পরিকল্পিত নগর উন্নয়ন, সুষম অবকাঠামো নির্মাণ ও জনদুর্ভোগ নিরসনে সেবা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বিতভাবে কাজ করার কোনো বিকল্প নেই। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরাণ (রহ.)-এর স্মৃতিবিজড়িত পুণ্যভূমি সিলেটে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিউক)।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১২টায় নগরীর নাইওরপুল এলাকার অস্থায়ী কার্যালয়ের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে সিউকের দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু হয়। পরে সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত হয় বর্ণাঢ্য সুধী সমাবেশ।
সিউকের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদীর সভাপতিত্বে এবং গোলাজার আহমদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর, এমপি,
সংসদ সদস্য তাহসিনা রূশদী লুনা (সিলেট-২), এম এ মালিক (সিলেট-৩) ও অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী (সিলেট-৬)।
সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য, শিল্প এবং পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, এমপি বলেন, অতীতে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে আন্তঃসমন্বয়ের অভাবে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় বারবার রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি, গ্যাস ও পানির পাইপলাইন কাটা এবং পুনরায় স্থাপনের মতো ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে নগরবাসীকে। এতে সময় ও অর্থের অপচয় হয়েছে।
তিনি বলেন, এ ধরনের উন্নয়নজনিত জটিলতা বন্ধ করে পরিকল্পিত নকশা ও সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে সিলেটের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করাই হবে সিউকের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ঘোষণা দেন, আগামী শীতের শুরু থেকেই সিলেট বিভাগ ও নগরীর বিভিন্ন মেগা উন্নয়ন প্রকল্পের দৃশ্যমান কাজ শুরু হবে। সিলেট বিভাগের চার জেলার প্রতিটি উপজেলায় গ্রামীণ সড়ক পুনর্নির্মাণ ও আধুনিকায়নে প্রায় ৫ হাজার ৩০০ কোটি টাকার একটি মেগা প্রকল্প সরকারের অনুমোদনের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
এ ছাড়া নগরীর দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা স্থায়ীভাবে নিরসনে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলেও জানান তিনি। শিগগিরই এ প্রকল্পের ভৌত কাজ মাঠপর্যায়ে শুরু হবে।
নগরবাসীর বিনোদন ও বায়ুমানের উন্নয়নে সিলেটের পুরাতন কারাগারের জায়গায় একটি দৃষ্টিনন্দন ও বিশাল পার্ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। পার্কটি নগরের প্রধান ‘ফুসফুস’ হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি পর্যটকদের জন্যও আকর্ষণীয় স্থান হয়ে উঠবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধক গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, এমপি বলেন, সিলেটকে মাস্টার প্ল্যানের আওতায় এনে আধুনিক, পরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধব শহর হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
তিনি বলেন, দ্রুত বর্ধনশীল নগরায়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় টেকসই অবকাঠামো নির্মাণই মূল লক্ষ্য। পাহাড়-টিলা ও জলাশয় রক্ষা, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, যানজট নিরসন এবং অনুমোদিত নকশার বাইরে ভবন নির্মাণ বন্ধে আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে।
জাকারিয়া তাহের আরও বলেন, গত ১৭ বছরে মেগা প্রকল্পের নামে অর্থ পাচার ও অপচয় হলেও টেকসই নগরায়ন নিশ্চিত করা হয়নি। বর্তমানে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ঘোষিত ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিভাগীয় শহরগুলোতে মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন ও উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনের কাজ এগিয়ে চলছে।
এ সময় সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের শামীম, এসএমপি কমিশনার সরোয়ার মুর্শেদ শামীম, জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন, জালালাবাদ গ্যাস লিমিটেডের পরিচালক বদরুজ্জামান সেলিমসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।