রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

রাজনীতি

জিরো টলারেন্স: অপরাধ দমনে বিএনপির নতুন বার্তা

দলের শৃঙ্খলা বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে বিএনপি। এখন থেকে অপকর্মকারীদের বিরুদ্ধে শুধু বহিষ্কার নয়, আইনের হাতে তুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত দিয়েছে দলটি। একই সাথে অপকর্মকারীদের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর আইনি পদক্ষেপও দেখতে চায় তারা। এদিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতিতে অপরাধীদের ধরতে সরকারের ‘চিরুনি অভিযান’ শুরুর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে বিএনপি। এ ক্ষেত্রে সরকার ও প্রশাসনকে সহযোগিতা […]

জিরো টলারেন্স: অপরাধ দমনে বিএনপির নতুন বার্তা

জিরো টলারেন্স: অপরাধ দমনে বিএনপির নতুন বার্তা

নিউজ ডেস্ক

১৪ জুলাই ২০২৫, ১০:১৩

দলের শৃঙ্খলা বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে বিএনপি। এখন থেকে অপকর্মকারীদের বিরুদ্ধে শুধু বহিষ্কার নয়, আইনের হাতে তুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত দিয়েছে দলটি।

একই সাথে অপকর্মকারীদের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর আইনি পদক্ষেপও দেখতে চায় তারা।

এদিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতিতে অপরাধীদের ধরতে সরকারের ‘চিরুনি অভিযান’ শুরুর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে বিএনপি। এ ক্ষেত্রে সরকার ও প্রশাসনকে সহযোগিতা করতেও প্রস্তুত আছে দলটি। তবে অভিযান যেন বিশেষ কোনো রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে না হয়, প্রকৃত অপরাধীরা যেন ধরা পড়ে- সেটা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা রক্ষায় তারা জিরো টলারেন্স নীতিতে আছেন, আগেও ছিলেন। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্য এরই মধ্যে তারা বহু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছেন। সেই সাথে প্রশাসনকেও আহ্বান জানিয়েছেন, যে কেউ অন্যায় করলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার জন্য। তবে যেকোনো ঘটনা ঘটলেই সেটা নিয়ে বিএনপির বিরুদ্ধে যে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, অপরাজনীতি করা হচ্ছে- তা থেকে বিরত থাকার জন্য সবাইকে আহ্বান জানান তিনি।

সরকারের ‘চিরুনি অভিযান’ প্রসঙ্গে বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, রাজনৈতিকভাবে ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এটা যেন পরিচালিত না হয়, সে ব্যাপারে সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। আমরা চাইব, কোনো রাজনৈতিক দলকে দমন-পীড়নের উদ্দেশ্যে না হয়ে সুষ্ঠুভাবে ও যথাযথ প্রক্রিয়ায় এই অভিযান পরিচালিত হবে। বিতর্কিত কোনো কর্মকাণ্ড হিসেবে অভিযান পরিচালিত হবে না। গত ৫ আগস্টের পর থেকে চাঁদাবাজ, সন্ত্রাস, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী তথা অপকর্মকারীদের বিরুদ্ধে দলীয় অ্যাকশন অব্যাহত রেখেছে বিএনপি। কেউ অন্যায় করলে দল তাকে কোনো রকম প্রশ্রয় দিচ্ছে না। কোথাও কোনো অভিযোগ পেলেই তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে এখন পর্যন্ত দল এবং বিভিন্ন অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের চার-পাঁচ হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

