হাবিবুর রহমান সাগর ,জাবি প্রতিনিধি
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সদস্যদের উপর হামলার প্রতিবাদে জাবিতে মশাল মিছিল
নারায়ণগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব আরিফ সোহেলসহ অন্যান্য নেতাকর্মীদের উপর হামলার প্রতিবাদে মশাল মিছিল করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থীরা।
সোমবার রাত পৌনে নয়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা এলাকা থেকে এই মশাল মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
সমাবেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জাবি শাখার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ইমরান শাহরিয়ারের সঞ্চালনায় জাহাঙ্গীরনগর সংস্কার আন্দোলনের আহ্বায়ক ইয়াহিয়া জিসান বলেন, ২৪ শের গণ অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী আহতরা যখন হাসপাতালে শুয়ে তাদের দিন পার করছে তখন সরকারের ব্যর্থতায় দেশব্যাপী মাথা চারা দিয়ে উঠছে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগের দোসররা।
এত বড় আন্দোলনের পরেও দেশ থেকে বিতাড়িত স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার বক্তব্য দেশের প্রথম সারির গণমাধ্যম প্রচার হওয়ার চেয়ে ন্যাক্কারজনক ঘটনা আর কিছু হতে পারে না। আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি অতি দ্রুত শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে তার দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
হামলাকারীদের দ্রুত বিচারের আওতায় জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মকর্তা কর্মচারী যারা এই গণহত্যার সাথে জড়িত ছিল তাদেরকে অতিদ্রুত আইনের মুখোমুখি করতে হবে। আজকে তাদের আইনের সম্মুখীন করা হচ্ছে না বলেই বার বার ফ্যাসিস্টরা মাথা চারা দিয়ে উঠছে, আইনের উপর হুমকি আসছে। আগামী ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করে তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। একই সাথে বিচার শেষ না হওয়া অবধি আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশ থেকে ব্যান করতে হবে। আওয়ামী লীগের সাথে কোনো আঁতাত বাংলার জনগণ মেনে নিবে না।
সমাবেশে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন জাবির সদস্য সচিব তৌহিদ সিয়াম বলেন, গতকালকে আরিফ সোহেল ভাইয়ের উপর হামলা থেকে শুরু করে আয়ানের উপর হুমকি একই সূত্রে গাঁথা, এগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এই ঘটনার সাথে যারা জড়িত তাদেরকে অতিদ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে।
অম্তবর্তীকালীন সরকারকে বলে দিতে চাই সারা দেশে যে আওয়ামী লীগের দোসরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে তাদেরকে সাঁড়াশি অভিযানের মাধ্যমে শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি আরো বলেন, ” যদি ৭ দিনের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৪,১৫,১৭ জুলাইয়ে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষ কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হয় তাহলে কামরুল আহসানের অবস্থা নুরুল আলমের মতো করতে আমরা একটুও দ্বিধাবোধ করবো না। বিশ্ববিদ্যালয়ের যে-সব শিক্ষক আওয়ামী লীগের পক্ষ নিয়ে এই গণহত্যার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলো তাদেরকে বিচারের আওতায় আনতে হবে।