মো: বনি আহাম্মেদ ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি
ঐহিত্যবাহী ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ ( জেসিসি) হলো বাংলাদেশের ঝিনাইদহ জেলার শহরতলীতে অবস্থিত একটি ইংরেজি ভাষার সামরিক আবাসিক বিদ্যালয় । বাংলাদেশের বারোটি ক্যাডেট কলেজের মধ্যে এটি অন্যতম। এই ক্যাডেট কলেজে বিজ্ঞান ও মানবিক বিভাগ রয়েছে। ১৯৬৩ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর আবদুল মোনেম খান কলেজটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করছেন। ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ দেশের বারোটি বিশেষায়িত আবাসিক সরকারি বিদ্যালয়ের মধ্যে অন্যতম। কলেজটি ১৯৬৩ সালের ১৮ই অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৯৬৪ সালে এই কলেজে প্রথম শিক্ষার্থী ভর্তি শুরু হয়। পুরোনোর দিক থেকে এই ক্যাডেট কলেজ দেশের সকল ক্যাডেট কলেজের মধ্যে দ্বিতীয়। এটি ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া মহাসড়কের পাশে অবস্থিত, ঝিনাইদহ শহর থেকে দুই কিলোমিটার উত্তরে এর অবস্থান।
ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ ক্যাম্পাসের আয়তন ১০৩ একর (৪২ হেক্টর)। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মূলমন্ত্র “জ্ঞানীরা বিচক্ষণ”, যা কলেজের পতাকার মাঝখানে খোদিত আরবি লেখা থেকে সংগৃহীত। কলেজের পতাকার রঙ গাঢ় সবুজ। কলেজের পতাকায় পটভূমি হিসেবে গাঢ় সবুজ রঙ রয়েছে এবং সেখানে রয়েছে সশস্ত্র বাহিনীর তিনটি রঙ । এখানে ক্যাডেটদের থাকার জন্য দোতলা তিনটি ভবন রয়েছে।
এই ভবনগুলোর নাম দেওয়া হয়েছে মুহাম্মদের (সা.) যুগে সংঘটিত ইসলামের তিনটি ঐতিহাসিক যুদ্ধের নামে। জেসিসিতে থাকাকালে ক্যাডেটদের নিজ নিজ ভবনের সাথেও পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া, এই প্রতিষ্ঠানের সকল প্রতিযোগিতা মূলত ভবন ভিত্তিক হয়ে থাকে। ক্যাডেটদের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব তৈরিতে ভবনগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। ক্যাডেটরাও তাদের ভবনের ভাবমূর্তি ও সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালায়।
প্রতিষ্ঠার ক্রম অনুসারে ভবনগুলো হলো: বদর হাউস: সবচেয়ে পুরোনো ভবন। ভবনের রঙ: “সবুজ”, ভবনের মূলমন্ত্র: “কর্মে চির উজ্জ্বল”। খাইবার হাউস: ভবনের রঙ: “নীল”, ভবনের মূলমন্ত্র: “কাজের প্রতি কঠোর নিষ্ঠা” হুনাইন হাউস: ভবনের রঙ: “লাল”, ভবনের মূলমন্ত্র: “ধ্যানে একাগ্রতা” ভর্তি ১১ থেকে ১৩ বছর ৬ মাস বয়সে শিক্ষার্থীদের সপ্তম শ্রেণিতে (৭ম গ্রেড) ভর্তি করা হয়। নির্বাচন প্রক্রিয়াটি কঠোর,এর মধ্যে লিখিত পরীক্ষা, মৌখিক পরীক্ষা এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষা অন্তর্ভুক্ত।
নির্বাচিত সেরা ৫০ জন শিক্ষার্থী দ্বাদশ শ্রেণি (উচ্চ মাধ্যমিক) পর্যন্ত পড়াশোনা করবে। ক্যাডেট কলেজটি সম্পূর্ণ আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ক্যাডেটরা বছরে মোট ৯০ দিনের চারটি ছুটি পায়, যাকে টার্ম ব্রেক বলা হয়। কলেজের পোশাক সকল ক্যাডেট (শিক্ষার্থী) পড়াশোনার সময়ে সামরিক একাডেমির ক্যাডেট অফিসারদের মতো ইউনিফর্ম, বিকেলের খেলাধুলার সময় হাফহাতা শার্ট এবং সন্ধ্যার প্রস্তুতি ও নৈশভোজের সময় টাইসহ লম্বা হাতার শার্ট পরিধান করে।
ক্যাডেট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী পোশাকের কিছু ভিন্নতাও রয়েছে। শিক্ষকরা পাঠদানকালে টাইসহ এক প্রকার প্রাতিষ্ঠানিক পোশাক পরে থাকেন। অবকাঠামো ক্যাডেট কলেজে একটি বড় একাডেমিক ভবন রয়েছে যেখানে ক্যাডেটরা ক্লাসের প্রস্তুতিমূলক পড়াশোনা করে। কলেজের ডাইনিং হলে প্রতিদিন পাঁচবার খাবার পরিবেশন করা হয়, এই ডাইনিং হলের ক্ষমতা ৩০০ থেকে ৪০০ জন। সাধারণত ক্যাডেটরা কলেজের মসজিদে মাগরিব ও জুমার নামাজ আদায় করে থাকে।
কলেজের সকল কর্মকর্তা কলেজ প্রাঙ্গণেই বসবাস করেন। অধ্যক্ষের একটি দোতলা বাসা আছে, আর উপাধ্যক্ষ, সহকারী শিক্ষক, চিকিৎসা কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের প্রত্যেকের একটি করে ভিলা আছে। খেলাধুলার জন্য এখানে পাঁচটি বাস্কেটবল, সাতটি ভলিবল, পাঁচটি ফুটবল, দুটি ক্রিকেট, একটি হকি, একটি টেনিস, একটি সুইমিং পুল, একটি স্কোয়াশ কোর্ট এবং একটি অ্যাথলেটিক্স গ্রাউন্ড রয়েছে।
খেলার মাঠটি কলেজের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত এবং এটি ঘাসযুক্ত মাঠ। বিকেলে উপরোক্ত খেলাগুলোর যেকোনো একটি খেলা বাধ্যতামূলক। ক্যাডেটদের জন্য বিশুদ্ধ দুগ্ধজাত পণ্য সরবরাহ করার একটি দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। হাসপাতাল, ব্যাংক, ডাকঘর, সেলুন, দর্জির দোকান ও কর্মশালা ক্যাডেটদের প্রয়োজনীয় পরিষেবা প্রদান করে থাকে। প্রতিটি টার্মের শুরুতে ও শেষে ক্যাডেটদের জন্য বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে।
ক্যাডেটদের সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের জন্য একটি অডিটোরিয়াম ও একটি লাইব্রেরি রয়েছে। এছাড়াও, তাদের জন্য রয়েছে ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব, কম্পিউটার ল্যাব এবং মাল্টিমিডিয়া ক্লাসের ব্যবস্থা।