জুয়েল রানা, রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ
কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে অসংখ্য চলতি মৌসুমের বড় (ইরি) ধান ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। সরেজমিনে ঘুরে দেখাগেছে রৌমারী উপজেলাধীন খেওয়ারচর, আলগারচর, বেক্রিবিল,
চর বাবনেরচর,টালুয়ার চর,ঝগড়ার চর,চর বোয়ালমারী দঃটাপুর চর সহ অসংখ্য নিচু জমি টানা বৃষ্টি আর পাহাঢ়ী ঢলের পানিতে ফসলী অনেক জমি তলিয়ে যাওয়ায় মানুষের মাঝে হতাশা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
কয়েকদিন ধরে ঘন ঘন বৃষ্টি পানিতে আর পাহাঢ়ী ঢলের প্রচন্ড চাপে ভারত থেকে বয়ে আসা বিভিন্ন শাখা নদী দিয়ে আসা ঢলের তিব্র স্রোতে নদীর পার উপছে ফসলী জমি গুলো তলিয়ে গেছে।
যারফলে এঅঞ্চলের হাজার হাজার কৃষক অকাল বন্যার কবলে দিশাহারা হয়ে পড়েছে। দীর্ঘ সময় জমিতে পানি থাকলে পাকা ও আধাপাকা ধান পচে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা।
রৌমারীতে অসংখ্য নিচুবিল রয়েছে , যেখানে ইরি-বোর মৌসুমে একটি মাত্র ফসর হয়। বিল গুলো হলো লাঠিয়াল ডাঙ্গা কালাপানির বিল, বিকরিবিল, সীমান্তঘেঁষা আলগারচর দর্নির বিল,গয়টাপাড়া বিল,ডিসি সড়কের দুদিকের খালবিলসহ শতাধিক বিল রয়েছে।
একদিকে দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হওয়ায় ফসল আসতে দেরী হয়। অপরদিকে হটাৎ করে অবিরাম টানা বর্ষণের ফলে খালবিল নদী নালা ভরে যায় ও ভারত থেকে বয়ে আসা পাহাঢ়ী ঢলে কৃষকের ফসলের মাঠ তলিয়ে যায়।
ইরি-বোর মৌসুমে আবহাওয়া অনুকুলে থাকলেও কৃষকের ধান ঘরে উঠিয়ে আনার মুহুত্বে প্রাকৃতিক দুর্যোগে কৃষকের স্বপ্ন জলাঞ্জলী হয়ে যাচ্ছে।
রৌমারীর সীমান্তবর্তি কৃষকের কপাল পুড়ছে ভারত থেকে বয়ে আসা দর্নিনদী, ভারতীয় সীমান্ত উচু হওয়ায় অতিসহজে দর্নিনদীর পানিতে ভেসে যায় সীমান্ত লাগোয়া বাংলাদেশের এসব অঞ্চল। এমন ক্ষতির ধারাবাহিকতা যেন বছরের পর বছর চলমান রয়েছে। কে শুনবে তাদের আত্বনাত।
এব্যাপারে নদী অঞ্চলের ধান চাষি কৃষক মালেক,আজিজ মেম্বার লুৎফর রহমান, সাখাওয়াত হোসেন,লতিফ, আব্দুস সবুর, বাবুল, গোলাম হোসেন,আলী আহম্মেদসহ হাজার ও কৃষক জানান, বিলের ধান দিয়ে তাদের সংসার চলে, পালের গরু ,
জমানো টাকা দার দেনা করার টাকায় ফলানো ফসল পানির নীচে। আগামী দিন কিভাবে চলবে এমন আর্তচিৎকারে ফেটে পড়েন তারা।
এবিষয় রৌমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাইয়ুম চৌধরী জানান চলতি মৌসুমে ১০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের
চাষাবাদ হয়েছে। এবছর বোরো ধানের ফলনও ভালো কিন্ত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ী ঢলে পানিতে সীমান্তঘেষা দনী অঞ্চলে ঢলের পানি প্রবেশ করে ক্ষতি সাধিত হয়েছে।