রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

২০২৪ সালে মেহেরপুরের আলোচিত ঘটনা

মজনুর রহান আকাশ, মেহেরপুর ২০২৪ সালে মেহেরপুরে সরকার পতন ও আওয়ামীলীগ নেতাদের আত্মগোপন ও গ্রেপ্তারের ঘটনা ছাড়াও বেশ কয়েকটি আলোচিত ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে আওয়ামীলীগের সাবেক মন্ত্রী ও গাংনীর সাবেক এমপি ডা. সাগরকে মনোনয়ন দেয়া, অনলাইন জুয়া, বোমা রেখে প্রাণ নাশের হুমকী, আদালত ভবন থেকে স্ত্রীকে ফেলে দিয়ে হত্যার চেষ্টা, সড়ক ডাকাতি ও সার সংকটের […]

নিউজ ডেস্ক

৩১ ডিসেম্বর ২০২৪, ১৮:১৬

মজনুর রহান আকাশ, মেহেরপুর

২০২৪ সালে মেহেরপুরে সরকার পতন ও আওয়ামীলীগ নেতাদের আত্মগোপন ও গ্রেপ্তারের ঘটনা ছাড়াও বেশ কয়েকটি আলোচিত ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে আওয়ামীলীগের সাবেক মন্ত্রী ও গাংনীর সাবেক এমপি
ডা. সাগরকে মনোনয়ন দেয়া, অনলাইন জুয়া, বোমা রেখে প্রাণ নাশের হুমকী, আদালত ভবন থেকে স্ত্রীকে ফেলে দিয়ে হত্যার চেষ্টা, সড়ক ডাকাতি ও সার সংকটের বিষয়টি ছিল অন্যতম। গোটা বছর জুড়ে এসকল
ঘটনা ছিল আলোচনায়। তবে কয়েকটি ঘটনা তদন্ত ও তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নেয়ায় প্রশাসনও বেশ সুনাম কুড়িয়েছে।

গেল বছর জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন নিয়ে স্থানীয়ভাবে বেশ আলোনা সমালোচনা দেখা দেয়। দলীয় করণ ও পারিবারিকতন্ত্র ঘোষনা করার কারনে তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনকে দলীয় লোকজন
তার প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করেন। এদিকে গাংনী নির্বাচনী এলাকায় রাজনৈতিকভাবে এলাকায় পরিচিতি না থাকলে হঠাত অতিথী পাখি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন ডা. সাগর। আওয়ামীলীগের সকলেই
এ দুইজনের মনোনয়নে বিরোধিতা করলেও সকলকে হতাশ করে কেন্দ্র এদেরকেই মনোনয়ন দেয়। বিষয়টি কেও ভাল চোখে দেখেননি।

বছরের প্রথমে আলোচিত ঘটনা ঘটে মেহেরপুর আদালতে। ১৫ জানুয়ারী স্ত্রী সীমা খাতুনের দায়ের করা যৌতুক মামলায় হাজিরা দিতে এসে স্ত্রীকে ধাক্কা দিয়ে আদালতের তিনতলা ভবন থেকে ফেলে দেয়ার সময়
সীমা স্বামী মামুনর রশীদকে জাপটে ধরে দুজনই নিচে পড়ে আহত হন। মামুনর রশীদ গাংনীর সহড়াতলা গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে।

গেল বছর শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরপরই গাংনীতে আলোচনায় আসে বোমা রেখে প্রাণ নাশের হুমকী ও বোমা বিষ্ফোরণ। বেশ কয়েকটি স্থানে বোমা রেখে ব্যবসায়ি ও প্রবাসীর কাছে চাঁদা চাওয়া হয়। এক
রকম আতংকিত হয়ে পড়ে সাধারণ মানুষ। তবে বোমার উৎস্য ও বোমা বাজদের আজো আটক করতে পারেনি পুলিশ।

কৃষি ক্ষেত্রে আলোচনায় ছিল সার সংকট। চাষিরা সার না পেয়ে বিক্ষোভ মানব বন্ধন করেন। তবে সার সংকটের কোন সমাধান হয়নি। তামাক কোম্পানী তামাক চাষিদের অন্যান্য বছর সার সরবরাহ করতো। চলতি
বছরে সার না দেয়ায় চাষিরা খাদ্য পন্য উৎপাদন কাজে ব্যবহৃত সার তামাক আবাদে ব্যবহার করায় এ সংকট দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

