মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

ক্ষমতাধর সেই এসপি শফিকের কিছুই হয়নি

অর্থের বিনিময়ে জমি দখল করে দেওয়া, বালু ব্যবসা, পোস্টিং বাণিজ্য, মাদক ব্যবসায়ীদের আশকারা দেওয়া, ওসির কাছ থেকে ঘুস নেওয়া এবং ঝুট ব্যবসাসহ নানা অভিযোগ গাজীপুরের সদ্য সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) কাজী শফিকুল আলমের বিরুদ্ধে। তিনি এসপি থাকাকালীন পাড়া-মহল্লার অলিতে-গলিতে মাদকের বিস্তার ঘটে। দুর্নীতি ও ক্ষমতা অপব্যবহার করাই ছিল যার নেশা। একদিকে বাড়ি গোপালগঞ্জ এবং অন্যদিকে […]

নিউজ ডেস্ক

৩০ আগস্ট ২০২৪, ০৭:১৪

অর্থের বিনিময়ে জমি দখল করে দেওয়া, বালু ব্যবসা, পোস্টিং বাণিজ্য, মাদক ব্যবসায়ীদের আশকারা দেওয়া, ওসির কাছ থেকে ঘুস নেওয়া এবং ঝুট ব্যবসাসহ নানা অভিযোগ গাজীপুরের সদ্য সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) কাজী শফিকুল আলমের বিরুদ্ধে।

তিনি এসপি থাকাকালীন পাড়া-মহল্লার অলিতে-গলিতে মাদকের বিস্তার ঘটে। দুর্নীতি ও ক্ষমতা অপব্যবহার করাই ছিল যার নেশা। একদিকে বাড়ি গোপালগঞ্জ এবং অন্যদিকে এসবির সাবেক প্রধান (অতিরিক্তি আইজিপি) মনিরুল ইসলামের ভায়রা ভাই। তাকে আর ঘাঁটায় কে। যে কারণে অসীম ক্ষমতার দম্ভে তিনি কাউকে পরোয়া করতেন না। সম্প্রতি তাকে ময়মনসিংহের ডিআইজি অফিসে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এদিকে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, এ ধরনের ক্ষমতা অপব্যবহাকারী দুর্নীতিগ্রস্ত পুলিশ অফিসারকে শুধু বদলি কিংবা সংযুক্ত করলে হবে না তার বিরুদ্ধে দ্রুততার সঙ্গে কার্যকর তদন্ত শুরু হতে হবে। এরপর বিভাগীয় মামলা দায়েরসহ দুর্নীতি দমন কমিশন থেকে সম্পদের হিসাবও নিতে হবে। একইসঙ্গে বিদেশ যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিতে হবে।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এসপি শফিকের ভায়রা প্রভাবশালী মনিরুল ইসলামকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়। মনিরুল ও শফিকুল দুজনের বাড়িই গোপালগঞ্জে। বাড়ি গোপালগঞ্জে হওয়ায় এবং শীর্ষ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তার আত্মীয় হওয়ায় ধরাকে সরা জ্ঞান করতেন এসপি শফিকুল। সাধারণ মানুষ কোনো অভিযোগ নিয়ে তার কাছে গেলে কোনো পাত্তা দিতেন না। গাজীপুরের এসপি হিসাবে যোগদানের মাস দেড়েকের মধ্যেই কালীগঞ্জের নাগরী ইউনিয়নের উলুখোলা এলাকায় সাড়ে তিন কোটি টাকা দিয়ে জমি কেনেন শফিকুল। খবর সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ‘গভীর জলের মাছ’ কাজী শফিকুল আলম বেশিরভাগ ঘটনাতেই কাজ করেছেন নেপথ্যে থেকে। সামনে রাখতেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সানোয়ার হোসেন ও মিরাজুল ইসলামকে। অতিরিক্ত এসপি সানোয়ার হোসেনের সহযোগী ছিলেন জয়দেবপুর থানার এসআই খালেক ও এএসআই মাহফুজ। সূত্র জানায়, গাজীপুর সদর (জয়দেবপুর) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) থাকার সময় প্রায় এক বছর আগে সৈয়দ মিজানুর রহমান একজন সুন্দরী কলেজছাত্রীকে মানিকগঞ্জ থেকে ফুসলিয়ে গাজীপুরে আনেন।

তাকে শালবন ইকো রিসোর্ট নামের একটি রিসোর্টে ১০ দিন আটকে রেখে ধর্ষণ করেন। বিষয়টি জানান পর এসপি কাজী শফিকুল আলম ওই ওসিকে তার অফিসে ডেকে আনেন। রাতভর নানা নাটকীয়তার পর ওসির কাছ থেকে মোটা অঙ্কের ঘুস নেন। এরপর ধর্ষণ মামলা থেকে বাঁচতে ওসির সঙ্গে কলেজছাত্রীর বিয়ের ব্যবস্থা করেন। বিয়ের পর ওসি মিজান কলেজছাত্রীকে নিয়ে একটি ভাড়া বাসায় উঠলেও পরে এড়িয়ে চলেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সানোয়ার হোসেনকে দিয়ে তদন্ত চালানোর পর ঘটনাটি ধামাচাপা দেন এসপি শফিকুল।

গাজীপুর সদর উপজেলার সড়কঘাট পার হয়ে কালিয়াকৈর উপজেলার সীমান্তবর্তী কাথাচুড়া গ্রামের সোনাতলা মৌজা। ওই মৌজায় ঘন গজারিবনের পাশে শালদহ ইকো রিসোর্ট নামে একটি বিনোদন পার্ক তৈরি করা হয়েছে। ওই রিসোর্টে যাওয়ার জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে বিপুল অর্থ ব্যয়ে একটি নতুন রাস্তাও তৈরি করা হয়েছে। এসপি শফিকুলের ছত্রছায়ায় এখানে বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি দখল করেছেন পুলিশসহ সাবেক-বর্তমানে কর্মরত বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী কর্মকর্তা।

