সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

এনসিপির ইফতার মাহফিলে প্রবেশ নিয়ে ছাত্রশক্তি-যুবশক্তির সংঘর্ষ, আহত ১০

রংপুরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বিভাগীয় ইফতার মাহফিলে প্রবেশ করা ঘিরে ছাত্রশক্তি ও যুবশক্তির মধ্যে দু্’দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এরমধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বুধবার (১১ মার্চ) মহানগরীর শহীদ আবু সাঈদ স্টেডিয়ামে ইফতারের আগে ও পরে এই সংঘর্ষ হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইফতারের আগে স্টেডিয়ামের গেটে পীরগাছা থেকে আসা ২ জন […]

এনসিপির ইফতার মাহফিলে প্রবেশ নিয়ে ছাত্রশক্তি-যুবশক্তির সংঘর্ষ, আহত ১০

এনসিপির ইফতার মাহফিলে প্রবেশ নিয়ে ছাত্রশক্তি-যুবশক্তির সংঘর্ষ, আহত ১০

নিউজ ডেস্ক

১২ মার্চ ২০২৬, ১১:১১

রংপুরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বিভাগীয় ইফতার মাহফিলে প্রবেশ করা ঘিরে ছাত্রশক্তি ও যুবশক্তির মধ্যে দু্’দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এরমধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

বুধবার (১১ মার্চ) মহানগরীর শহীদ আবু সাঈদ স্টেডিয়ামে ইফতারের আগে ও পরে এই সংঘর্ষ হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইফতারের আগে স্টেডিয়ামের গেটে পীরগাছা থেকে আসা ২ জন সিনিয়র সিটিজেনকে পাশ ছাড়াই প্রবেশ করান মহানগর এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব আলমগীর নয়ন। এর প্রতিবাদে তাকে গেটেই মারধোর করেন ছাত্রশক্তির নেতারা। এই দৃশ্য দেখে জেলা যুবশক্তির সংগঠক রাশেদুজ্জামান রাশেদ প্রতিবাদ করলে তাকে বেধড়ক পেটায় ছাত্রশক্তির নেতারা। এ নিয়ে প্রথমে দু’পক্ষের সংঘর্ষ হলেও উত্তেজনা প্রশমিত হয়।

ইফতারের পর যুবশক্তির নেতাকর্মীরা স্টেডিয়াম থেকে প্রবেশ গেট দিয়ে বের হওয়ার সময় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীদের সাথে ফের কথাকাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে বাঁধে সংঘর্ষ, শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। এতে যুবশক্তির সংগঠক রাশেদ, সিয়াম ফকির, আকাশ ইসলাম, মুহিত হাসান মীম, সীমান্তসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়। ভাঙচুর করা হয় টেবিল-চেয়ার। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় আাহতদের প্রথমে রংপুর মেডিকেল কলেজ, পরে কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ ও প্রাইম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে রাশেদের অবস্থা আশংকাজনক। তিনি রংপুর কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এনআাইসিইউতে ভর্তি আছেন। পরে বিষয়টি নিয়ে সার্কিট হাউজে এনসিপির আহ্বায়ক, সদস্য সচিবসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বসেন।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে মহানগর এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব আলমগীর নয়ন বলেন, ‘ আমাদের অভ্যন্তরীণ সম্মিলিত সিদ্ধান্ত ছিল পাশ কার্ড ছাড়াও যদি সিনিয়র সিটিজেন অথবা আমাদের কোন শুভাকাঙ্ক্ষী আসেন, তাহলে পরিচিতজন সার্টিফাই করলে তাকে ঢুকতে দেয়া হবে। সে হিসেবে আমি প্রবেশ গেটে এসে দেখতে পাই পীরগাছা থেকে দুজন সিনিয়র সিটিজেন এসেছেন। যারা এনসিপিকে নির্বাচনসহ বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা করেন। আমি আমার পরিচয়ে তাদেরকে ভেতরে প্রবেশ করাই। কিন্তু এরপরই আমাকে মারধোর করা হলেও আমি বিষয়টি চেপে যাই। কিন্তু একটু দুরে থাকা যুবশক্তির নেতারা দৌড়ে এসে প্রতিবাদ করলে ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীদের সাথে উত্তেজনা তৈরি হয়। তারা রাশেদকে ব্যাপক মারে। তারপর আমি বলি ইফতারের পর বিষয়টি মিমাংসা করে দিবো বলে জানাই। কিন্তু ইফতারের পর না বসতেই যুবশক্তির নেতাকর্মীরা বাইরে যাওয়ার সময় মহানগর ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা বাঁধা দিলে সংঘর্ষ বাঁধে। বিষয়টি খুবই দু:খজনক। আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। বিষয়টি দ্রুত সমাধানের চেস্টা করা হচ্ছে।’


এ ব্যপারে জাতীয় ছাত্রশক্তির রংপুর মহানগর আহবায়ক ইমতিয়াজ আহমেদ ইমতি বলেন, ‘বিষয়টি নিজেদের মধ্যে ভুলবোঝাবুঝির কারণে হয়েছিল। এখন আর কোন উত্তেজনা নাই। বিষয়টি সমঝোতা হয়েছে।’

ঘটনাস্থলে উপস্থিত রংপুর মহানগর পুলিশের কোতয়ালী জোনের এসি নজির আহমেদ বলেন, ‘ যেহেতু ইফতার মাহফিলটি বড় ছিল। আয়োজকদের পক্ষ থেকে আমন্ত্রন পত্র ছাপানো হয়েছিল। আমনন্ত্রণ পত্র ছাড়া কয়েকজন এসেছিলেন। তাদের প্রবেশ করা নিয়ে সেখানে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ নেতৃবৃন্দের সহযোগিতায় উত্তেজনা প্রশমিত করে। বর্তমানে পারিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

ইফতার মাহফিলের শেষ পর্যায়ে এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বক্তব্য শেষের পর দোয়া-মোনাজাত শুরু করা হলেও উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের ইফতার সরবরাহ করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হলে প্রায় শতাধিক গণমাধ্যমকর্মী ইফতার না করেই স্টেডিয়াম ত্যাগ করেন। কিন্তু কোথাও ইফতার ও পানি না পাওয়ায় তারা বিপাকে পড়েন। পরে তারা রংপুর ক্রিকেট গার্ডেনে আধাঘন্টার পর নিজেদের ব্যবস্থাপনায় ইফতার করেন সাংবাদিকরা। এনিয়ে বিব্রত রংপুরের সাংবাদিক সমাজ।

রংপুর সম্মিলিত সাংবাদিক সমাজের আহ্বায়ক লিয়াকত আলী বাদল জানান, ‘বিষয়টি খুবই বিব্রতকর। ইফতারের ব্যবস্থা করার সুযোগ না থাকলে সাংবাদিকদের আগেই সেটা জানিয়ে দিলে আমেন বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হতো না। সাংবাদিকদেরে এভাবে বিব্রত করা ঠিক হয়নি। এখন দেখা যাক এ বিষয়ে এনসিপি কী পদক্ষেপ নেন।’

সারাদেশ

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে […]

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২২:০৪

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে যাওয়ার পথে কুমিল্লার লাকসাম দক্ষিণ বাইপাস এলাকায় অবস্থিত ধামৈচা জামে মসজিদে জুমার নামাজের পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, বিশ্বজুড়ে চলমান এ অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতি কেবল আন্তর্জাতিক নয়, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার ওপরও চরম প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বিশ্বব্যাপী এই সংঘাত অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের পরিস্থিতি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ের চেয়েও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। আমাদের এখনই সচেতন হতে হবে।

বক্তব্যে তিনি দেশের জনগণকে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় মানসিকভাবে প্রস্তুত এবং আগাম সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সবাইকে ধৈর্য ও সচেতনতার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দেন হুইপ।

সারাদেশ

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ। ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার […]

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:৪৫

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ

স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ।

ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার পরপর স্বজনেরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

সেখানে তাদের অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, বর্তমানে ২টি শিশু ও তাদের মা সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর পূর্বে উল্লাপাড়া উপজেলার বালসাবাড়ি ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা মানিক চাঁদের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী তাকে নির্যাতন করতো। এই বিষয়ে একাধিকবার শালিস বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হয়। এর মধ্যেই তাদের ঘর আলো করে মুস্তাকিম ও মাহিম নামের দুই ছেলে সন্তান। পারিবারিক কলহের জের ধরেই স্বামীর সাথে ঝগড়ার পর আজ সকালে বাবার বাড়িতে অবস্থানকালে পাখি খাতুন প্রথমে নিজে কীটনাশক পান করে এবং পরে ২ ছেলেকে কীটনাশক পান করায়। পরে তারা যন্ত্রাণায় চিৎকার করলে স্বজনেরা দ্রুত তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার জানান, দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে ৪ বছর ও ৮ বছর বয়সী ২টি শিশু ও তাদের মা’কে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। পরে ৮ বছর বয়সী মুস্তাকিমকে ওয়াশ করা হয়, কীটনাশক পানের সময় বেশি হ‌ওয়ায় দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কীটনাশক পান করা ২টি শিশু ও তাদের মা’কে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।