রাজধানীর পল্লবীতে ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও নির্মমভাবে হত্যার পৈশাচিক ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নারী উইং জাতীয় নারীশক্তি। গণমাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি জানায়, ধারাবাহিক ধর্ষণের ঘটনা প্রমাণ করে দেশে নারী ও শিশুরা আজ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এতে সরকারের ব্যর্থতা স্পষ্ট। মঙ্গলবার (১৯ মে) গণমাধ্যমে এই বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ে সারাদেশে তিনটি শিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে একজনকে হত্যা করা হয়েছে। এর মধ্যে নাটোরে ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণ এবং ঠাকুরগাঁওয়ে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনা সমাজের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে।”
নারীশক্তি জানায়, “ঘর থেকে স্কুল কোথাও নারী-শিশুদের নিরাপত্তা নেই। এই পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার চরম ব্যর্থতা ও বিচারহীনতার সংস্কৃতির ফল। অপরাধীরা বারবার পার পেয়ে যাওয়ায় তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।” একটি সভ্য রাষ্ট্রে এভাবে একের পর এক নারী ও শিশু নিপীড়ন চলতে পারে না বলেও জানান তারা।
এই প্রেক্ষাপটে জাতীয় নারীশক্তি জোরালোভাবে দাবি জানিয়েছে— পল্লবী, মিরপুর, নাটোর ও ঠাকুরগাঁওয়ের ঘটনায় জড়িত সব অপরাধীকে অবিলম্বে গ্রেফতার করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে দ্রুত বিচার শুরু করতে হবে। ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে বিচার শেষ করে অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করতে হবে। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিই পারে এই ধরনের পৈশাচিকতা বন্ধ করতে বলে জানান তারা।
নারী শক্তি উল্লেখ করে, একই সঙ্গে ২৪ ঘণ্টায় চারটি শিশু নির্যাতনের ঘটনা পুলিশ ও প্রশাসনের দায়িত্বে অবহেলারই প্রমাণ। কেন বারবার এমন ঘটনা ঘটছে তার জবাব রাষ্ট্রকে দিতে হবে বলেও উল্লেখ করা হয়।
নিহত ও নির্যাতিত শিশুদের পরিবারকে রাষ্ট্রীয়ভাবে নিরাপত্তা, বিনামূল্যে আইনি সহায়তা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানিয়ে সংগঠনটি জানায়, “সামাজিকভাবে তাদের যেন কোনও প্রকার হয়রানির শিকার হতে না হয়, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের।”
ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে ধর্ষণ প্রতিরোধে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করতে হবে উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “ধর্ষণরোধে ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারগুলোকে আরও কার্যকর ও ভুক্তভোগী বান্ধব করে তুলতে হবে।”
নারীশক্তি আরও মনে করে একটি রাষ্ট্রের সফলতা নির্ভর করে তার সবচেয়ে দুর্বল নাগরিকের নিরাপত্তার ওপর। আজ যখন শিশুরা নিরাপদ নয়, তখন বুঝতে হবে রাষ্ট্র তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ। আমরা আর কোনও নারী নিপীড়ন চাই না, আমরা চাই না কোনও মায়ের কোল খালি হোক।
জাতীয় নারীশক্তি সরকার, প্রশাসন ও বিচার বিভাগকে অবিলম্বে এই বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায়। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।