বুধবার, ২০ মে ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

ডুবো চর ও বর্জ্যে ইলিশশূন্য পায়রা, সংকটে ১৪ হাজার জেলে

সামনেই ইলিশের ভরা মৌসুম। আষাঢ়-শ্রাবণের জোয়ারে রুপালি ইলিশে ভরে ওঠার কথা পায়রা নদী। ভরা মৌসুমেও পায়রা নদীতে কাঙ্ক্ষিত রুপালি ইলিশের দেখা মেলে না। সাগর মোহনায় সৃষ্টি হওয়া ডুবো চরে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে ইলিশ উল্টো পথে ফিরে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জেলেরা

প্রতিনিধি ডেস্ক

০২ মার্চ ২০২৬, ১৮:৫৯

রাশিমুল হক রিমন, বরগুনা

সামনেই ইলিশের ভরা মৌসুম। আষাঢ়-শ্রাবণের জোয়ারে রুপালি ইলিশে ভরে ওঠার কথা পায়রা নদী। ভরা মৌসুমেও পায়রা নদীতে কাঙ্ক্ষিত রুপালি ইলিশের দেখা মেলে না। সাগর মোহনায় সৃষ্টি হওয়া ডুবো চরে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে ইলিশ উল্টো পথে ফিরে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জেলেরা। পাশাপাশি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের গরম পানি ও বর্জ্য নদীতে ফেলার কারণেও ইলিশের প্রবেশ ও প্রজনন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও ইলিশ গবেষক ড. মো. আনিছুর রহমান।

পায়রা নদীতে জেলেদের জালে ইলিশ ধরা না পড়ায় উপকূলের ১৪ হাজার ৬৮৯ জন জেলে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। সাগর মোহনার ডুবো চর খনন করে পায়রা নদীতে ইলিশের প্রবেশ ও প্রজনন কার্যক্রম স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

জানা গেছে, বুড়িশ্বর বা পায়রা নদী বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বরিশাল, পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ নদী। নদীটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৯০ কিলোমিটার, গড় প্রস্থ ১২০০ মিটার এবং এটি সর্পিলাকার। বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার কলসকাটি ইউনিয়নের পাণ্ডব নদী থেকে এর উৎপত্তি। পরে এ নদীর জলধারা বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে। উজানের তুলনায় ভাটির দিক বেশি প্রশস্ত।

অন্যদিকে বিষখালী ও বলেশ্বর নদীও বঙ্গোপসাগরে মিলিত হয়েছে। তিন নদীর মিলনস্থলকে জেলেরা ‘গাঙ্গের আইল’ নামে চেনেন। বিষখালী-বলেশ্বর মোহনায় রয়েছে লালদিয়া সমুদ্র সৈকত এবং পায়রা-বিষখালীর মোহনায় পদ্মাবাবুগঞ্জ চর। তিন নদীর মোহনায় গড়ে ওঠা এসব চর স্বাভাবিক জোয়ারের পানি প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করছে। ফলে নদীর গভীরতা দিন দিন কমে যাচ্ছে।

পায়রা-বিষখালী মোহনায় বড়াইয়ার ডুবো চর ১৫ থেকে ২০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ফকিরহাট থেকে আশার চর পর্যন্ত বিস্তৃত। এ চর বঙ্গোপসাগর থেকে পায়রা নদীতে জোয়ারের পানি প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করে। আশার চরের শেষ সীমানা থেকে শুরু হয়েছে নলবুনিয়ার ডুবো চর, যার বিস্তৃতি প্রায় ৭ থেকে ৮ কিলোমিটার। এটি পায়রা নদীর প্রবেশমুখে অবস্থিত।

প্রবেশমুখ অতিক্রম করে ৩ থেকে ৪ কিলোমিটার ভেতরে পদ্মা ও কুমিরমারা ডুবো চর রয়েছে, যার বিস্তৃতি প্রায় ৬ থেকে ৭ কিলোমিটার। ভাটার সময় এসব চরে মানুষ হাঁটাচলা করে এবং জেলেরা খুঁটি গেড়ে জাল ফেলে। জোয়ারের সময় এখানে তীব্র স্রোত ও ঢেউ সৃষ্টি হয়। ডুবো চরের কারণে সাগর থেকে জোয়ারের পানির সঙ্গে ইলিশের স্বাভাবিক প্রবেশ ব্যাহত হচ্ছে।

এ ছাড়া ২০১৯ সালে তালতলীর জয়ালভাঙ্গা এলাকায় বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন স্থানে আইসোটেক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়। ২০২২ সালে কেন্দ্রটি উৎপাদনে যায়। এরপর থেকে কেন্দ্রের গরম পানি ও বর্জ্য পায়রা নদীতে ফেলা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব কারণে পায়রা নদীতে ইলিশ প্রবেশে বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে অন্যান্য নদীর তুলনায় এখানে ইলিশ কম পাওয়া যাচ্ছে।