আগামী নির্বাচন সামনে রেখে দলের ইমেজ যাতে কেউ নষ্ট বা ক্ষুণœœ করতে না পারে, সেজন্য সাংগঠনিক শৃঙ্খলা রক্ষায় শুরু থেকেই এমন কঠোর অবস্থান নিয়েছে বিএনপি। ভালো কাজের মাধ্যমে মানুষের মন জয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে দলটি। কিন্তু তারপরও নানান ঘটনা ঘটছে। এমন অবস্থায় বিএনপি আরো কঠোরভাবে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। দলটি শীর্ষ নেতারা মনে করছেন, সাংগঠনিক ব্যবস্থাই যথেষ্ট নয়, এ ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে। অপরাধীদের কঠোর হস্তে দমন করতে হবে। তারা আরো মনে করছেন, মেয়াদের ১১ মাসেও সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আশানুরূপ উন্নতি ঘটাতে পারেনি। পুলিশ প্রশাসন এখনো বিভিন্ন জায়গায় নির্বিকার। বিএনপির পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় অভিযোগ করা হলেও, অপরাধীদের গ্রেফতারের আহ্বান জানানো হলেও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকায় মিটফোর্ড হত্যাকাণ্ড, চাঁদপুরে মসজিদের ভেতর ইমামকে কুপিয়ে আহত করা, খুলনায় যুবদলের সাবেক এক নেতাকে গুলি করে ও রগ কেটে হত্যা করাসহ বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে। এমন প্রেক্ষাপটে বিএনপি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সরকারকে শক্ত অবস্থানে দেখতে চায়। দলটি চায়, যে বা যারা প্রকৃত অপরাধী বা অপকর্মকারী অর্থাৎ চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, হত্যাকাণ্ডসহ নানা অপকর্মের সাথে জড়িত, তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন ইস্যু ঘিরে কিছু দল এবং গোষ্ঠীর বিএনপিকে চাপে ফেলার প্রবণতা চলছে বলে মনে করছে বিএনপি। বিশেষ করে মিটফোর্ডে ভাঙারি ব্যবসায়ী হত্যাকাণ্ডকে পুঁজি করে বিএনপিকে ঘায়েল করার চেষ্টা হচ্ছে। এটাকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছে দলটি। বিএনপি নেতারা বলছেন, শুরু থেকেই যেকোনো অপকর্মের বিরুদ্ধে তারা অত্যন্ত সোচ্চার। কিন্তু বিএনপিকে ঘায়েল করা, বিএনপির ভাবমূর্তি নষ্ট করা, সামগ্রিক পরিস্থিতিকে ভিন্নদিকে প্রবাহিত করা অথবা নির্বাচনকে বিলম্বিত করতে তারা এসব ইস্যু নিয়ে মাঠে নেমেছে। মিটফোর্ড হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিএনপিকে দায়ী করে কিছু রাজনৈতিক দল দেশের বিভিন্ন স্থানে মিছিল-মিটিং করছে। বিএনপি মনে করছে, যারা দেশে গণতন্ত্র চায় না, অন্য কোনো উদ্দেশ্য হাসিল করতে চায়- তারাই এসব কথা বলছে।

বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তারা সজাগ এবং সতর্ক রয়েছেন। গণ-অভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কোনো বিভেদ তৈরি হোক কিংবা মিত্রদের মধ্যে কোনো সংঘাতের সৃষ্টি হোক, সর্বোপরি গণ-অভ্যুত্থানের ঐক্য বিনষ্ট হোক- তারা তা চান না। বিএনপি মনে করছে, রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে প্রস্তুতি নেয়া এবং নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশের গণতন্ত্রে উত্তোরণের পথ সহজ করা।

‘মব’ সৃষ্টি করে নৈরাজ্য এবং একের পর এক নৃশংসতায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ও নির্বাচন-পূর্ব স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে অপরাধীদের গ্রেফতারে সারা দেশে ‘চিরুনি অভিযান’ শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গতকাল রোববার সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভা শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব:) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।

১৩ নভেম্বর ২০২৫
poll_title
আপনি কি জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন?

মোট ভোট: ৭৩৮৩

রাজনীতি

‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে, অপমান হজম না হওয়া পর্যন্ত সংসদে যাচ্ছি না : এমপি মনিরুল হক

সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় ‘অপমানিত’ হওয়ার অভিযোগে টানা ১১ দিন ধরে সংসদ অধিবেশন বর্জন করছেন কুমিল্লা-৬ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী। গত ১৪ জুন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের এক রুলিং ও সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ১৫ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত তিনি সংসদে যাননি। মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে। স্পিকার ফোন […]

‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে, অপমান হজম না হওয়া পর্যন্ত সংসদে যাচ্ছি না : এমপি মনিরুল হক

