প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জাপান সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। বুধবার ঢাকায় সফররত জাপানি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণপত্র হস্তান্তর করে।
এদিন ঢাকায় বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে সপ্তম ফরেন অফিস কনসালটেশন (এফওসি) অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্রসচিব রাষ্ট্রদূত আসাদ আলম সিয়াম। জাপানের পক্ষে নেতৃত্ব দেন দেশটির সিনিয়র ডেপুটি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিরোয়ুকি নামাজু।
বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জ্বালানি নিরাপত্তা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ), বিগ-বি উদ্যোগ, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন বিষয়ও আলোচনায় উঠে আসে।
জাপানের সিনিয়র ডেপুটি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিরোয়ুকি নামাজু বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্কের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরিতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন। তিনি জাপানের ‘ফ্রি অ্যান্ড ওপেন ইন্দো-প্যাসিফিক’ (এফওআইপি) ধারণা সম্পর্কে বাংলাদেশকে অবহিত করেন।
এ ছাড়া ইপিএ, বিগ-বি উদ্যোগ এবং অফিসিয়াল সিকিউরিটি অ্যাসিস্ট্যান্স (ওএসএ) কাঠামোর আওতায় বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কাছে সম্প্রতি পাঁচটি টহল জাহাজ হস্তান্তরের বিষয়টিও বৈঠকে স্বাগত জানানো হয়।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম বলেন, গত কয়েক বছরে দুই দেশের সম্পর্ক উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। প্রস্তাবিত ইপিএ বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ আরও বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বিগ-বি উদ্যোগের আওতায় মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর ও বিদ্যুৎ প্রকল্প, ঢাকা মেট্রোরেল এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালসহ বিভিন্ন বড় প্রকল্পে জাপানের সহযোগিতার প্রশংসা করেন পররাষ্ট্রসচিব।
বৈঠকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, টেকসই উন্নয়ন এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে জাপানের আরও সহযোগিতা কামনা করে বাংলাদেশ।
দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ করে জাপানে বাংলাদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং নাগরিক সমাজের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।
রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। পররাষ্ট্রসচিব জানান, মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশ বড় ধরনের মানবিক ও আর্থ-সামাজিক চাপের মুখে রয়েছে। নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনকেই সংকট সমাধানের একমাত্র স্থায়ী পথ হিসেবে উল্লেখ করে এ বিষয়ে জাপানের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন বিষয়েও দুই দেশের প্রতিনিধিরা মতবিনিময় করেন। জাতিসংঘ সনদের নীতি অনুসরণ এবং বহুপক্ষীয় বিভিন্ন ফোরামে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে উভয় পক্ষ।
এদিকে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকেও জাপান সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে দেশটি।