মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

শিক্ষাঙ্গন

‎কুবি শিক্ষার্থী ফারজানার মরদেহ উদ্ধার, স্বামীসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা

রাফি হোসেন, ‎কুবি প্রতিনিধি: ‎নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ভাড়া বাসা থেকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ফার্মেসি বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফারজানা ইসলামের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্বামী নাজমুল আলমসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন তাঁর বাবা। ‎সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিষয়টি নিশ্চিত করেন ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গাজী সুমন মাহতাব। ‎মামলায় অভিযুক্ত অন্যরা হলেন— […]

‎কুবি শিক্ষার্থী ফারজানার মরদেহ উদ্ধার, স্বামীসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৭ অক্টোবর ২০২৬, ২৩:০১

রাফি হোসেন, ‎কুবি প্রতিনিধি:

‎নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ভাড়া বাসা থেকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ফার্মেসি বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফারজানা ইসলামের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্বামী নাজমুল আলমসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন তাঁর বাবা।

‎সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিষয়টি নিশ্চিত করেন ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গাজী সুমন মাহতাব।

‎মামলায় অভিযুক্ত অন্যরা হলেন— আব্দুর রহিম (৫০), আফরোজা বেগম (৪৫), সায়মা আক্তার (২৫), রাসেল (৪২), সাইফুল আলম (৩৬) ও রোকেয়া বেগম (৬৮)। তাঁদের সবার বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার নূরপুরের তালুকদার বাড়ি এলাকায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

‎মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে নাজমুল আলমের সঙ্গে ফারজানার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে নাজমুল ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা ফারজানার কাছে যৌতুক দাবি করে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন বলে অভিযোগ করেছেন তাঁর বাবা। এ নিয়ে পারিবারিকভাবে সমঝোতার চেষ্টা করেও সাড়া না পেয়ে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আদালতে একটি সিআর মামলা করেন। পরে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে ফারজানা আবার স্বামীর সঙ্গে সংসার শুরু করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

‎এজাহারে আরও বলা হয়, গত ২০ অক্টোবর ফারজানা স্বামীর ফতুল্লার ভাড়া বাসায় যান। ২৪ অক্টোবর সন্ধ্যার পর দাম্পত্য বিষয় ও আগের মামলা নিয়ে তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয় বলে বাড়ির অন্য ভাড়াটিয়া ও স্থানীয়দের কাছ থেকে জানতে পারেন তাঁর বাবা। এ সময় নাজমুল তাঁকে কটূক্তি করেন এবং সংসার করতে ভালো না লাগলে আত্মহত্যা করে মারা যেতে বলেন বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।

‎এজাহার অনুযায়ী, ওই দিন রাত ৯টার দিকে ফারজানার স্বামীর ভগ্নিপতি আব্দুর রহিম ফোন করে তাঁকে জানান, ফারজানা শয়নকক্ষে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে শাড়ি পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়েছেন। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা বাসায় গিয়ে তাঁর মরদেহ দেখতে পান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

‎ফারজানার বাবা এজাহারে আরও দাবি করেন, স্বামীর নির্যাতন ও প্ররোচনায় তাঁর মেয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। এজাহারে ফারজানার হাতে লেখা একটি চিরকুটের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

‎ফারজানা ইসলামের লেখা একটি চিরকুটের ছবি প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। এতে লেখা রয়েছে, ‘আমার মাকে তার কল না দেওয়া দোষের না, কিন্তু তার মাকে আমার কল না দেওয়া দোষের। উঠতে বসতে আমাকে খাবারের কোটা দেয়। আজকে সে আমাকে ফকিন্নি বললো, কারণ আমি তার টাকায় খাই। এর চেয়ে বেশি সহ্য করা আমার পক্ষে সম্ভব না। তার মায়ের বিচার যাতে আল্লাহ করে, যে দুইদিন পর পর আমার সংসারে ঝামেলা লাগাইছে। আর তার বড় বোন, ২য় বোন, ৩য় ভাইয়ের বিচার আল্লাহ যেন তাদের মেয়েদের মাধ্যমে করায়। আমাকে যাতে আমার বাড়িতে দাফন করা হয় এবং নাজমুল আলম যাতে আমার লাশ না ধরে। আব্বু, আম্মু, ভাই, ফয়সাল মাফ করে দিও আমাকে।’ যদিও ফারজানার ভাই আরিফুল ইসলামের দাবি এই চিঠিটা আড়াই মাসেরও বেশি আগের। নাজমুল যখন ফারজানার পরিবারের সাথে সমঝোতা করে তাকে বাড়িতে নিয়ে আসতে গিয়েছিলো তখনও এই চিঠিটাই দেখিয়েছিলো।