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৯ জুন ২০২৬, ১১:০২

সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় ‘অপমানিত’ হওয়ার অভিযোগে টানা ১১ দিন ধরে সংসদ অধিবেশন বর্জন করছেন কুমিল্লা-৬ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী। গত ১৪ জুন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের এক রুলিং ও সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ১৫ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত তিনি সংসদে যাননি।

মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে। স্পিকার ফোন করে সংসদে ফিরতে বললেও আমি এই অপমান এখনো হজম করতে পারছি না। যেদিন পারব, সেদিনই সংসদে যাব।’

গত ১৪ জুন, বাজেট আলোচনায় মনিরুল হক চৌধুরী বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহেরের বোরকা পরিহিত স্ত্রীর অতীতের একটি প্রসঙ্গ টানেন। একই সাথে সংসদে বোরকা পরা জামায়াতের নারী এমপিদের ইঙ্গিত করে কিছু মন্তব্য করেন। এতে সরকারি দলের এমপিরা হাসলেও বিরোধী দলের সদস্যরা তীব্র প্রতিবাদ জানান।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও পোশাক নিয়ে কথা বলতে নিষেধ করেন এবং মনিরুল হক চৌধুরীর বক্তব্যের বিতর্কিত অংশটুকু সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ (এক্সপাঞ্জ) করার ঘোষণা দেন।

এরপর মনিরুল হক চৌধুরী দুঃখপ্রকাশ করে আত্মপক্ষ সমর্থনে পুনরায় কথা বলার জন্য ফ্লোর চাইলে ডেপুটি স্পিকার তা নাকচ করে দেন। পরবর্তীতে পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং সরকারি দলের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বিষয়টি হালকা করার চেষ্টা করে মনিরুল হক চৌধুরীকে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ করলেও ডেপুটি স্পিকার তার সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন।

এই ঘটনার পর থেকেই ক্ষোভে সংসদ বয়কট করে চলেছেন এই সংসদ সদস্য।

৩০ অক্টোবর ২০২৫
poll_title
জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট প্রশ্নে আপনার মতামত কী?

মোট ভোট: ১৪৫০৩

রাজনীতি

‘আওয়ামী লীগ আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে’: সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

আওয়ামী লীগ রাজনীতি থেকে আউট হয়ে গেছে বা যাচ্ছে এরকম থাকবে না বলে মন্তব্য করে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন বলেছেন, আমার অনুমান তারা (আওয়ামী লীগ) দেশের আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে। সম্প্রতি দেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশনে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় হওয়া অত্যাচার-নিপীড়ন মানুষ ভুলে যাবে এমন […]

নিউজ ডেস্ক

২৫ মে ২০২৬, ২০:১২

আওয়ামী লীগ রাজনীতি থেকে আউট হয়ে গেছে বা যাচ্ছে এরকম থাকবে না বলে মন্তব্য করে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন বলেছেন, আমার অনুমান তারা (আওয়ামী লীগ) দেশের আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে।

সম্প্রতি দেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশনে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় হওয়া অত্যাচার-নিপীড়ন মানুষ ভুলে যাবে এমন ইঙ্গিত করে মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন বলেন, আমাদের মানুষজনের স্মৃতি শক্তি এতো দীর্ঘ না। আমার অনুমান তারা (আওয়ামী লীগ) দেশের আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে।

টেলিভিশনে দেয়া ওই সাক্ষাৎকারে সাবেক উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন দাবি করেন, সাত সদস্যের “কিচেন কেবিনেট” অন্তর্বর্তী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতো। তিনি জানান, প্রতি মঙ্গলবার নিয়মিত বৈঠক করতেন তারা। নিজ মন্ত্রণালয়ে একাধিক উপদেষ্টার প্রভাব ছিল জানিয়ে তিনবার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।

তবে, তা গৃহীত হয়নি বলে জানান তিনি। যুক্তরাষ্ট্র্রের সাথে বহুল আলোচিত বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিছু জানতো না- দাবি করেন তৌহিদ হোসেন। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১১ মে থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের।

৩০ অক্টোবর ২০২৫
poll_title
জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট প্রশ্নে আপনার মতামত কী?

