সজিব রেজা, দিনাজপুর প্রতিনিধি:
গণভোট বাস্তবায়ন, বিদ্যুৎ সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং সীমান্ত সুরক্ষার দাবিতে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উদ্যোগে ‘জুলাই পদযাত্রা-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টায় দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলায় এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত পথসভায় বক্তব্য দেন দলের উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, দলের সদস্যসচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন, যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ডা. আব্দুল আহাদ, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং ১১ দলীয় জোটের নেতারা।
বক্তব্যে সারজিস আলম অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে রংপুর বিভাগ দীর্ঘদিন উন্নয়ন বৈষম্যের শিকার হয়েছে। তাঁর দাবি, দক্ষিণাঞ্চলের একটি জেলার জন্য যে পরিমাণ উন্নয়ন বরাদ্দ দেওয়া হতো, পুরো রংপুর বিভাগের জন্যও সে পরিমাণ বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, আমরা আমাদের জায়গা থেকে বিএনপি সরকার ও জনাব তারেক রহমানকে সতর্ক বার্তা দিতে চাই। রংপুর বিভাগে ৩৩টি সংসদীয় আসন রয়েছে। এবারের নির্বাচনে বিএনপি ১৪টি আসনে জয়ী হয়েছে, যা অর্ধেকেরও কম। ১১ দলীয় জোট পেয়েছে ১৮টি আসন। আগামী পাঁচ বছরে যদি রংপুর বিভাগের উন্নয়ন বৈষম্য দূর না করা হয়, জনগণের প্রাপ্য উন্নয়ন নিশ্চিত না করা হয় এবং অতীতের মতো শাসন-নিপীড়নের পুনরাবৃত্তি ঘটে, তাহলে ইনশাআল্লাহ ২০৩১ সালের নির্বাচনে রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনের একটিতেও বিএনপি জয়ী হতে পারবে না। এবারের নির্বাচনে বিএনপি যে ১৪টি আসনে জয়ী হয়েছে, সেসব আসনেও গলায় পানি আটকে যাওয়ার মতো পরিস্থিতিতে জয় পেয়েছে।
সারজিস আলম আরও বলেন, আমরা বিএনপিকে আরও একটি কথা বলতে চাই। তারা আমাদের অভ্যুত্থানের সহযোদ্ধা। আমরা মনে করি, তারা বাংলাদেশের বৈষম্যগুলো দূর করবে। কিন্তু যদি তারা ব্যাংক লুটপাট করে, ব্যাংক লুটপাটকারীদের আশ্রয় দেয়, তাদের সঙ্গে ভাগ-বাটোয়ারা করে, বিভিন্ন এলাকার সঙ্গে বৈষম্য করে, প্রশাসনকে দলীয় প্রশাসনে পরিণত করতে চায় এবং বিভিন্ন জায়গার চাঁদাবাজদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়, তাহলে বিএনপি হোক বা যত বড় ক্ষমতাবানই হোক, কারও বিরুদ্ধে কথা বলতে আমরা বিন্দুমাত্র পিছু হটব না, ইনশাআল্লাহ।
পথসভায় বক্তারা দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ইস্যু তুলে ধরে গণভোট বাস্তবায়ন, বিদ্যুৎ সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানান। একই সঙ্গে এসব দাবিতে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তারা।