উপকূলীয় আমতলী ও তালতলীতে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ১৪ হাজার ৬৮৯ জন। এর মধ্যে আমতলীতে ৬ হাজার ৭৮৯ এবং তালতলীতে ৭ হাজার ৯০০ জন জেলে রয়েছেন। অধিকাংশই দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করেন। সারা বছর মাছ শিকার করেই তাদের সংসার চলে। মাছ ধরা পড়লে ভালোভাবে জীবনযাপন সম্ভব হয়, আর মাছ না পেলে উনুনে হাঁড়ি ওঠে না বলে জানান জেলে ছত্তার।

গভীর সাগর, উপকূলসংলগ্ন এলাকা এবং শাখা-প্রশাখা নদীতে তিন ধরনের জেলে মাছ শিকার করেন। ইলিশের ভরা মৌসুম আষাঢ়, শ্রাবণ, ভাদ্র ও আশ্বিন-এই চার মাসে জেলেরা সারা বছরের আয় নিশ্চিত করেন। কিন্তু মৌসুমের এক মাস পেরিয়ে গেলেও পায়রা নদীতে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ ধরা পড়ছে না। দু-একটি মাছ জালে উঠলেও তা দিয়ে সংসার চলে না বলে জানিয়েছেন জেলেরা।

তাদের দাবি, সাগর মোহনার ডুবো চরই ইলিশ প্রবেশের প্রধান অন্তরায়। ডুবো চরের কারণে ইলিশ উল্টো পথে ফিরে যাচ্ছে। ফলে পায়রা নদীতে ইলিশ শিকারি জেলেদের জালে মাছ উঠছে না।

২০০৭ সালের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় সিডরের পর নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে তীব্র ডুবো চরের সৃষ্টি হয়। এর ফলে জোয়ারের প্রথম ভাগে পায়রা নদীতে পানি প্রবেশের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হয়। অথচ ওই সময়ই ইলিশ নদীতে প্রবেশের উপযুক্ত সময়। ডুবো চরে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে ইলিশ সাগরে ফিরে যায়। জোয়ারের মধ্যভাগে স্রোত বাড়লেও তখন ইলিশের প্রবেশ কমে যায়।

নলবুনিয়া গ্রামের জেলে আলমগীর হাওলাদার বলেন, ডুবো চর খনন করে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ ফিরিয়ে না আনলে পায়রা নদীতে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ পাওয়া যাবে না। জেলেদের রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

জেলে ছত্তার, লাল মিয়া ও জাহিদ মোল্লা বলেন, জোয়ারের প্রথম ভাগে স্রোত কম থাকায় ইলিশ প্রবেশ করতে পারে না। মধ্যভাগে স্রোত বাড়লে কিছু মাছ জালে ধরা পড়ে। তাই পায়রা নদীতে ইলিশ কম পাওয়া যায়।

বরগুনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিয়া উদ্দিন বলেন, ডুবো চরের কারণে পায়রা নদীর নাব্যতা কমেছে। এতে জোয়ারের স্রোতের তীব্রতা হ্রাস পাওয়ায় ইলিশ প্রবেশে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। ডুবো চর খনন করে নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে পারলে ইলিশ প্রবেশ ও প্রজননে বাধা থাকবে না।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট নদী কেন্দ্র, চাঁদপুরের অবসরপ্রাপ্ত মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও ইলিশ গবেষক ড. মো. আনিছুর রহমান বলেন, সাগর মোহনায় নাব্যতা সংকট ও ডুবো চরের কারণে ইলিশের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ইলিশ চলাচলের জন্য গভীর পানির প্রয়োজন। গভীরতা না থাকায় ইলিশ নদীতে প্রবেশ করতে পারছে না। পাশাপাশি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের গরম পানি ও বর্জ্যও এ সমস্যার জন্য দায়ী।

সারাদেশ

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে […]

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২২:০৪

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে যাওয়ার পথে কুমিল্লার লাকসাম দক্ষিণ বাইপাস এলাকায় অবস্থিত ধামৈচা জামে মসজিদে জুমার নামাজের পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, বিশ্বজুড়ে চলমান এ অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতি কেবল আন্তর্জাতিক নয়, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার ওপরও চরম প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বিশ্বব্যাপী এই সংঘাত অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের পরিস্থিতি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ের চেয়েও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। আমাদের এখনই সচেতন হতে হবে।

বক্তব্যে তিনি দেশের জনগণকে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় মানসিকভাবে প্রস্তুত এবং আগাম সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সবাইকে ধৈর্য ও সচেতনতার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দেন হুইপ।

সারাদেশ

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ। ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার […]

