বুধবার, ০৬ মে ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

রাজধানী

জোবায়েদের বাঁচার আকুতিতে বর্ষার জবাব ‘তুমি না সরলে আমি মাহীরের হতে পারব না’

রাজধানীর পুরান ঢাকায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা জোবায়েদ হোসাইন হত্যাকাণ্ডে মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে উঠে এসেছে তার ছাত্রী ও প্রেমিকা বারজিস সাবনাম বর্ষার নাম। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেন বর্ষার প্রথম প্রেমিক মাহীর রহমান।

নিউজ ডেস্ক

২১ অক্টোবর ২০২৫, ১৫:০৭

রাজধানীর পুরান ঢাকায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা জোবায়েদ হোসাইন হত্যাকাণ্ডে মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে উঠে এসেছে তার ছাত্রী ও প্রেমিকা বারজিস সাবনাম বর্ষার নাম। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেন বর্ষার প্রথম প্রেমিক মাহীর রহমান।

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যার সময় ঘাতক মাহীরের ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত জোবায়েদ রক্তাক্ত অবস্থায় সিঁড়িতে লুটিয়ে পড়ে প্রাণভিক্ষা চাইলে বর্ষা ঠান্ডা মাথায় বলে ওঠে,

“তুমি না সরলে আমি মাহীরের হতে পারব না।”

কিছুক্ষণের মধ্যেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মারা যান ছাত্রদল নেতা জোবায়েদ।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এসএন নজরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, জোবায়েদ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং পুরান ঢাকার বংশাল থানার নুরবক্স লেনের একটি বাসায় টিউশন করতে যেতেন। সেখানে তার ছাত্রী বর্ষার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিন্তু একই সময়ে বর্ষা মাহীর রহমান নামের এক তরুণের সঙ্গেও সম্পর্কে ছিলেন। দুই সম্পর্কের টানাপোড়েনে পড়ে বর্ষা নিজেই হত্যার পরিকল্পনা সাজান।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনায় বর্ষা, তার প্রথম প্রেমিক মাহীর রহমান এবং মাহীরের বন্ধু ফারদিন আহমেদ আইলানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মাহীর স্বীকার করেছে, প্রথমে শুধু জোবায়েদকে ভয় দেখানোর পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু বর্ষার অনুরোধে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয় তারা।

২৬ সেপ্টেম্বর বর্ষা ও মাহীর পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে। পরে ১৯ অক্টোবর মাহীর ও আইলান ছুরি নিয়ে বর্ষার বাসায় অবস্থান নেয়। বর্ষা নিজেই শিক্ষক ও প্রেমিক জোবায়েদকে বাসায় আসতে বলেন। সেখানে পৌঁছানোর পর তাকে বর্ষা থেকে সরে যাওয়ার জন্য হুমকি দেওয়া হয়। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে মাহীর ছুরি দিয়ে গলায় আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই মারা যান জোবায়েদ।

অতিরিক্ত কমিশনার এসএন নজরুল ইসলাম জানান, মাহীর ও বর্ষা একই ভবনে ভাড়া থাকতেন এবং দেড় বছর ধরে প্রেমের সম্পর্কে ছিলেন। অন্যদিকে জোবায়েদ প্রায় এক বছর ধরে বর্ষাকে পড়াতেন। বর্ষা যখন যার সঙ্গে সম্পর্ক রাখতেন, তাকেই প্রাধান্য দিতেন। এই অবস্থায় মাহীরকে তিনি বলেন, “জোবায়েদকে না সরালে আমি তোমার হতে পারব না।” সেই কথাই পরিণত হয় হত্যার নৃশংস বাস্তবতায়।

তিনি আরও জানান, মাহীরকে গ্রেফতারে পুলিশের কৌশল ছিল আলাদা। পুলিশের চাপের মুখে মাহীরের মা তাকে থানায় হস্তান্তর করেন, যদিও এটি স্বেচ্ছায় নয়, বরং পুলিশের কৌশলগত পরিকল্পনার অংশ।

অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, “এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা পুরোপুরি বর্ষার। বরগুনার মিন্নি ঘটনার সঙ্গে এর মিল আছে। এখানে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই, এটি নিছক ত্রিভুজ প্রেমের পরিণতি।”

