ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদের সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন বলেছেন, সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সহিংসতা ও দখলদারিত্বের রাজনীতি বন্ধের আহ্বান জানান।
বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে দ্য ফোরাম অব ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড আর্কিটেক্টস বাংলাদেশ আয়োজিত ‘শহীদদের স্মরণে দ্রোহের জুলাই’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের মানুষ কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন পাচ্ছে না। তার ভাষ্য, একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের জন্য সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংস্কার অনতিবিলম্বে সম্পন্ন করা উচিত।
তিনি আরও বলেন, “আপনার প্লান কি প্লান? ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যানের -সেই প্লানে আমাদের তো চোখ যাচ্ছে। কাজেই এই প্লান দিয়ে বাংলাদেশের মানুষের মুক্তি হবে না। আমরা একটা জাস্ট বাংলাদেশ চাই। এইজন্য সংবিধানের যে সংস্কার করা দরকার মানে পরিবর্তন করার দরকার অনতিবিলম্বে সে সমস্ত পরিবর্তন আপনার করা উচিত।হেলমেট বাহিনী দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় দখলের চেষ্টা করবেন না।”
হবিগঞ্জে ছাত্রশক্তির এক কর্মীর চোখ নষ্ট হওয়ার ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি অভিযোগ করেন, ওই ঘটনার দায় বিএনপি এবং তাদের অঙ্গসংগঠনের এড়ানোর সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই যেমন রক্তাক্ত ছিল, তেমনি চলতি বছরও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা ও ঢাকা কলেজের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, এসব হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ছিলেন না।
সাইফুল আলম খান মিলনের অভিযোগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও আলিয়া মাদ্রাসায় পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
বিএনপির ৩১ দফা কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সংবিধান সংস্কার ও প্রধানমন্ত্রীদের মেয়াদসীমা নির্ধারণের মতো প্রস্তাব বাস্তবায়নের বিষয়েও দলটি নিজেদের অবস্থান অনুসরণ করছে না।
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আত্মত্যাগের মূল লক্ষ্য ছিল এমন একটি সাংবিধানিক কাঠামো গড়ে তোলা, যাতে ভবিষ্যতে কেউ স্বৈরাচারী শাসন প্রতিষ্ঠা করতে না পারে।