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:৪৫

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ

স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ।

ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার পরপর স্বজনেরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

সেখানে তাদের অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, বর্তমানে ২টি শিশু ও তাদের মা সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর পূর্বে উল্লাপাড়া উপজেলার বালসাবাড়ি ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা মানিক চাঁদের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী তাকে নির্যাতন করতো। এই বিষয়ে একাধিকবার শালিস বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হয়। এর মধ্যেই তাদের ঘর আলো করে মুস্তাকিম ও মাহিম নামের দুই ছেলে সন্তান। পারিবারিক কলহের জের ধরেই স্বামীর সাথে ঝগড়ার পর আজ সকালে বাবার বাড়িতে অবস্থানকালে পাখি খাতুন প্রথমে নিজে কীটনাশক পান করে এবং পরে ২ ছেলেকে কীটনাশক পান করায়। পরে তারা যন্ত্রাণায় চিৎকার করলে স্বজনেরা দ্রুত তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার জানান, দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে ৪ বছর ও ৮ বছর বয়সী ২টি শিশু ও তাদের মা’কে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। পরে ৮ বছর বয়সী মুস্তাকিমকে ওয়াশ করা হয়, কীটনাশক পানের সময় বেশি হ‌ওয়ায় দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কীটনাশক পান করা ২টি শিশু ও তাদের মা’কে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

সারাদেশ

নিখোঁজের ২ দিন পর মেঘনায় ভেসে উঠলো পুলিশ সদস্যের নিথর দেহ

লালমোহন (ভোলা) প্রতিনিধি: ভোলার লালমোহন উপজেলায় মৎস্য অভিযানে গিয়ে লঞ্চের ধাক্কায় স্পিডবোট উল্টে নিখোঁজ হওয়ার দুইদিন পর পুলিশ কনস্টেবল মো. ফখরুল ইসলামের সন্ধান মিলেছে। শুক্রবার বিকেলে দৌলতখান উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের বটতলা এলাকার মেঘনা নদীর পাড়ে পড়েছিল ওই পুলিশ কনস্টেবলের নিথর দেহ। তিনি লালমোহন উপজেলার মঙ্গলসিকদার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে কর্মরত ছিলেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে লালমোহন থানার […]

নিখোঁজের ২ দিন পর মেঘনায় ভেসে উঠলো পুলিশ সদস্যের নিথর দেহ

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২০ মার্চ ২০২৬, ২৩:০২

লালমোহন (ভোলা) প্রতিনিধি:

ভোলার লালমোহন উপজেলায় মৎস্য অভিযানে গিয়ে লঞ্চের ধাক্কায় স্পিডবোট উল্টে নিখোঁজ হওয়ার দুইদিন পর পুলিশ কনস্টেবল মো. ফখরুল ইসলামের সন্ধান মিলেছে। শুক্রবার বিকেলে দৌলতখান উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের বটতলা এলাকার মেঘনা নদীর পাড়ে পড়েছিল ওই পুলিশ কনস্টেবলের নিথর দেহ। তিনি লালমোহন উপজেলার মঙ্গলসিকদার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে কর্মরত ছিলেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে লালমোহন থানার ওসি মো. অলিউল ইসলাম বলেন, গত বুধবার সন্ধ্যার পর মঙ্গলসিকদার লঞ্চঘাট এলাকা থেকে মেঘনা নদীতে মৎস্য অভিযানের জন্য মৎস্য অফিসের ৩ সদস্য ও একজন পুলিশ অফিসারসহ ৩ জন কনস্টেবল স্পিডবোটে করে মেঘনা নদীতে রওয়ানা দেন।

এ সময় যাত্রীবাহী লঞ্চ কর্ণফুলী-১২ এর সঙ্গে ধাক্কা লেগে স্পিডবোটটি উল্টে যায়। এ ঘটনায় ওই স্পিডবোটে থাকা সবাই তীরে উঠতে পারলেও নদীতে ডুবে নিখোঁজ হয়ে যান কনস্টেবল মো. ফখরুল ইসলাম। তাকে উদ্ধার করতে গত দুইদিন ধরে কাজ করেছেন নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের সদস্যরা।

তিনি আরও বলেন, শুক্রবার বিকেলে খবর পাওয়া যায় দৌলতখান উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের বটতলা এলাকার মেঘনা নদীর পাড়ে পুলিশের পোশাক পরিহিত এক ব্যক্তির মরদেহ পড়েছিল।

স্থানীয়রা বিষয়টি দেখতে পেয়ে দৌলতখান থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করেন। দৌলতখান থানা পুলিশের দেওয়া তথ্যে আমরা নিশ্চিত হই ওই মরদেহটি নিখোঁজ কনস্টেবল মো. ফখরুল ইসলামের। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।