‎ফারজানার পরিবারের অভিযোগ, মামলা করার ক্ষেত্রে পুলিশ তাঁদের সহযোগিতা করেনি। ফারজানা ইসলামের বড় ভাই আরিফুল ইসলাম বলেন, “মামলা নেওয়ার ক্ষেত্রে পুলিশ আমাদের অসহযোগিতা করেছে। প্রথমে তারা মামলা নিতে চায়নি। পরে এসপির সঙ্গে কথা বলার পর মামলা নিতে রাজি হয়। শুরুতে তারা ছেলেপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী এজাহার লিখে ফেলছিল। আমি গিয়ে বলি, ‘আমাদের কথা না শুনে আপনারা কীভাবে মামলা করেন?’ পরে একজন পুলিশ আমাদের বলে এটাই এজহারের কথা কোন পরিবর্তন করতে পারবেন না৷ পরে এজাহারের প্রথম অংশ পরিবর্তন করতে পারলেও নিচের অংশ পরিবর্তন করা যাবে না বলে জানায় আনোয়ার নামের এক পুলিশ। লাশ বাড়িতে নেওয়ার জন্য দৌড়াদৌড়ির মধ্যে থাকায় এজাহারের বিষয়টি আমরা আর খেয়াল করতে পারিনি। তবে আমার মনে হয়, নিচের অংশটুকু ছেলেপক্ষের সঙ্গে সমঝোতা করে লেখা হয়েছে। আমাদের সন্দেহ, ছেলেপক্ষের সঙ্গে পুলিশের বড় অঙ্কের টাকা লেনদেন হয়েছে।”

‎ফারজানার পাশে পাওয়া চিরকুটের বিষয়ে আরিফুল ইসলাম বলেন, “চিঠিটি আড়াই মাসেরও অনেক আগের লেখা। নাজমুল যখন ফারজানাকে সমঝোতার মাধ্যমে সংসারে ফিরিয়ে নিতে এসেছিল, তখন সে আমাকে চিঠিটি দেখিয়েছিল। তখন নাজমুল বলেছিলো চিঠিটা আরও অনেক আগের। প্রথমে আমরা লাশের পাশে কোনো চিঠি পাইনি। পুলিশকেও চিঠি উদ্ধার করতে দেখিনি। পরে আরিফুলের পরিবারের সদস্যরা পুলিশের সঙ্গে বসার কিছুক্ষণ পর পুলিশ জানায়, ফারজানার পাশে একটি চিরকুট পাওয়া গেছে।”

‎এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও উক্ত মামলা তদন্ত কর্মকর্তা গাজী সুমন মাহতাব বলেন, “৩০৬ ধারায় আত্মহত্যার প্ররোচনায় মামলা হয়েছে। আমরা প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করেছি। তদন্তে আরও কোনো আসামির নাম উঠে এলে তাঁদেরও গ্রেপ্তার করব। আমরা প্রাথমিকভাবে এটিকে আত্মহত্যা মনে করছি। যদি এটি পরিকল্পিত হত্যা হয়ে থাকে, তাহলে ময়নাতদন্তে তা উঠে এলে আবার মামলা হবে।”

‎মামলা নিতে অসহযোগিতার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, “এটা তাদের ভুল ধারণা। উল্টো আমি তাদের ফোন করে পাচ্ছি না। ফোন দিয়ে আমরা তাদের থানায় আনতে পারছিলাম না, এখন বলছে আমরা মামলা নিচ্ছি না। পাবলিক অনেক কথা বলে, কিছু করার নেই। তাদের অনেকগুলো ফোন দেওয়ার পরও দুই ঘণ্টা পর আসে।”

‎উল্লেখ্য, গত ২৪ অক্টোবর রাতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় স্বামীর ভাড়া বাসা থেকে ফারজানা ইসলামের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তাঁর স্বামী ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের ২০১৬–১৭ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী নাজমুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয় পুলিশ।