রাজধানী

পল্লবীতে জামায়াতের পোলিং অফিসারসহ ২ জনের কারাদণ্ড, কেন্দ্র থেকে বহিষ্কার

পল্লবীর মিরপুর শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে অবৈধভাবে প্রবেশ ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে জামায়াত সমর্থিত ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের দুই এজেন্টকে দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকালে অনিয়মের অভিযোগে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারা ফারজানা হক বুধবার এ দণ্ড দেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—মেহেদি হাসান খাদেম (৩২) ও রাইহান হোসেন (২৩)। অভিযোগ অনুযায়ী, নির্বাচনের আগের […]

পল্লবীতে জামায়াতের পোলিং অফিসারসহ ২ জনের কারাদণ্ড, কেন্দ্র থেকে বহিষ্কার

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২১:১৯

পল্লবীর মিরপুর শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে অবৈধভাবে প্রবেশ ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে জামায়াত সমর্থিত ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের দুই এজেন্টকে দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকালে অনিয়মের অভিযোগে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারা ফারজানা হক বুধবার এ দণ্ড দেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—মেহেদি হাসান খাদেম (৩২) ও রাইহান হোসেন (২৩)।

অভিযোগ অনুযায়ী, নির্বাচনের আগের রাতে ঢাকা-১৬ আসনের ওই কেন্দ্রে তারা নিয়মবহির্ভূতভাবে প্রবেশ করেন। তদন্তে জানা যায়, কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা পোলিং অফিসার মোছাঃ সুমনা ইসলাম (সহকারী শিক্ষিকা) তাদের প্রবেশে সহায়তা করেছিলেন। স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হয়, তিনি স্থানীয় ৬ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সাধারণ সম্পাদকের স্ত্রী।

ঘটনার পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারা ফারজানা হক সেখানে উপস্থিত হয়ে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় তাৎক্ষণিক বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করেন। অবৈধ প্রভাব বিস্তারের দায়ে দুই এজেন্টকে দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ১৫ দিনের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত পোলিং অফিসার মোছাঃ সুমনা ইসলামকে তাৎক্ষণিকভাবে নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। প্রিজাইডিং অফিসার জানান, কেন্দ্রের শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

রাজধানী

দৌলতদিয়ায় পদ্মায় বাসডুবি, কুমারখালী থেকে শিশুসহ ৮ যাত্রী নিয়ে ছেড়ে আসে বাসটি

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে পদ্মা নদীতে একটি যাত্রীবাহী বাস নিমজ্জিত হয়েছে। বাসটি কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে এসেছিল। প্রতিদিনের মতো বুধবার বেলা ২টা ২০ মিনিটে সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি কুমারখালী পৌরবাস টার্মিনাল থেকে যাত্রা শুরু করে। ছাড়ার সময় বাসটিতে মাত্র ছয়জন যাত্রী ছিলেন। পরে যাত্রাপথে বিভিন্ন স্থান থেকে যাত্রী ওঠানো হয়। কুমারখালী কাউন্টারের মাস্টার মো. তন্বয় […]

নিউজ ডেস্ক

২৫ মার্চ ২০২৬, ২৩:৪২

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে পদ্মা নদীতে একটি যাত্রীবাহী বাস নিমজ্জিত হয়েছে। বাসটি কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে এসেছিল। প্রতিদিনের মতো বুধবার বেলা ২টা ২০ মিনিটে সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি কুমারখালী পৌরবাস টার্মিনাল থেকে যাত্রা শুরু করে। ছাড়ার সময় বাসটিতে মাত্র ছয়জন যাত্রী ছিলেন।

পরে যাত্রাপথে বিভিন্ন স্থান থেকে যাত্রী ওঠানো হয়। কুমারখালী কাউন্টারের মাস্টার মো. তন্বয় শেখের ভাষ্য অনুযায়ী, খোকসা থেকে ৭ জন, মাছপাড়া থেকে ৪ জন এবং পাংশা থেকে ১৫ জন যাত্রী বাসে ওঠেন। এছাড়া ইঞ্জিন কাভারে চারজন যাত্রী ছিলেন এবং গোয়ালন্দ ঘাট থেকেও কয়েকজন ওঠেন। চালক, সুপারভাইজার ও সহকারীসহ বাসটিতে মোট যাত্রীসংখ্যা অন্তত ৫০ জনে পৌঁছায়, যদিও বাসটির আসনসংখ্যা ছিল ৪০।

