দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা থেকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালে ১০ শয্যার কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার ও আধুনিক প্যাথলজি ল্যাব স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের ২২তম কার্যদিবসে নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ইকরামুল বারী টিপুর উত্থাপিত সিদ্ধান্ত প্রস্তাবের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, এ প্রকল্প বাস্তবায়নে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কাঠামোসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আগামী আগস্টের শেষ দিকে এ সংক্রান্ত দরপত্র আহ্বান করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, শুধু শয্যা সংখ্যা বাড়ানো নয়, গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি ১০১ শয্যার হাসপাতালে ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে আধুনিক প্যাথলজি ও ডায়াগনস্টিক ল্যাব এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ করা হবে।
তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি হাসপাতালে নতুন অ্যাম্বুলেন্স দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর অংশ হিসেবে চলতি বছর ১০০টি হাসপাতালে ১০০টি নতুন অ্যাম্বুলেন্স সরবরাহ করা হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ইউনিয়ন পর্যায়ের কমিউনিটি ক্লিনিক এবং ১০ ও ২০ শয্যার স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোও সংস্কার করে সেখানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, জনবল ও শয্যার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া অর্থের সংস্থান সাপেক্ষে জেলা পর্যায়ের ২৫০ শয্যার হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় এবং ৫০০ শয্যার হাসপাতালকে ১ হাজার শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পর সংসদ সদস্য ইকরামুল বারী টিপু তাঁর উত্থাপিত সিদ্ধান্ত প্রস্তাব প্রত্যাহার করে নেন।