গত ৩ অক্টোবর ও ২ নভেম্বর মেহেরপুর- কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কে গাছ ফেলে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। দুই দিনে যাত্রিবাহী বাস ট্রাক অ্যাম্বুলেন্স ও লোকাল পরিবহনে দীর্ঘ সময় ধরে ডাকাতির ঘটনায় অনেকেই
স্বর্বস্ব হারিয়েছে। আহত হয়েছেন পরিবহনের চালক ও তার সহকারী। এতে রাতে সড়কে চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। তবে এ ঘটনায় পুলিশ চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর এলাকা থেকে ৪ ডাকাতকে আটক করতে সক্ষম হয়। উদ্ধার করা
হয় ডাকাতি কাজে ব্যবহৃত অস্ত্র ও পোশাক।

১২ অক্টোবর জমি জমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গাংনীর ষানঘাট গ্রামের ওহিদুল ইসলাম মহিবুল তার বোন জোসনা খাতুন ও বড়ভাবী স্কুল শিক্ষক জাকিয়া খাতুন এলমাকে কুপিয়ে নৃশংসভাবে খুন করে।
ওই দিনই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে প্রেরণ করে। ঘটনার দিন সকালে পৈত্রিক সম্পত্তি ভাগাভাগি নিয়ে ভাই বোন সালিশ বৈঠকে বসেন। এসময় রাগান্বিত হয়ে ওহিদুল ইসলাম মহিবুল এ
খুনের টনা ঘটায়।

বাজারদরের বিষয়টিও ছিল বেশ আলোচনায়। সবজিসহ সকল পন্যের দাম ছিল সাধারন মানুষের নাগালের বাইরে। বাজার নিয়ন্ত্রণে তেমন কোন পদক্ষেপ না থাকায় কৃত্রিম সংকটের অজুহাতে ব্যবসায়িরা সকল
পন্যের দাম বৃদ্ধি করে। সে সময় প্রশাসন বাজার দর নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানালেও অজ্ঞাত কারনে তা করেন নি।

অপর একটি আলোচনা ছিল গাংনী বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ফোরলেন বাস্তবায়ন। জেলা পরিষদ থেকে লীজ নেয়া যাত্রী ছাউনিতে ফলের দোকান করেন মেসার্স মালেক স্টোর। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান না সরিয়ে
সরকারের নামে মামলা করায় ফোরলেন বাস্তবায়ন থমকে যায়। এনিয়ে মানব বন্ধন ও মিছিল মিটিং করেন স্থানীয় জনগন। পরে মালেক স্টোর স্থানান্তর হলেও আরেক ফল ব্যবসায়িকে হঠাতে পারেনি সংশ্লিষ্ট
কর্তৃপক্ষ। ফলে ফোরলেন বাস্তবায়ন এখনও সংকটে।

সারাদেশ

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা […]

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৫ জুলাই ২০২৬, ২১:২০

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা খাইয়ো না। তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না। একপর্যায়ে তিনি শিক্ষার্থীদের পা ধরে শান্ত থাকার অনুরোধ জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মানববন্ধনের সময় শিক্ষার্থীরা বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় মোহাম্মদ মহসিন আন্দোলন থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটা আমার বদলির অংশ। আমি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেবো না। এরপর তিনি আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা আমাদের শিক্ষকদের কোনো ক্ষতি হতে দেব না। স্যার সরকারি চাকরিজীবী। চাকরি নিয়ে শঙ্কা থেকেই তিনি আমাদের সামনে কান্না করেছেন। সামান্য বৃষ্টির পানিকে ইস্যু করে একসঙ্গে সাতজন শিক্ষককে বদলি করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, এই মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে যদি শিক্ষকদের ওপর কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হয়, তাহলে আন্দোলন শুধু মহিলা কলেজে সীমাবদ্ধ থাকবে না, প্রয়োজন হলে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বৃষ্টির পানি কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ সাতজন শিক্ষককে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীরা ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন এবং বদলির আদেশ পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে আসছেন।

সারাদেশ

আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’, পরিচয় দেন রাজুর স্ত্রী হিসেবে

কুমিল্লায় ধর্ষণ ও হত্যার শিকার স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) মৃত্যুর আগে কক্সবাজারে অবস্থানের নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সেখানকার একটি আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তার নাম লেখা হয়েছিল ‘তানজু আক্তার’। বয়স দেখানো হয় ১৮ বছর। আর সঙ্গে থাকা রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুকে পরিচয় দেওয়া হয় তার স্বামী হিসেবে। হোটেলের রেজিস্টার, সিসিটিভি ফুটেজ এবং রিয়াজের পরিচিত ব্যক্তিদের দেওয়া […]

আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’, পরিচয় দেন রাজুর স্ত্রী হিসেবে

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৮

কুমিল্লায় ধর্ষণ ও হত্যার শিকার স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) মৃত্যুর আগে কক্সবাজারে অবস্থানের নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সেখানকার একটি আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তার নাম লেখা হয়েছিল ‘তানজু আক্তার’। বয়স দেখানো হয় ১৮ বছর। আর সঙ্গে থাকা রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুকে পরিচয় দেওয়া হয় তার স্বামী হিসেবে।

হোটেলের রেজিস্টার, সিসিটিভি ফুটেজ এবং রিয়াজের পরিচিত ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য থেকে তাজমিনের কক্সবাজারে অবস্থান ও বাড়ি ফেরার আগের ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে এসব তথ্য জানা গেছে।

হোটেলের রেজিস্টার অনুযায়ী, গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে কক্সবাজারের কলাতলীতে কুটুমবাড়ি-সংলগ্ন সড়কের শেষ মাথায় অবস্থিত একটি তিনতলা আবাসিক হোটেলের ৩০২ নম্বর কক্ষে ওঠে তাজমিন ও রিয়াজ। সেখানে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’ এবং বয়স ১৮ বছর উল্লেখ করা হয়। রিয়াজের ঠিকানা হিসেবে বান্দরবানের লামা এলাকার তথ্য দেওয়া হয়। তার বাবার নাম লেখা হয় মনির আহমদ।

হোটেলের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এক রাত অবস্থানের পর ৭ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে তারা হোটেল ছেড়ে চলে যান। রেজিস্টারে রিয়াজের দুটি মুঠোফোন নম্বর ও একটি জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বরও পাওয়া গেছে।

তথ্য অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর হোটেল ছাড়ার পর রিয়াজ তাজমিনকে কুমিল্লাগামী একটি বাসে তুলে দেন। এরপর বাড়ি ফেরার পথে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠে তাজমিন। অভিযোগ অনুযায়ী, অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করেন।

পরদিন ৮ অক্টোবর সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার ভোরালজগপুর উত্তরপাড়া গ্রামের একটি ধানক্ষেতের আইল থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় করা হত্যা মামলায় সিএনজিচালক সুমন মিয়াকে (৩৫) চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোন উদ্ধার করা হয়।

রিয়াজের এক সহকর্মীর দাবি, ঘটনার প্রায় ১৭ দিন আগে ফেসবুকের মাধ্যমে তাজমিনের সঙ্গে রিয়াজের পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। পরে তাজমিন কক্সবাজারে গেলে তারা একসঙ্গে সময় কাটান।

তবে রিয়াজের ঘনিষ্ঠ অন্য একটি সূত্রের দাবি, প্রায় পাঁচ মাস আগে তাদের পরিচয় হয়েছিল এবং এরপর থেকে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল।

তাজমিনের বাড়ি ছাড়ার বিষয়ে জানা যায়, গত ৪ অক্টোবর এক বান্ধবীকে হাতঘড়ি দেওয়া নিয়ে মায়ের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। এরপর সে বাড়ি থেকে বের হয়ে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক বান্ধবীর কাছে যায়।

সেখান থেকে মুঠোফোনে রিয়াজের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে কক্সবাজারে আসতে বলা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। যাতায়াতের খরচ হিসেবে রিয়াজ বিকাশের মাধ্যমে ৫০০ টাকা পাঠিয়েছিলেন বলেও জানা গেছে।

সহকর্মী জানান, কক্সবাজার থেকে ফেরার জন্য ‘আইকনিক এক্সপ্রেস’ পরিবহনের একটি বাসের টিকিট কিনে তাজমিনকে তুলে দেন রিয়াজ। টিকিটের মূল্য ছিল ৯০০ টাকা।

ওই সহকর্মীর ভাষ্য অনুযায়ী, কুমিল্লায় পৌঁছে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠার পরও তাজমিনের সঙ্গে রিয়াজের মুঠোফোনে যোগাযোগ হচ্ছিল। এমনকি অটোরিকশাচালক সম্পর্কে কিছু তথ্যও রিয়াজকে জানিয়েছিল তাজমিন।

তবে রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে তাজমিনের মুঠোফোনের লাইভ লোকেশন বন্ধ হয়ে যায়। এরপর তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেন ওই সহকর্মী।

