চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা ও নগর ব্যবস্থাপনার দুরবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। আগামী বর্ষার আগেই জলাবদ্ধতাসহ নগরের প্রধান সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধানের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, ২০২৭ সালে চট্টগ্রাম ডুবলে হাঁটু বা কোমর পানিতে নেমে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের লোক দেখানো কর্মকাণ্ড আর দেখতে চান না।
সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের স্টেশন রোড এলাকার একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
সারজিস আলম বলেন, বর্ষা এলেই চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিয়ে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের হাঁটু বা কোমর পানিতে নেমে শুটিং করার যে দৃশ্য দেখা যায়, আগামী বছর তা আর দেখতে চান না। বর্ষা শেষ হলে শরৎ, হেমন্ত ও শীতের সঙ্গে সঙ্গে জলাবদ্ধতার বিষয়টি ভুলে গিয়ে পরবর্তী বর্ষায় আবার একই ধরনের লোক দেখানো কর্মকাণ্ড করা হয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘এই নাটক ২০২৭ সালে আমরা আর দেখতে চাই না। চট্টগ্রামের মেয়র, প্রশাসক কিংবা এমপিদের কাছ থেকেও এমন কর্মকাণ্ড প্রত্যাশা করি না।’
চট্টগ্রামকে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক রাজধানী ও অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র উল্লেখ করে সারজিস বলেন, নগরবাসীকে শুধু লোক দেখানোর জন্য সেবা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার মাধ্যমে নাগরিক সমস্যার সমাধান করতে হবে।
চট্টগ্রামের রাস্তাঘাটের দুরবস্থা তুলে ধরে তিনি বলেন, নগরের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা, বিভিন্ন সড়ক ও আবাসিক এলাকার অবস্থা তিনি ঘুরে দেখেছেন। অনেক সড়কের পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে অসুস্থ ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেওয়ার চেয়ে বাড়িতে থাকাই ভালো—এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
নগরের স্বাস্থ্যসেবা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সারজিস আলম। তিনি বলেন, চট্টগ্রামের মতো গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক নগরের বাসিন্দাদের চিকিৎসার জন্য কেন ঢাকায় যেতে হবে, তা বিবেচনা করা প্রয়োজন। চট্টগ্রামবাসীর জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে।
শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সড়ক যোগাযোগ, পয়ঃনিষ্কাশন ও পানি ব্যবস্থাপনাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী বর্ষার আগেই এসব সমস্যার সমাধানে চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে আলাদা মেগা পরিকল্পনা নেওয়া প্রয়োজন।
সারজিস আলম আরও বলেন, চট্টগ্রামকে শুধু বাংলাদেশের নয়, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে হলে লোক দেখানো কর্মকাণ্ড পরিহার করে দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে।
এ সময় নগরের পানি নিষ্কাশন, সড়ক, পয়ঃনিষ্কাশন, পানি ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। একই সঙ্গে আগামী বর্ষার আগেই দৃশ্যমান ও টেকসই পদক্ষেপ নিতে চট্টগ্রামের জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।