শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্রে ঝুঁকিতে শ্রমিকের স্বাস্থ্য-নিরাপত্তা

সাব্বির হোসেন, লালমনিরহাট প্রতিনিধি  দেশের উত্তরাঞ্চলের মঙ্গাপীড়িত মানুষের জনপদে এখন বইছে সমৃদ্ধির বাতাস। লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থলবন্দরকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা পাথর শিল্প আজ কেবল একটি স্থানীয় ব্যবসা নয়, বরং জাতীয় অর্থনীতির এক অপরিহার্য চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছে। তবে এই অর্থনৈতিক জোয়ারের সমান্তরালে প্রকট হয়ে উঠছে পরিবেশ দূষণ, স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাব। ১৯৮৮ সালে ভারত, ভুটান […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

০১ মে ২০২৬, ১৭:৩১

সাব্বির হোসেন, লালমনিরহাট প্রতিনিধি 

দেশের উত্তরাঞ্চলের মঙ্গাপীড়িত মানুষের জনপদে এখন বইছে সমৃদ্ধির বাতাস। লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থলবন্দরকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা পাথর শিল্প আজ কেবল একটি স্থানীয় ব্যবসা নয়, বরং জাতীয় অর্থনীতির এক অপরিহার্য চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছে। তবে এই অর্থনৈতিক জোয়ারের সমান্তরালে প্রকট হয়ে উঠছে পরিবেশ দূষণ, স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাব।

১৯৮৮ সালে ভারত, ভুটান ও নেপালের সঙ্গে ত্রিদেশীয় বাণিজ্যের পথ প্রশস্ত করতে চালু হওয়া এই বন্দরটি বর্তমানে দেশের পাথর চাহিদার প্রায় ২৫% পূরণ করছে। প্রাপ্ত তথ্যমতে প্রতি মাসে প্রায় ১,২০০ থেকে ১,৫০০টি ট্রাকে করে ভারত, ভুটান ও নেপাল থেকে কয়লা, পাথর ও রাসায়নিক দ্রব্য আমদানি হচ্ছে।

আমদানির পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে ইলিশ মাছ ও জীবন রক্ষাকারী ওষুধ এই বন্দর দিয়ে রপ্তানি হচ্ছে। কাঁচা পাথর আমদানির পর তা যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ভেঙে ছোট টুকরো করে দেশজুড়ে সরবরাহ করা হচ্ছে, যা কাঁচামালের চেয়ে ১০-১২ গুণ বেশি মুনাফা নিশ্চিত করছে। স্থানীয় জমির মালিকরা ইজারার মাধ্যমে কৃষি কাজের চেয়ে বর্তমানে প্রায় ১০ গুণ বেশি আয় করছেন।

বুড়িমারীতে বর্তমানে প্রায় ১,২০০টি পাথর ভাঙার মেশিন বা ক্রাশার মিল রয়েছে। এই শিল্পকে কেন্দ্র করে প্রতিদিন প্রায় ৩০ হাজার শ্রমিকের বিশাল কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে, যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ (প্রায় ৪০%) নারী শ্রমিক।

শ্রমিক ইউনিয়নের তথ্যমতে, এখানে প্রতিদিন গড়ে ২০ লাখ টাকার শ্রমবাজার পরিচালিত হচ্ছে। তবে এই বিশাল কর্মযজ্ঞের নেপথ্যে রয়েছে বঞ্চনার গল্প। হাতীবান্ধার শ্রমিক বশির মিয়া জানান, “এলাকায় অন্য কাজ নেই বলে দিনে ৪০০-৬০০ টাকা মজুরিতে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছি।”

পাথর শিল্পকে কেন্দ্র করে বুড়িমারীতে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক ইকোসিস্টেম হাজার হাজার ট্রাক চলাচলের কারণে পরিবহন ব্যবসা ও তেলের পাম্পগুলোর রমরমা ব্যবসা। প্রতিদিন ৩০ হাজার মানুষের আনাগোনায় হোটেল, রেস্তোরাঁ ও ব্যাংকিং খাতে জোয়ার এসেছে। ঢাকার ব্যবসায়ী সারাফাত হোসেন বলেন, “সরকারি প্রণোদনা ছাড়াই আমরা এই শিল্পকে টিকিয়ে রেখেছি। সঠিক সহযোগিতা পেলে এটি দেশের অন্যতম বড় শিল্প অঞ্চল হতে পারে।”

উন্নয়নের এই চাকচিক্যের নিচে চাপা পড়ছে কৃষি ও জনস্বাস্থ্য। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হারুন মিয়ার মতে, প্রায় ৪০ হেক্টর উর্বর কৃষিজমি এখন পাথর ভাঙার মেশিনের দখলে। পাথর ভাঙার মিহি ধুলো আর মেশিনের বিকট শব্দে বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ছে পার্শ্ববর্তী এলাকা। শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা ফুসফুসের রোগ (সিলিকোসিস), শ্বাসকষ্ট ও চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। শ্রমিকরা রাস্তার ধারে খোলা আকাশের নিচে কোনো প্রকার মাস্ক বা নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়াই কাজ করছেন।

স্থানীয়দের দাবি, এই শিল্পকে টেকসই করতে হলে অবিলম্বে অবকাঠামো উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র স্থাপন এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শিল্পের উন্নয়ন ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় একটি সমন্বিত টেকসই পরিকল্পনা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের অভিমত উত্তরাঞ্চলকে দারিদ্রমুক্ত করতে বুড়িমারী স্থলবন্দর এক আশীর্বাদ। কিন্তু দূষণ রোধ এবং সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা নিশ্চিত করা না গেলে এই সম্ভাবনা অচিরেই অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে। সঠিক নীতিমালা ও বিনিয়োগ নিশ্চিত করা গেলে বুড়িমারী হতে পারে বাংলাদেশের অর্থনীতির “নতুন ইঞ্জিন”।

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।

সারাদেশ

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার […]

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

নিউজ ডেস্ক

২০ মে ২০২৬, ১০:১০

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয়

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে পল্লবী থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এন নজরুল ইসলাম ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য লামিসাকে খুঁজতে থাকেন তার মা। এক পর্যায়ে বাসার দরজার সামনে শিশুটির একটি জুতা পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। সন্দেহ থেকে পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় ধাক্কা দিতে থাকেন, কিন্তু দরজা ভেতর থেকে আটকানো ছিল। মায়ের চিৎকারে এলাকাবাসী এসে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে শিশু লামিসার মরদেহ দেখতে পায়। এ সময় মূল আসামি সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়।

এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সম্ভবত বাথরুমে শিশুটির সঙ্গে মূল আসামির অবৈধ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। আলামত সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠানো হয়েছে। শিশুটির সঙ্গে আসামির কোনো যৌন ক্রিয়া হয়েছে কি না তা পরবর্তীতে বিস্তারিত জানা যাবে।’

মরদেহ টুকরো করার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘পরবর্তীতে মরদেহ লুকানোর জন্যই সম্ভবত মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। হাত কেটে টুকরো করার চেষ্টাও করা হয়। কিন্তু শিশুটির মা দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করলে মূল আসামি জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি তিনি।’

প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, ধর্ষণের কারণে শিশুটির রক্তপাত শুরু হলে তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার পরিকল্পনা করেন অভিযুক্ত ব্যক্তি।’

গ্রেপ্তার সোহেল রানার চরিত্র সম্পর্কে পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে নাটোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে। তার স্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘তিনি সম্ভবত বিকৃত যৌনরুচিসম্পন্ন একটা লোক। তিনি তার স্ত্রীকেও বিভিন্নভাবে টর্চার করেছেন।’

ঘটনার পর প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের প্তুল্লা থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মিরপুর ১১ নম্বরের মিল্লাত ক্যাম্প সংলগ্ন বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। খবর পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ, সিআইডি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।