সখীপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:
মাত্র ২২ বছরের ইমো। ছয় মাস আগে মা হয়েছেন। কোলে ছয় মাসের শিশুসন্তান নিয়ে যাচ্ছিলেন সখীপুর বাজারের দিকে। পথের মধ্যে সামান্য অসাবধানতা অটোরিকশা থেকে মুখ বাইরে বের করে থুতু ফেলতে যাওয়াই যেন কাল হয়ে দাঁড়াল। বিপরীত দিক থেকে ছুটে আসা অজ্ঞাত একটি যানবাহনের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারালেন এই তরুণী। মায়ের মৃত্যু হলেও অলৌকিকভাবে অক্ষত রয়েছে ছয় মাসের শিশুটি।
আজ বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে টাঙ্গাইলের সখীপুর-গোড়াই সড়কের বোয়ালী বাজারের উত্তর পাশে চামড়া পচা পুকুর এলাকায় মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ইমো উপজেলার রতনপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামের পল্লী চিকিৎসক ইলিম উদ্দিনের মেয়ে। তাঁর কোলে থাকা শিশুসন্তানটি দুর্ঘটনার পরও অক্ষত রয়েছে।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দুপুরে ছয় মাসের শিশুকে সঙ্গে নিয়ে সিএনজিচালিত একটি অটোরিকশায় করে সখীপুর বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন ইমো। চামড়া পচা পুকুর এলাকায় পৌঁছানোর পর তিনি চলন্ত অটোরিকশা থেকে মুখ বাইরে বের করে থুতু ফেলতে যান। ঠিক সেই মুহূর্তে বিপরীত দিক থেকে আসা দ্রুতগতির একটি অজ্ঞাত যানবাহন তাঁর মাথায় সজোরে ধাক্কা দেয়।
ধাক্কায় গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান ইমো। আর মায়ের পাশে থাকা শিশুটি বেঁচে যায় অক্ষত অবস্থায়।
দুর্ঘটনার পর মুহূর্তেই ঘাতক যানটি ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যায়। স্থানীয়দের ধারণা, পাশ দিয়ে যাওয়া অন্য একটি অটোরিকশার ধাক্কাতেই এ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তবে কোন যানবাহনের ধাক্কায় তরুণীর মৃত্যু হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
একটি মুহূর্তের অসাবধানতায় থেমে গেল ইমোর জীবন। স্বামী-সন্তান ও স্বজনদের জন্য রেখে গেলেন শোকের ভার। সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দৃশ্য যে শিশুকে সঙ্গে নিয়ে তিনি পথে বের হয়েছিলেন, সেই শিশুই এখন মাকে হারিয়ে বেঁচে রইল।
খবর পেয়ে সখীপুর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ইমোর মরদেহ উদ্ধার করে।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মুরাদ হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। ঘাতক যানবাহনটি শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।