দুমকী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলার লুথার্যান হাসপাতালে কর্মরত গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. তাহিরা মুরতাজার বিরুদ্ধে আবারও চিকিৎসা সংক্রান্ত অভিযোগ উঠেছে। এবার এক গর্ভবতী নারীকে অপ্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগের অভিযোগ এনে সিভিল সার্জন বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন রোগীর পরিবার।
অভিযোগকারী মো. জলিলুর রহমান জানান, গত ১৬ জুন তাঁর গর্ভবতী মেয়ে জান্নাতুল জেমি চিকিৎসার জন্য ডা. তাহিরা মুরতাজার শরণাপন্ন হন। চিকিৎসক বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়ে তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেন। পরিবারের দাবি, ভর্তি না হলে গর্ভের সন্তানের ক্ষতি হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়। একই সঙ্গে ১২ ধরনের ওষুধ ও চারটি ইনজেকশন সম্বলিত ব্যবস্থাপত্র দেওয়া হয়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে তারা পরদিন পটুয়াখালীতে আরেক গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. ফেরদৌসী আক্তার নারগিসের পরামর্শ নেন। সেখানে জানানো হয়, গর্ভের শিশুর কোনো জটিলতা নেই এবং স্বাভাবিক কিছু ওষুধ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়। বর্তমানে রোগী সুস্থ রয়েছেন বলে দাবি পরিবারের।
তবে নতুন এই অভিযোগের মধ্যেই আলোচনায় উঠে এসেছে ডা. তাহিরার বিরুদ্ধে পূর্বে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগও। স্থানীয়দের দাবি, গত কয়েক বছরে একাধিক চিকিৎসা জটিলতা ও রোগী ভোগান্তির ঘটনায় তাঁর নাম আলোচনায় এসেছে।
গত বছরের জুলাই মাসে এক গর্ভবতী নারীর সিজারিয়ান অপারেশনের সময় জটিলতা সৃষ্টি হওয়ার অভিযোগ ওঠে। রোগীর স্বজনদের দাবি, ওই ঘটনার কারণে দীর্ঘদিন চিকিৎসা নিতে হয়েছে এবং তাদের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে।
এছাড়া অপর এক রোগীর স্বজন অভিযোগ করেন, চিকিৎসা গ্রহণের পর রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হলেও তিনি মারা যান। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে চিকিৎসকের সরাসরি দায় প্রমাণিত হয়নি।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে এক নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনাও স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ওই ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চিকিৎসা ব্যয়ের কিছু অংশ মওকুফ করেছিল বলে ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়।
স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন, বারবার অভিযোগ ওঠার পরও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে কি না। অনেকের মতে, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে এবং রোগীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।
অভিযোগের বিষয়ে ডা. তাহিরা মুরতাজা বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়। সংশ্লিষ্ট গর্ভবতী নারীর শারীরিক অবস্থার কারণে তাকে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। সিভিল সার্জন তদন্ত করলে প্রয়োজনীয় সব তথ্য তিনি উপস্থাপন করবেন।
দুমকী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মীর শহীদুল হাসান শাহীন জানান, অভিযোগের একটি অনুলিপি তিনি পেয়েছেন।
পটুয়াখালীর সিভিল সার্জন ডা. মো. খালেদুর রহমান মিয়া বলেন, তিনি বর্তমানে দাপ্তরিক কাজে ঢাকায় রয়েছেন। কর্মস্থলে ফিরে অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।