বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক সংঘাত প্রতিরোধে পারমাণবিক প্রতিরোধকেই একমাত্র কার্যকর ব্যবস্থা হিসেবে দেখছে রাশিয়া। বুধবার মস্কোতে এক পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক ফোরামে এ মন্তব্য করেন ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ।
তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে নিরাপত্তা কাঠামো ধীরে ধীরে ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে এবং পারমাণবিক প্রতিরোধ ছাড়া বৈশ্বিক সংঘাত ঠেকানোর কার্যকর কোনো ব্যবস্থা আর অবশিষ্ট নেই। তার ভাষায়, পারমাণবিক ভারসাম্যই এখন বিশ্বকে বৃহৎ যুদ্ধের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করছে।
পেসকভ আরও বলেন, প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির ফলে ভবিষ্যতে এমন অ-পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি হতে পারে, যার ধ্বংসক্ষমতা পারমাণবিক অস্ত্রের সমতুল্য হবে।
ইউক্রেন যুদ্ধ চলাকালে একাধিকবার পারমাণবিক অস্ত্রের প্রসঙ্গ তুলেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলো মস্কোর বিরুদ্ধে দায়িত্বজ্ঞানহীন পারমাণবিক হুমকির অভিযোগ তুলেছে।
এ প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন একটি পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তির পক্ষে মত দিয়েছেন, যেখানে চীনকেও অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে। তবে বেইজিং এ ধরনের উদ্যোগে আগ্রহ দেখায়নি। রাশিয়ার অবস্থান হলো, চীনকে অন্তর্ভুক্ত করা হলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সকেও চুক্তির আওতায় আনতে হবে।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সর্বশেষ কার্যকর পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি ‘নিউ স্টার্ট’-এর মেয়াদ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে শেষ হয়েছে। ফলে বিশ্বের দুই বৃহত্তম পারমাণবিক শক্তির অস্ত্র মোতায়েনের ওপর থাকা গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতাগুলোও কার্যত উঠে গেছে।
এখন পর্যন্ত নতুন কোনো চুক্তি বা বিকল্প সমঝোতার বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। এর ফলে কয়েক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন সীমিত রাখার কোনো কার্যকর আন্তর্জাতিক চুক্তি বর্তমানে বলবৎ নেই।
২০১০ সালে স্বাক্ষরিত ‘নিউ স্টার্ট’ চুক্তির আওতায় রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশ সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫৫০টি মোতায়েনযোগ্য পারমাণবিক ওয়ারহেড রাখার অনুমতি পেত। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছিল।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?