নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে সাবেক স্ত্রীর ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকির অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী আদালতে মামলা করেছেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ওই শিক্ষককে শোকজ করেছে।
অভিযুক্ত হাসিবুল ইসলাম গুরুদাসপুর উপজেলার খুবজীপুর বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক। তাঁর বাড়ি নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার মশিন্দা গ্রামে।
মামলার নথি ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের জুনে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার সাতবাড়িয়া গ্রামের মুক্তি খাতুনের সঙ্গে পারিবারিকভাবে হাসিবুল ইসলামের বিয়ে হয়। বিয়ের পর দাম্পত্য জীবনের বিভিন্ন ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ ও সংরক্ষণ করেন হাসিবুল—এমন অভিযোগ করেছেন মুক্তি।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, পরে যৌতুকের দাবিতে তাঁর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু হয়। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে তাঁকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। চলতি বছরের ২ জানুয়ারি পুনরায় স্বামীর বাড়িতে গেলে দেনমোহর, স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মালামাল না দিয়ে আবারও তাঁকে মারধর করে বের করে দেওয়া হয়। এ সময় ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় গত ৪ জানুয়ারি কুষ্টিয়ার বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সার্চ ওয়ারেন্ট চেয়ে মামলা করেন মুক্তি খাতুন। আদালতের নির্দেশে বড়াইগ্রাম থানার উপপরিদর্শক জহুরুল ইসলাম তদন্ত শুরু করেন। তদন্তের অংশ হিসেবে অভিযুক্ত শিক্ষকের মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
মুক্তি খাতুন বলেন, শিক্ষকতার আড়ালে তাঁর সাবেক স্বামীর একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিল। এসব নিয়ে প্রশ্ন তুললে তাঁকে নিয়মিত নির্যাতন করা হতো। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
খুবজীপুর বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনিছুর রহমান বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর প্রাথমিকভাবে হাসিবুল ইসলামকে শোকজ করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে হাসিবুল ইসলাম বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয়। তিনি আইনগতভাবে স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন।
গুরুদাসপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সেলিম আখতার বলেন, বিষয়টি তাঁদের নজরে এসেছে। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ বলেন, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।