মোট ভোট: ১৪৫০৩

রাজনীতি

“ওসব কিছুই চাই না, আমি বড় ক্লান্ত, একেবারে অবসর চাই- শুধু ঘুমাবো” : মির্জা ফখরুল

“আমি বড় ক্লান্ত… আমার এখন অবসর দরকার।” চব্বিশের ৫ আগস্ট-পূর্ববর্তী ১৭ বছর অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মুখে এমন উচ্চারণ শুনে মুহূর্তের জন্য থমকে যেতে হয়। রাজনীতির উত্তাল ময়দানে দীর্ঘদিনের দৃঢ় ও সংযত এই নেতার কণ্ঠে ক্লান্তির এমন স্বীকারোক্তি শুধু ব্যক্তিগত অনুভূতি নয়; বরং রাজনৈতিক মহলেও নতুন প্রশ্নের জন্ম […]

নিউজ ডেস্ক

০১ জুন ২০২৬, ২০:০৬

“আমি বড় ক্লান্ত… আমার এখন অবসর দরকার।”

চব্বিশের ৫ আগস্ট-পূর্ববর্তী ১৭ বছর অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মুখে এমন উচ্চারণ শুনে মুহূর্তের জন্য থমকে যেতে হয়। রাজনীতির উত্তাল ময়দানে দীর্ঘদিনের দৃঢ় ও সংযত এই নেতার কণ্ঠে ক্লান্তির এমন স্বীকারোক্তি শুধু ব্যক্তিগত অনুভূতি নয়; বরং রাজনৈতিক মহলেও নতুন প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে।

গত ২৩ এপ্রিল স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে গিয়েছিলাম তাঁর সঙ্গে দেখা করতে। বাইরে ছিল মানুষের ভিড়। প্রায় নিশ্চিত হয়েই ফিরে আসছিলাম—আজ আর দেখা হবে না। ঠিক তখনই তাঁর দীর্ঘদিনের সহকারী কৃষিবিদ ইউনুস আলী ডাক দিলেন।

মন্ত্রীর কক্ষে ঢুকেই চোখে পড়ল ভিন্ন এক মির্জা ফখরুলকে। রাজনীতির কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে লড়াইয়ে অভ্যস্ত মানুষটিকে সেদিন অস্বাভাবিক ক্লান্ত লাগছিল। চোখে ঘুমঘুম ভাব, মুখে অবসাদের রেখা।

অন্যদের বিদায় দেওয়ার পর বললাম, “আমার কোনো তদবির নেই, অনেক দিন দেখা হয় না—তাই শুধু সাক্ষাৎ করতে এলাম।”

শরীরের খোঁজ নিতেই তিনি ধীরে উত্তর দিলেন—

“আমি বড় ক্লান্ত… আমার এখন অবসর দরকার।”

কথাটি শুনে কিছুটা বিস্মিত হয়েই বললাম, “দেশের মানুষ আপনাকে এই মন্ত্রণালয়ের পর বঙ্গভবনে দেখতে চায়।”

তিনি হালকা হাসলেন। তারপর বললেন—

“ওসব কিছুই চাই না। একেবারে অবসর চাই… শুধু ঘুমাবো।”

এই কয়েকটি বাক্য যেন দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের এক অনুচ্চারিত ক্লান্তির ভাষা হয়ে উঠেছিল।

এরপর কথোপকথন গড়ায় স্মৃতির ভেতর। ২০০৮ সালে লন্ডন থেকে ফেরার পর প্রথম কোনো সাংবাদিক হিসেবে আমাকে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন তিনি।

তার কিছুদিন পর কাউন্সিলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পেয়ে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে তাঁর উত্থান ঘটে। স্মৃতিচারণে উঠে আসে বেগম খালেদা জিয়া, প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকা ও ইশরাক হোসেন প্রসঙ্গও।

৩০ অক্টোবর ২০২৫
poll_title
জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট প্রশ্নে আপনার মতামত কী?

মোট ভোট: ১৪৫০৩