শালদহ ইকো রিসোর্টটি ‘আদি ভাওয়াল কর্মজীবী সমবায় সমিতির নামে বলা হলেও এর বেশিরভাগ অংশের মালিক গাজীপুর মহানগরের পূবাইল এলাকার বাসিন্দা ও রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আনিসুর রহমানসহ গাজীপুর সদর উপজেলার পিরুজালী এলাকার বাসিন্দা ও সিলেটের এসপি আব্দুল মান্নান, এসপি বাবুল এবং গাজীপুর সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাড. রীনা পারভীনের। এখানকার জমি দখলসহ নানা অপকর্ম জায়েজ করতে সমিতির সদস্য করা হয় সাবেক মুক্তিযদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের।

স্থানীয়রা জানান, সাধারণ মানুষদের কাছ থেকে জোরপূর্বক জমি দখলের কাজে সহযোগিতা করতেন গাজীপুরের এসপি শফিকুল আলম। তিনি প্রায়ই ওই রিসোর্টে যেতেন। রিসোর্টের জমি দখলের বিষয়ে জানতে বেসরকারি টেলিভিশনের একজন সাংবাদিক এসপি অফিসে গেলে তিনি (শফিকুল) ওই সাংবাদিকের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। গাজীপুরের মাওনা এলাকার একজনের স্থাপনাসহ মূল্যবান জমি জোরপূর্বক দখল করে নেয় শেখ সেলিমের মেয়ের জামাইয়ের নেতৃত্বাধীন একটি চক্র।

ওই বিষয়ে সাহায্য পেতে ভুক্তভোগী ব্যক্তি এসপি কাজী শফিকুল আলমের কার্যালয়ে যান। কিন্তু এসপি শফিকুল এ বিষয়ে কিছু করতে পারবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন। এমনকি এও বলেন, শেখ সেলিমের মেয়ের জামাইয়ের সঙ্গে বসে ঝামেলা শেষ করা ছাড়া আর কোনো পথ নেই। গাজীপুরের এসপি থাকাকালীন কাজী শফিকুল আলম ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা, সাংবাদিকদের ফোনও ধরতেন না। কারণে-অকারণেই সাংবাদিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করতেন।

সূত্র জানায়, শফিকুল ইসলাম কয়েক বছর আগে যখন ঢাকায় ডিবিতে কর্মরত ছিলেন তখন ব্যাপকভাবে ক্ষমতার ছড়ি ঘুরিয়েছেন। তৎকালীন ঢাকার পুলিশ সুপার শাহ মিজান শাফিউর রহমানের লাঠিয়াল বাহিনী হিসাবে শফিকুল বহুবিধ অপকর্মে জড়িয়ে পড়েন। তখন শফিউর ও শফিকুলের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম সালমান এফ রহমানের ভাড়াটিয়া বাহিনী হয়ে ঢাকা শহরে আইনবিরোধী বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করে। শাহ মিজান শাফিউর রহমান বর্তমানে ডিআইজি।

সম্প্রতি তাকে সিলেটের ডিআইজি পদ থেকে সরানো হয়েছে। ভুক্তভোগীরা ক্ষমতার চরম অপব্যবহারকারী এই শ্রেণির পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানান। এদিকে উল্লিখিত অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও এসপি শফিকুল ইসলাম ফোন রিসিভ করেননি।

সারাদেশ

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে […]

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২২:০৪

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে যাওয়ার পথে কুমিল্লার লাকসাম দক্ষিণ বাইপাস এলাকায় অবস্থিত ধামৈচা জামে মসজিদে জুমার নামাজের পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, বিশ্বজুড়ে চলমান এ অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতি কেবল আন্তর্জাতিক নয়, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার ওপরও চরম প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বিশ্বব্যাপী এই সংঘাত অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের পরিস্থিতি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ের চেয়েও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। আমাদের এখনই সচেতন হতে হবে।

বক্তব্যে তিনি দেশের জনগণকে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় মানসিকভাবে প্রস্তুত এবং আগাম সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সবাইকে ধৈর্য ও সচেতনতার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দেন হুইপ।

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ। ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার […]

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:৪৫

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ

স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ।

ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার পরপর স্বজনেরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

সেখানে তাদের অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, বর্তমানে ২টি শিশু ও তাদের মা সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর পূর্বে উল্লাপাড়া উপজেলার বালসাবাড়ি ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা মানিক চাঁদের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী তাকে নির্যাতন করতো। এই বিষয়ে একাধিকবার শালিস বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হয়। এর মধ্যেই তাদের ঘর আলো করে মুস্তাকিম ও মাহিম নামের দুই ছেলে সন্তান। পারিবারিক কলহের জের ধরেই স্বামীর সাথে ঝগড়ার পর আজ সকালে বাবার বাড়িতে অবস্থানকালে পাখি খাতুন প্রথমে নিজে কীটনাশক পান করে এবং পরে ২ ছেলেকে কীটনাশক পান করায়। পরে তারা যন্ত্রাণায় চিৎকার করলে স্বজনেরা দ্রুত তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার জানান, দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে ৪ বছর ও ৮ বছর বয়সী ২টি শিশু ও তাদের মা’কে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। পরে ৮ বছর বয়সী মুস্তাকিমকে ওয়াশ করা হয়, কীটনাশক পানের সময় বেশি হ‌ওয়ায় দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কীটনাশক পান করা ২টি শিশু ও তাদের মা’কে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।