‎

শিক্ষাঙ্গন

সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনি প্রতিকার চেয়ে শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডি করেন ঢাবি শিক্ষিকা মোনামি

ব্যক্তিগত সংবেদনশীল তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া ও হুমকির মুখে থানায় জিডি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)। রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে তিনি এই জিডি করেন। তার দায়ের করা এই জিডির নম্বর ২০৩৮। জিডি সূত্রে জানা যায়, অনুমতি ছাড়া ফেসবুকে তার মোবাইল নম্বর, ইমেইল ঠিকানা ও বাসার ঠিকানা পোস্ট […]

সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনি প্রতিকার চেয়ে শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডি করেন ঢাবি শিক্ষিকা মোনামি

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

৩১ আগস্ট ২০২৬, ০০:৩৯

ব্যক্তিগত সংবেদনশীল তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া ও হুমকির মুখে থানায় জিডি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)।

রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে তিনি এই জিডি করেন। তার দায়ের করা এই জিডির নম্বর ২০৩৮।

জিডি সূত্রে জানা যায়, অনুমতি ছাড়া ফেসবুকে তার মোবাইল নম্বর, ইমেইল ঠিকানা ও বাসার ঠিকানা পোস্ট করা হয়। এর পর থেকেই বিভিন্ন অচেনা নম্বর থেকে কল করে তাকে নানাভাবে বাজে কথা বলা ও হুমকি প্রদান করা হচ্ছে। বাসা সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ্যে আসায় তিনি নিজের বাসভবনে অবস্থান করাকে অনিরাপদ মনে করছেন। সার্বিক নিরাপত্তা ও বিষয়টির আইনি প্রতিকার চেয়ে তিনি শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডিটি দায়ের করেন।

এ ঘটনায় শাহবাগ থানা পুলিশ জানায়, ঘটনাটির তদন্ত শুরু হয়েছে এবং বিষয়টির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।

শিক্ষাঙ্গন

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী মেসে অস্ত্র নিয়ে অজ্ঞাত যুবকের প্রবেশ ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী নিজ মেসে হামলার শিকার হয়েছেন। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোররাত আনুমানিক ৪টার দিকে শাহজাদপুর পৌর এলাকার একটি ছাত্রী মেসে এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী অনিকা তাবাসসুম বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অষ্টম ব্যাচের শিক্ষার্থী। মেসের অন্যান্য শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোররাতে অজ্ঞাত […]

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী মেসে অস্ত্র নিয়ে অজ্ঞাত যুবকের প্রবেশ ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:৩৮

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী নিজ মেসে হামলার শিকার হয়েছেন।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোররাত আনুমানিক ৪টার দিকে শাহজাদপুর পৌর এলাকার একটি ছাত্রী মেসে এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী অনিকা তাবাসসুম বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অষ্টম ব্যাচের শিক্ষার্থী।

মেসের অন্যান্য শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোররাতে অজ্ঞাত এক যুবক ধারালো অস্ত্র হাতে অনিকার কক্ষে প্রবেশ করে। অনৈতিক উদ্দেশ্যে যুবকটি এগোলে অনিকা সাহসিকতার সাথে বাধা দেন।

এ সময় উভয়ের মধ্যে হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তি হয়। অনিকার আত্মরক্ষা ও চিৎকারের মুখে পরিস্থিতি প্রতিকূলে দেখে হামলাকারী যুবক দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। ধস্তাধস্তির ফলে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মুখ, গলা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক আঘাত ও ক্ষতের দাগ পড়েছে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শাহজাদপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রাথমিক তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে একজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে। তবে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী অনিকার দেওয়া বিবরণ ও জবানবন্দির সাথে আটক ব্যক্তির চেহারার কোনো মিল না থাকায় যাচাই-বাছাই শেষে তাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

এ বিষয়ে স্থানীয় থানা পুলিশ জানায়, “ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বর্ণনা অনুযায়ী মূল অপরাধীকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। দ্রুতই তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।”

ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিরাপত্তার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা অতি দ্রুত মূল অপরাধীকে গ্রেফতার এবং মেস এলাকায় স্থায়ী নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিশ্চিত করেছে যে, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পাশে তারা রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখছে।