পরদিন টেলিভিশনের সংবাদে তাজমিনের হত্যার খবর জানতে পেরে রিয়াজ হতবাক হয়ে পড়েন বলেও জানান তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রিয়াজের এক সহকর্মী আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের খবর প্রকাশের পর রিয়াজ তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। এ সময় তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে সহযোগিতা চান। তাজমিনের হত্যার সঙ্গে নিজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

ওই সহকর্মীর তথ্য অনুযায়ী, রিয়াজ প্রায় তিন বছর ধরে কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলে কাজ করছেন। ঘটনার পর তিনি কর্মস্থল থেকে ছুটিতে রয়েছেন।

এদিকে রিয়াজের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য সরাসরি জানা সম্ভব হয়নি।

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, তাজমিন হত্যার ঘটনায় মুঠোফোনের কললিস্টসহ বিভিন্ন তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার আসামি হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তদন্ত শেষ হলে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ও পরিষ্কার হবে।

তবে তাজমিনের কক্সবাজারে অবস্থান, হোটেলের রেজিস্টারে ভিন্ন নাম ও বয়স ব্যবহার এবং রিয়াজের সঙ্গে তার যোগাযোগের বিষয়গুলো তদন্তে কীভাবে বিবেচিত হচ্ছে, তা এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি।

সারাদেশ

শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধা, চাঁদা দাবির অভিযোগ

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধার ঘটনা ঘটেছে। পড়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবার। ঘটনাটি ঘটেছে শাহজাদপুর পৌর শহরের বাড়াবিল শিমুলপাড়া মহল্লার প্রবাসী মোঃ তারেক রহমানের বাড়িতে। তারেক রহমান ওই গ্রামের মোঃ দেরাজ প্রামানিকের ছেলে। অভিযুক্তরা তাদের প্রতিবেশী আনসার প্রামাণিক ও তার তিন ছেলে রোশনাই, আল মাহমুদ ও […]

শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধা, চাঁদা দাবির অভিযোগ

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৯ জুলাই ২০২৬, ২২:০৮

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধার ঘটনা ঘটেছে। পড়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবার।

ঘটনাটি ঘটেছে শাহজাদপুর পৌর শহরের বাড়াবিল শিমুলপাড়া মহল্লার প্রবাসী মোঃ তারেক রহমানের বাড়িতে। তারেক রহমান ওই গ্রামের মোঃ দেরাজ প্রামানিকের ছেলে। অভিযুক্তরা তাদের প্রতিবেশী আনসার প্রামাণিক ও তার তিন ছেলে রোশনাই, আল মাহমুদ ও আলম।

আজ বুধবার দুপুরে সরেজমিনে ভুক্তভোগী প্রবাসী তারেক রহমানের বাড়িতে গেলে তারা অভিযোগ করে বলেন। বাড়ির কাজ করার জন্য ইট ও রড নিয়ে আসার সময় অভিযুক্তরা বাঁধা দেয়। এসময় তারা আমাদের জায়গা দিয়ে বাড়ির পেছনে অবস্থিত জলাশয়ে যাওয়ার রাস্তা দাবি করেন।

পরে এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে বাড়ীর পূর্ব পাশের দেয়াল ভেঙে তাদের রাস্তা দেওয়া হয়। আজ তাদের বাড়ির সামনে দিয়ে শ্রমিকরা আসার সময় তারা বাধা দেয় ও গালাগালি করলে শ্রমিকরা ফিরে যায়। পরে আমরা বিষয়টি জানতে গেলে আমাদের সাথেও দুর্ব্যবহার করে এবং অসুস্থ দেরাজ প্রামানিককে ধাক্কা দেয়।

এসময় তারা আরো বলেন, আনসার প্রামাণিক ও তার ছেলেরা এখন বাড়ির মাঝ দিয়ে রাস্তা চায়। নাহলে তারা আমাদের বাঁড়ি করতে দিবে না। এছাড়া লোক মারফত আমাদের কাছে ১ লাখ টাকা দাবি করেছে, টাকা দিলে আর বাধা দিবে না।

এই ঘটনায় আনসার প্রামাণিক ও তার ছেলে আল মাহমুদ ও রোশনাই বলেন, আমাদের জায়গা দিয়ে রাস্তা হয়েছে তাদের বাড়ি দিয়েও রাস্তা দেয়ার কথা ছিল এবং সেই মোতাবেক খুঁটি লাগানো ছিল। এখন বাড়ির মাঝখান দিয়ে রাস্তা না দিলে আমরা যেতে দেবো না।