদিনই নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ আসবে।
মানুষকে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখাতে হবে
দৈনিক সকাল: তাহলে একটি দক্ষ সরকারের করণীয় কী?
ড. আসাদুজ্জামান রিপন: একটি দক্ষ সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে প্রতিদিন সামনে আসা নতুন চ্যালেঞ্জ প্রজ্ঞার সঙ্গে মোকাবিলা করা।
পরিস্থিতি কঠিন—এ কথা জনগণকে বলতে হবে। বাস্তবতাও জানাতে হবে। কিন্তু একই সঙ্গে মানুষকে হতাশ হতে দেওয়া যাবে না।
মানুষকে স্বপ্ন দেখাতে হবে। মানুষকে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখাতে হবে।
আমরা হয়তো এমন একটি নতুন তিক্ত বাস্তবতার মধ্যে পড়েছি, যেটা আগে আমাদের হিসাবের মধ্যে ছিল না। কিন্তু সেই বাস্তবতার মধ্যেই সরকারকে পথ বের করতে হবে।
দীর্ঘ আলোচনায় সরকারের ছয় মাসের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির পাশাপাশি অর্থনীতি, আইনশৃঙ্খলা, পুলিশ ও প্রশাসনের কার্যকারিতা, বিনিয়োগ, জ্বালানি নিরাপত্তা, সৌরবিদ্যুৎ, বিচার ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, সরকারি নিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব নিয়ে নিজের মূল্যায়ন তুলে ধরেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ড. আসাদুজ্জামান রিপন।
অনুষ্ঠানের শেষদিকে তিনি বলেন, প্রতিদিন নতুন চ্যালেঞ্জ আসবে এবং একটি দক্ষ সরকারের কাজ হচ্ছে প্রজ্ঞার সঙ্গে সেসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা। একই সঙ্গে জনগণকে হতাশ না করে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখাতে হবে।
অনুষ্ঠান: সকালের সমীকরণ
অতিথি: ড. আসাদুজ্জামান রিপন, ভাইস চেয়ারম্যান, বিএনপি
সঞ্চালনা: সোনিয়া হক
প্রযোজনা: দৈনিক সকাল