শিক্ষাঙ্গন

ঢাবি শিক্ষক তাসনিম সিরাজকে এবার লাল কার্ড দেখালেন শিক্ষার্থীরা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুবের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক, অপমানজনক ও দ্বিচারিতাপূর্ণ আচরণের অভিযোগ তুলে লাল কার্ড দেখিয়েছেন বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা। সোমবার (১২ অক্টোবর) তারা এ প্রতিবাদ জানান। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, নিকাব পরিহিত এক শিক্ষার্থীকে ‘ফান্ডামেন্টালিস্ট’ ও ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেওয়া এবং একই শ্রেণিকক্ষে ছয়জন ছাত্রকে এক বেঞ্চে বসতে দেখে তাঁদের ‘গে’ ও […]

ঢাবি শিক্ষক তাসনিম সিরাজকে এবার লাল কার্ড দেখালেন শিক্ষার্থীরা

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১২ অক্টোবর ২০২৬, ১৫:৪১

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুবের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক, অপমানজনক ও দ্বিচারিতাপূর্ণ আচরণের অভিযোগ তুলে লাল কার্ড দেখিয়েছেন বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা। সোমবার (১২ অক্টোবর) তারা এ প্রতিবাদ জানান।

শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, নিকাব পরিহিত এক শিক্ষার্থীকে ‘ফান্ডামেন্টালিস্ট’ ও ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেওয়া এবং একই শ্রেণিকক্ষে ছয়জন ছাত্রকে এক বেঞ্চে বসতে দেখে তাঁদের ‘গে’ ও ‘গরিব’ বলে মন্তব্য করার অভিযোগের প্রতিবাদে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। একই সঙ্গে এসব আচরণের সমর্থকদের বিরুদ্ধেও প্রতীকী প্রতিবাদ জানান তাঁরা।

কর্মসূচির মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘Red Card to Racist, Classist and Hypocrite’ এবং ‘Red Card to Those Who Support Discrimination, Humiliation and Bullying’। শিক্ষার্থীরা জানান, বৈষম্য, অপমান ও হয়রানির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার পাশাপাশি এসব আচরণকে সমর্থনকারীদেরও তাঁরা প্রত্যাখ্যান করছেন।

এ বিষয়ে ইংরেজি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ নায়েম বলেন, তাসনিম সিরাজ মাহবুব ম্যাম ইংরেজি বিভাগের একজন শিক্ষার্থী নেকাব করায় তাকে Fundamentalist এবং সন্ত্রাসী বলে অবিহিত করেন। এছাড়াও, তিনি একই ক্লাসে ছেলেদের ৬ জন এক বেঞ্চে বসায় ‘গে’ এবং ‘গরিব’ বলে অবিহিত করেন। পরবর্তীতে তিনি তার ফেইসবুক লাইভে এগুলোর কোন কিছু এড্রেস না করে এক পাক্ষিক এআই নির্ভর বিবৃতি দেন৷

তিনি আরও বলেন, আমরা লক্ষ্য করেছি সামিনা লুৎফা, শিক্ষক নেটওয়ার্ক এবং তার অন্যান্য অনুসারী তাকে নির্লজ্জভাবে ডিফেন্ড করেছেন এবং শিক্ষার্থীদের মূল অপরাধী হিসেবে প্রোট্রে করার চেষ্টা করছেন। আজকের প্রতিকী প্রতিবাদ তাদের সকলের বিরুদ্ধে।

এ বিষয়ে ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. তাজিন আজিজ চৌধুরী বলেন, বিষয়টি এই মুহূর্তে নিশ্চিত করে বলা সম্ভব হচ্ছে না,আমি এই মূহুর্তে অফিসে নাই। তবে শিক্ষার্থীরা যদি এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ দিয়ে থাকে, তবে তা দেখে বিষয়টি সম্পর্কে জানা সম্ভব হবে। এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

উল্লেখ্য, গত ৭ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের একটি শ্রেণিকক্ষে নিকাব পরিহিত এক শিক্ষার্থীকে ‘ফান্ডামেন্টালিস্ট’ ও ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে সহকারী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুবের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। পরে ৮ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাঁকে সাময়িকভাবে সব ধরনের ক্লাস কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেয়।