মোঃ তাজুল ইসলাম, (সুবর্ণচর) প্রতিনিধি;
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরক্লার্ক ইউনিয়নে সরকারি খালের পাড় ও রাস্তা কেটে অবৈধভাবে মাটি বিক্রির প্রতিবাদে ফেসবুকে পোস্ট করায় এক যুবকের বাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় এক প্রভাবশালী চক্র ও তার সহযোগীরা সামাজিক সংগঠক ফরহাদ হোসেনের বসতবাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে তাঁর নববিবাহিত স্ত্রী এবং বৃদ্ধা দাদিকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, হেনস্তা ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে বলে জানা গেছে।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগী ফরহাদ হোসেন বাদী হয়ে চরজব্বার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্তরা হলেন— একই এলাকার মো. মানিক (২৬) এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫/৬ জন সন্ত্রাসী।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সুবর্ণচর উপজেলার ৩নং চরক্লার্ক ইউনিয়নের কেরামতপুর এলাকার সরকারি খালের পাড় এবং সরকারি জায়গা থেকে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র (ভেকু) মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে মাটি কেটে বিক্রির রমরমা ব্যবসা চালিয়ে আসছিল। অবাধে মাটি কাটার ফলে খালের পাড় ভেঙে পড়ছে এবং সংলগ্ন সরকারি রাস্তাটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া দিন-রাত মাটি বহনকারী পাওয়ার টিলার ও ট্রাক্টর চলাচলের কারণে পুরো রাস্তা জুড়েই বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে, যা সামান্য বৃষ্টিতেই কাদা-পানিতে একাকার হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
স্থানীয় ‘সুবর্ণ ইয়ুথ অর্গানাইজেশন’-এর সাংগঠনিক সম্পাদক ফরহাদ হোসেন জনস্বার্থে ও পরিবেশ রক্ষার্থে এই অনিয়মের চিত্র তুলে ধরে গত ১৭ মে তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে একটি পোস্ট দেন।
ফেসবুক পোস্টের জেরে ক্ষিপ্ত হয়ে গত ১৮ মে (সোমবার) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে অভিযুক্ত মো. মানিক ও তার ৫/৬ জন সহযোগী দেশীয় অস্ত্রে সজ্জ্বিত হয়ে ফরহাদ হোসেনের বসতবাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে। ওই সময় ফরহাদ বাড়িতে ছিলেন না। সন্ত্রাসীরা তাঁর সদ্য বিবাহিত স্ত্রী নূর নাহার বেগম (১৯) এবং বৃদ্ধা দাদি রেশমা খাতুনকে (৬৫) ঘরের সামনে একা পেয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। তারা ফরহাদ কেন ফেসবুক পোস্ট করেছে— তা নিয়ে চড়াও হয় এবং অবিলম্বে পোস্টটি ডিলিট করার জন্য প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করে। যাওয়ার সময় তারা হুমকি দেয় যে, পোস্ট ডিলিট না করলে এবং ভবিষ্যতে এই বিষয়ে পুনরায় কোনো পোস্ট বা প্রতিবাদ করলে ফরহাদকে যেখানে পাওয়া যাবে সেখানেই মারধর ও প্রাণে মেরে ফেলা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অবৈধভাবে মাটি কাটার ফলে বর্ষা মৌসুমে এলাকাটিতে ব্যাপক জলাবদ্ধতা ও খাল ভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। রাস্তাটি বেহাল হওয়ায় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ, নারী ও শিশুদের যাতায়াত অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। প্রায়ই সেখানে মানুষ পিছলে পড়ে আহত হচ্ছে এবং ছোট-বড় যানবাহন দুর্ঘটনা ঘটছে। এছাড়া এলাকার কৃষিজমি, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা ভুক্তভোগী ফরহাদ হোসেন ঘটনার পর পরই এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং স্থানীয় সাক্ষীদের (মো. তারেক রহমান ও সামিম ওসমানসহ অন্যান্যদের) সাথে পরামর্শ করে চরজব্বার থানায় হাজির হয়ে একটি লিখিত অভিযোগ করেন।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত মানিকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি আমি বাড়িতে গিয়েছি তাকে পাইনি, সরকারি খাস জায়গার মাটি কাটা অপরাধের কথা বললে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, সবাই খালের মাটি কাটে তাই আমিও কাটি। তবে তার বিগত দিনের অপরাধের কারণে তিনি শাস্তি পেয়েছেন সেটা স্বীকার করেন।
এ বিষয়ে চরজব্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে সরকারি সম্পত্তি বিনষ্টকারী এবং বাড়িতে ঢুকে হুমকিদাতাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে