নেত্রকোনা প্রতিনিধি :
নেত্রকোনার মদনে মাদকাসক্ত ভাগ্নে কে ছাড়িয়ে নিতে বাঁধা দেওয়ার জেরে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। উভয় পক্ষের আহতদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা সংকটাপন্ন।
তাদেরকে মদন হাসপাতালে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে পৌর শহরের বাড়িভাদেরা উত্তরপাড়া গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এর আগে ১১জুন সাদকাসক্ত সাকিব গাঁজা সেবন করলে তার মামা আরন মিয়া তাকে ঘরের ভিতরে নিয়ে বেঁধে রাখেন। সাকিবের প্রতিবেশী চাচাতো মামা সাইফুল মিয়া এসে তাকে ছেড়ে দেন। এনিয়ে সাইফুল ও আরন মিয়ার মধ্যে তর্কবিতর্কের এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে কয়েকজন আহত হয়।
আহতরা হলেন-বাড়িভাদেরা গ্রামের মৃত হাসিম উদ্দিনের ছেলে ও সাইফুল মিয়ার ভাই আবুল হোসেন (৩৫) ও আরন মিয়ার ছেলে শরীফ (২৫)।
স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১১জুন সাকিব মাদক সেবন করলে তার মামা আরন মিয়া ঘরে নিয়ে বেঁধে রাখেন। আরনকে না জানিয়ে চাচাতো ভাই সাইফুল ভাগ্নে সাকিবকে ছেড়ে দেয়। এ নিয়ে তাদের মধ্যে তর্কবিতর্কের এক পর্যায়ে সংঘর্ষ হয়।
এরই জেরে শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে আরন মিয়ার ছেলে শরীফ সাইফুলের ভাই আবুলের উপর হামলা করে। শরীফের চুরির উপর্যুপরি আঘাতে সাইফুলের ভাই আবুলের ভূরি বের হয়ে আসে। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
এদিকে সাইফুলের লোকজন এ অবস্থা দেখে শরীফকে মেরে গুরুতর জখম করে। তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক হওয়ায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
আরন মিয়ার স্ত্রী শুভা আক্তার বলেন, আমার স্বামীর ভাগ্নে সাকিব নেশাখোর। কয়েকদিন আগে সাকিব নেশা করে বাড়িতে আসলে আমার স্বামী তাকে ঘরে নিয়ে বেঁধে রাখে। পরে আরেক নেশাখোর সাইফুল এসে ছেড়ে দেয়।
প্রতিবাদ করলে সাইফুল আমাকে মারধর করতে আসে। আমার ছেলে প্রতিবার করে এই নিয়ে সাইফুল লোকজন নিয়ে এসে পরে আমাদের উপর হামলা করে।
আবুলের স্ত্রী সুলতানা আক্তার বলেন, আরন মিয়া তার নেশাখোর ভাগ্নে সাকিব কে নিয়ে বেঁধে রাখে। পরে তার চাচাতো ভাই সাইফুল সাকিবকে ছেড়ে দেয়। এ নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়াঝাটি হয়। আজকে আরন মিয়ার ছেলে শরীফ আমার স্বামীর কে ছুরি দিয়ে পেটে আঘাত করে। তার ভূরি বের হয়ে গেছে।
এ বিষয়ে মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালাউদ্দদীন করিম বলেন, আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।