মাহিনুর ইসলাম মাহিন, বড়লেখা (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধিঃ
মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। বর্তমানে উপজেলার কোনো ইউনিয়ন বন্যা ঝুঁকিতে নেই। তবে আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় সিলেট অঞ্চলে বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে পাহাড়ি ঢল নামলে পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এ অবস্থায় সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি রাখার কথা জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
সোমবার (১৩ জুলাই) উপজেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুব আলম দৈনিক এদিন-কে বলেন, “বর্তমানে বড়লেখার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। উপজেলার কোনো ইউনিয়ন এখন পর্যন্ত বন্যা ঝুঁকিতে পড়েনি।
সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক প্রস্তুতি রয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি শুকনো খাবার ও ত্রাণসামগ্রী মজুত রয়েছে। পানি আরও বৃদ্ধি পেলে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খালিদ বিন অলীদ বলেন, “নদী ও হাওরের পানির অবস্থা আগের তুলনায় উন্নতি হয়েছে। বর্তমানে পানি বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। তবে আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে পাহাড়ি ঢল নামলে পানির উচ্চতা আবারও বাড়তে পারে।”
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী ৭২ ঘণ্টায় বড়লেখাসহ সিলেট অঞ্চলে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে উজান থেকে পানির প্রবাহ বৃদ্ধি পেলে নিম্নাঞ্চলে পানি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সুজানগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বদরুল ইসলাম বলেন, “এখন পর্যন্ত ইউনিয়নের কোথাও বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি। হাকালুকি হাওরের পানিও আগের তুলনায় কমেছে। আমরা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছি।”
তবে উপজেলার সার্বিক পরিস্থিতির উন্নতি হলেও কিছু এলাকায় স্থানীয়দের ভোগান্তি এখনো কাটেনি। উপজেলার ৯ নং সুজানগর ইউনিয়নের পূর্ব বড়থল গ্রামের বড়জালাই জলাশয়ের পাশে সরকারি ঘরে বসবাসকারী দুটি পরিবার চলাচল সংকটে রয়েছে।
ভুক্তভোগী দেলোয়ার হুসেন ফারুক বলেন, “আমরা দুটি পরিবার সরকারি ঘরে বসবাস করছি। ঘরের ভেতরে পানি না ঢুকলেও বাইরে বের হওয়ার কোনো রাস্তা নেই। সামান্য বৃষ্টি হলেই চলাচলের পথ পানিতে তলিয়ে যায়। মূলত আমাদের কোনো সরকারি রাস্তা নেই। দীর্ঘদিন ধরে পাশের একটি পরিত্যক্ত জলাশয়ের পাড় দিয়ে চলাচল করতাম।
এখন সেই পথটিও পানির নিচে চলে গেছে। ফলে পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি স্কুলগামী শিশুরাও ঘর থেকে বের হতে পারছে না। চার বছর ধরে একই দুর্ভোগ পোহাচ্ছি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)সহ সংশ্লিষ্টদের কাছে বারবার আবেদন করেও স্থায়ী সমাধান পাইনি। প্রশাসনের কাছে আমাদের একটাই দাবি—চলাচলের জন্য একটি স্থায়ী রাস্তার ব্যবস্থা করে দেওয়া হোক।”
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমানে বড়লেখার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে আগামী কয়েক দিনের বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পানির প্রবাহের ওপর পরিস্থিতির গতিপ্রকৃতি অনেকটাই নির্ভর করবে। এ কারণে প্রশাসন সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সার্বক্ষণিক নজরদারি ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি অব্যাহত রেখেছে।