রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তার সম্ভাব্য পদত্যাগের বিষয়ে করা প্রশ্নের সরাসরি জবাব না দিয়ে বলেছেন, ‘দেখতে পাবেন… প্রশ্নটা বিব্রতকর।’
এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে কথা বলেছেন দেশের প্রথম সারির জাতীয় দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার। আলাপকালে পদত্যাগসংক্রান্ত প্রশ্নে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তার পদত্যাগ ও বিদেশে চিকিৎসা নিতে গিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে মুখ খোলেন।
সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে চাইলে জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিতে হয়। বর্তমানে স্পিকার দেশের বাইরে রয়েছেন—এমন তথ্য জানানো হলে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমার জানা নেই স্পিকার দেশে আছেন কিনা। এটা আমার জানার কথা না।’
লন্ডনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন—এমন অভিযোগও নাকচ করে দেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, ‘এটা পুরোপুরি ভিত্তিহীন। কারও যদি মাথা খারাপ হয়, সে এ ধরনের কথা বলতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি তখন মৃতপ্রায়, চিকিৎসাধীন ছিলাম। এটা একেবারে ভিত্তিহীন ও বানানো কথা, এটাই বলতে পারি।’
এরপর ধন্যবাদ জানিয়ে ফোনালাপ শেষ করেন রাষ্ট্রপতি।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে রাষ্ট্রপতি শিগগিরই পদত্যাগ করতে পারেন বলে খবর প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, চলতি বছরের মে মাসে চিকিৎসার জন্য লন্ডন সফরের সময় তিনি শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। তবে এ অভিযোগ রাষ্ট্রপতি নিজেই অস্বীকার করেছেন।
এদিকে সম্ভাব্য পদত্যাগের বিষয়ে বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিকভাবে বা স্বাস্থ্যগত কারণে পদত্যাগ করতে চাইলে তার সেই সুযোগ রয়েছে।’
শেখ হাসিনার সঙ্গে রাষ্ট্রপতির কথোপকথনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তিনি চিকিৎসার জন্য বিদেশে গিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে শেখ হাসিনার সঙ্গে কোনো আলাপ করেছেন কি না, আমি জানি না।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে তাকে পদত্যাগের বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে চাইলে সংবিধান অনুযায়ী স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিতে হয়।’
সূত্র: দা ডেইলি স্টার