রাশিমুল হক রিমন, নিজস্ব প্রতিবেদক
বরগুনা-আমতলী-তালতলী আঞ্চলিক সড়কের মানিকঝুড়ি থেকে কচুপাত্রা পর্যন্ত প্রায় ৮ দশমিক ৪ কিলোমিটার অংশে অসংখ্য খানাখন্দ ও বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সড়কটি সংস্কারের ছয় মাসের মধ্যেই বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দেয় বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। এতে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে আমতলী ও তালতলী উপজেলার অন্তত দুই লাখ মানুষকে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং কার্যাদেশ অনুযায়ী কাজ না করায় অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কটি বেহাল হয়ে পড়েছে। তবে ঠিকাদার এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি ভারী যানবাহন চলাচল করায় সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, আমতলী-তালতলী-ফকিরহাট পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি উপকূলীয় এলাকার মানুষের যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। ২০২১ সালের অক্টোবর মাসে বার্ষিক জিওবি মেইনটেন্যান্স প্রকল্পের আওতায় মানিকঝুড়ি থেকে কচুপাত্রা সেতু পর্যন্ত ৮ দশমিক ৪ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের জন্য তিনটি প্যাকেজে দরপত্র আহ্বান করা হয়। এতে ব্যয় ধরা হয় ৮ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। বরগুনার ঠিকাদার মো. সগীর হোসেন কাজটি পান।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, কার্যাদেশ পাওয়ার পর দীর্ঘ সময় কাজ শুরু করা হয়নি। পরে ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে কাজ শুরু হয় এবং বছরের শেষ দিকে তা শেষ করা হয়। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে গর্ত ও ভাঙন দেখা দেয়। বর্তমানে প্রায় ১০ মিটার পরপর কোথাও কোথাও বড় গর্ত তৈরি হয়েছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) সরেজমিনে দেখা যায়, মানিকঝুড়ি থেকে কচুপাত্রা পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত। কোথাও গর্তে পানি জমে আছে। এসব গর্তের কারণে মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, ইজিবাইকসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। কোনো কোনো স্থানে যানবাহন আটকে গেলে সাময়িকভাবে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
মোটরসাইকেলচালক শাহ আলম তালুকদার বলেন, ‘সড়ক নির্মাণের অল্প দিনের মধ্যেই ভাঙতে শুরু করেছে। গত দুই বছর ধরে ঝুঁকি নিয়ে এই সড়কে চলাচল করছি। এটি এখন আর সড়ক নেই, যেন মিনি পুকুর।’
রুবেল মিয়াও একই ধরনের অভিযোগ করেন। তাঁর ভাষ্য, সড়কের গর্ত এড়িয়ে যানবাহন চালাতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়।
তারিকাটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘এমন খানাখন্দে ভরা সড়ক দিয়ে বিদ্যালয়ের কয়েক শ শিক্ষার্থী যাতায়াত করে। যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা প্রয়োজন।’
আড়পাঙ্গাশিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও তারিকাটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুমাইয়া, কল্পনা আক্তার, আবু ছালেহ ও শাহ নেওয়াজ বলে, প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাদের সড়কটি ব্যবহার করতে হয়। দ্রুত সড়ক সংস্কারের দাবি জানায় তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা মোশাররফ হোসেন ও শহীদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, সড়ক নির্মাণের সময় নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। কার্যাদেশ অনুযায়ী কাজ না করার কারণেই অল্প সময়ের মধ্যে সড়কটি নষ্ট হয়েছে বলে তাঁদের দাবি। তাঁরা সড়ক নির্মাণের কাজের মান যাচাই করে অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
তবে ঠিকাদার মো. সগীর হোসেন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। মুঠোফোনে তিনি বলেন, ‘ধারণক্ষমতার চেয়ে ভারী যানবাহন চলাচল করায় সড়কটি ভেঙে গেছে। এতে আমার কী করার আছে?’
আমতলী উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইদ্রিস আলী বলেন, ‘সড়কটি খানাখন্দে ভরে গেছে, এটি ঠিক। তবে সড়কটি সংস্কারের জন্য ডিপিপি অনুমোদন হয়েছে। শিগগিরই দরপত্র আহ্বান করা হবে।’
বরগুনার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান খান বলেন, ‘সড়কটি নির্মাণের সময় আমি বরগুনায় দায়িত্বে ছিলাম না। তাই নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ সম্পর্কে আমার জানা নেই। তবে চলতি অর্থবছরেই সড়কটির সংস্কারকাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।’
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, নতুন করে সংস্কারের আগে আগের কাজের মান যাচাই করা হোক। একই সঙ্গে সড়কটি দ্রুত সংস্কার করে নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক।