রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

এনসিপির ইফতার মাহফিলে প্রবেশ নিয়ে ছাত্রশক্তি-যুবশক্তির সংঘর্ষ, আহত ১০

রংপুরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বিভাগীয় ইফতার মাহফিলে প্রবেশ করা ঘিরে ছাত্রশক্তি ও যুবশক্তির মধ্যে দু্’দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এরমধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বুধবার (১১ মার্চ) মহানগরীর শহীদ আবু সাঈদ স্টেডিয়ামে ইফতারের আগে ও পরে এই সংঘর্ষ হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইফতারের আগে স্টেডিয়ামের গেটে পীরগাছা থেকে আসা ২ জন […]

এনসিপির ইফতার মাহফিলে প্রবেশ নিয়ে ছাত্রশক্তি-যুবশক্তির সংঘর্ষ, আহত ১০

এনসিপির ইফতার মাহফিলে প্রবেশ নিয়ে ছাত্রশক্তি-যুবশক্তির সংঘর্ষ, আহত ১০

নিউজ ডেস্ক

১২ মার্চ ২০২৬, ১১:১১

রংপুরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বিভাগীয় ইফতার মাহফিলে প্রবেশ করা ঘিরে ছাত্রশক্তি ও যুবশক্তির মধ্যে দু্’দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এরমধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

বুধবার (১১ মার্চ) মহানগরীর শহীদ আবু সাঈদ স্টেডিয়ামে ইফতারের আগে ও পরে এই সংঘর্ষ হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইফতারের আগে স্টেডিয়ামের গেটে পীরগাছা থেকে আসা ২ জন সিনিয়র সিটিজেনকে পাশ ছাড়াই প্রবেশ করান মহানগর এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব আলমগীর নয়ন। এর প্রতিবাদে তাকে গেটেই মারধোর করেন ছাত্রশক্তির নেতারা। এই দৃশ্য দেখে জেলা যুবশক্তির সংগঠক রাশেদুজ্জামান রাশেদ প্রতিবাদ করলে তাকে বেধড়ক পেটায় ছাত্রশক্তির নেতারা। এ নিয়ে প্রথমে দু’পক্ষের সংঘর্ষ হলেও উত্তেজনা প্রশমিত হয়।

ইফতারের পর যুবশক্তির নেতাকর্মীরা স্টেডিয়াম থেকে প্রবেশ গেট দিয়ে বের হওয়ার সময় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীদের সাথে ফের কথাকাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে বাঁধে সংঘর্ষ, শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। এতে যুবশক্তির সংগঠক রাশেদ, সিয়াম ফকির, আকাশ ইসলাম, মুহিত হাসান মীম, সীমান্তসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়। ভাঙচুর করা হয় টেবিল-চেয়ার। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় আাহতদের প্রথমে রংপুর মেডিকেল কলেজ, পরে কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ ও প্রাইম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে রাশেদের অবস্থা আশংকাজনক। তিনি রংপুর কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এনআাইসিইউতে ভর্তি আছেন। পরে বিষয়টি নিয়ে সার্কিট হাউজে এনসিপির আহ্বায়ক, সদস্য সচিবসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বসেন।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে মহানগর এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব আলমগীর নয়ন বলেন, ‘ আমাদের অভ্যন্তরীণ সম্মিলিত সিদ্ধান্ত ছিল পাশ কার্ড ছাড়াও যদি সিনিয়র সিটিজেন অথবা আমাদের কোন শুভাকাঙ্ক্ষী আসেন, তাহলে পরিচিতজন সার্টিফাই করলে তাকে ঢুকতে দেয়া হবে। সে হিসেবে আমি প্রবেশ গেটে এসে দেখতে পাই পীরগাছা থেকে দুজন সিনিয়র সিটিজেন এসেছেন। যারা এনসিপিকে নির্বাচনসহ বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা করেন। আমি আমার পরিচয়ে তাদেরকে ভেতরে প্রবেশ করাই। কিন্তু এরপরই আমাকে মারধোর করা হলেও আমি বিষয়টি চেপে যাই। কিন্তু একটু দুরে থাকা যুবশক্তির নেতারা দৌড়ে এসে প্রতিবাদ করলে ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীদের সাথে উত্তেজনা তৈরি হয়। তারা রাশেদকে ব্যাপক মারে। তারপর আমি বলি ইফতারের পর বিষয়টি মিমাংসা করে দিবো বলে জানাই। কিন্তু ইফতারের পর না বসতেই যুবশক্তির নেতাকর্মীরা বাইরে যাওয়ার সময় মহানগর ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা বাঁধা দিলে সংঘর্ষ বাঁধে। বিষয়টি খুবই দু:খজনক। আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। বিষয়টি দ্রুত সমাধানের চেস্টা করা হচ্ছে।’


এ ব্যপারে জাতীয় ছাত্রশক্তির রংপুর মহানগর আহবায়ক ইমতিয়াজ আহমেদ ইমতি বলেন, ‘বিষয়টি নিজেদের মধ্যে ভুলবোঝাবুঝির কারণে হয়েছিল। এখন আর কোন উত্তেজনা নাই। বিষয়টি সমঝোতা হয়েছে।’

ঘটনাস্থলে উপস্থিত রংপুর মহানগর পুলিশের কোতয়ালী জোনের এসি নজির আহমেদ বলেন, ‘ যেহেতু ইফতার মাহফিলটি বড় ছিল। আয়োজকদের পক্ষ থেকে আমন্ত্রন পত্র ছাপানো হয়েছিল। আমনন্ত্রণ পত্র ছাড়া কয়েকজন এসেছিলেন। তাদের প্রবেশ করা নিয়ে সেখানে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ নেতৃবৃন্দের সহযোগিতায় উত্তেজনা প্রশমিত করে। বর্তমানে পারিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

ইফতার মাহফিলের শেষ পর্যায়ে এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বক্তব্য শেষের পর দোয়া-মোনাজাত শুরু করা হলেও উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের ইফতার সরবরাহ করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হলে প্রায় শতাধিক গণমাধ্যমকর্মী ইফতার না করেই স্টেডিয়াম ত্যাগ করেন। কিন্তু কোথাও ইফতার ও পানি না পাওয়ায় তারা বিপাকে পড়েন। পরে তারা রংপুর ক্রিকেট গার্ডেনে আধাঘন্টার পর নিজেদের ব্যবস্থাপনায় ইফতার করেন সাংবাদিকরা। এনিয়ে বিব্রত রংপুরের সাংবাদিক সমাজ।

রংপুর সম্মিলিত সাংবাদিক সমাজের আহ্বায়ক লিয়াকত আলী বাদল জানান, ‘বিষয়টি খুবই বিব্রতকর। ইফতারের ব্যবস্থা করার সুযোগ না থাকলে সাংবাদিকদের আগেই সেটা জানিয়ে দিলে আমেন বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হতো না। সাংবাদিকদেরে এভাবে বিব্রত করা ঠিক হয়নি। এখন দেখা যাক এ বিষয়ে এনসিপি কী পদক্ষেপ নেন।’

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।

সারাদেশ

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার […]

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

নিউজ ডেস্ক

২০ মে ২০২৬, ১০:১০

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয়

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে পল্লবী থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এন নজরুল ইসলাম ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য লামিসাকে খুঁজতে থাকেন তার মা। এক পর্যায়ে বাসার দরজার সামনে শিশুটির একটি জুতা পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। সন্দেহ থেকে পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় ধাক্কা দিতে থাকেন, কিন্তু দরজা ভেতর থেকে আটকানো ছিল। মায়ের চিৎকারে এলাকাবাসী এসে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে শিশু লামিসার মরদেহ দেখতে পায়। এ সময় মূল আসামি সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়।

এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সম্ভবত বাথরুমে শিশুটির সঙ্গে মূল আসামির অবৈধ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। আলামত সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠানো হয়েছে। শিশুটির সঙ্গে আসামির কোনো যৌন ক্রিয়া হয়েছে কি না তা পরবর্তীতে বিস্তারিত জানা যাবে।’

মরদেহ টুকরো করার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘পরবর্তীতে মরদেহ লুকানোর জন্যই সম্ভবত মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। হাত কেটে টুকরো করার চেষ্টাও করা হয়। কিন্তু শিশুটির মা দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করলে মূল আসামি জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি তিনি।’

প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, ধর্ষণের কারণে শিশুটির রক্তপাত শুরু হলে তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার পরিকল্পনা করেন অভিযুক্ত ব্যক্তি।’

গ্রেপ্তার সোহেল রানার চরিত্র সম্পর্কে পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে নাটোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে। তার স্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘তিনি সম্ভবত বিকৃত যৌনরুচিসম্পন্ন একটা লোক। তিনি তার স্ত্রীকেও বিভিন্নভাবে টর্চার করেছেন।’

ঘটনার পর প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের প্তুল্লা থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মিরপুর ১১ নম্বরের মিল্লাত ক্যাম্প সংলগ্ন বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। খবর পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ, সিআইডি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।