তবে ফেরিতে ওঠার আগে কিছু যাত্রী নেমে যেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে নদীতে পড়ার সময় বাসে ঠিক কতজন যাত্রী ছিলেন, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

দুর্ঘটনাটি ঘটে বিকেল আনুমানিক ৫টা ১৫ মিনিটে দৌলতদিয়া ঘাটে। সে সময় একটি ফেরি যানবাহন নিয়ে পাটুরিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ায় বাসটি পরবর্তী ফেরির জন্য অপেক্ষা করছিল। ঘাট তত্ত্বাবধায়ক মো. মনির হোসেন জানান, ‘হাসনা হেনা’ নামের একটি ছোট ইউটিলিটি ফেরি এসে পন্টুনে জোরে আঘাত করে। এতে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।

রাত ৮টা পর্যন্ত অন্তত দুজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার সময় বাসে নারী-শিশুসহ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক যাত্রী ছিলেন। কয়েকজন যাত্রী সাঁতরে ওপরে উঠতে পারলেও অধিকাংশ যাত্রী বাসের ভেতরে আটকা পড়েন। উদ্ধার কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রাজধানী

ব্যাংকে নেই নতুন নোট, গুলিস্তানে টাকার পাহাড়—কার হাতে এই বাজার?

ঈদকে সামনে রেখে নতুন নোট সংগ্রহ করতে রাজধানীর বিভিন্ন ব্যাংকে ভিড় করছেন সাধারণ মানুষ। কিন্তু বেশিরভাগ ব্যাংক থেকেই গ্রাহকদের জানানো হচ্ছে নতুন নোট নেই। আবার কোন কোন ব্যাংক কৌশল করে বলছে আছে সীমিত। এতে করে  অনেকেই হতাশ হয়ে ফিরছেন। অন্যদিকে রাজধানীর গুলিস্তান এলাকায় দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। ব্যাংক নয় রাস্তায় মিলছে নতুন টাকার পাহাড় । […]

ব্যাংকে নেই নতুন নোট, গুলিস্তানে টাকার পাহাড়—কার হাতে এই বাজার?

ব্যাংকে নেই নতুন নোট, গুলিস্তানে টাকার পাহাড়—কার হাতে এই বাজার?

নিউজ ডেস্ক

১৪ মার্চ ২০২৬, ১৬:৫৩

ঈদকে সামনে রেখে নতুন নোট সংগ্রহ করতে রাজধানীর বিভিন্ন ব্যাংকে ভিড় করছেন সাধারণ মানুষ। কিন্তু বেশিরভাগ ব্যাংক থেকেই গ্রাহকদের জানানো হচ্ছে নতুন নোট নেই। আবার কোন কোন ব্যাংক কৌশল করে বলছে আছে সীমিত। এতে করে  অনেকেই হতাশ হয়ে ফিরছেন।

অন্যদিকে রাজধানীর গুলিস্তান এলাকায় দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। ব্যাংক নয় রাস্তায় মিলছে নতুন টাকার পাহাড় । সেখানে একটি ব্যবসায়ী চক্রের মাধ্যমে প্রকাশ্যেই অতিরিক্ত টাকার বিনিময়ে নতুন নোট বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ টাকা দিয়েই কিনতে হচ্ছে নতুন টাকা।  এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে ব্যাংকে যেখানে নতুন নোট নেই বলা হচ্ছে, সেখানে বাজারে এত নতুন নোট আসে কোথা থেকে?

রাজধানীর গুলিস্তান এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই নতুন টাকার একটি অঘোষিত বাজার রয়েছে। ঈদের সময় বিশেষ করে নতুন টাকার ১০, ২০, ৫০ ও ১০০ টাকার নোট বেশি দেখা যায়। সরেজমিনে দেখা গেছে, এখানে কিছু ব্যবসায়ী নতুন নোটের বান্ডিল এনে প্রকাশ্যেই বিক্রি করেন। সাধারণত ১০০০ টাকার নতুন নোট নিতে হলে ক্রেতাকে ১০০-২০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত মূল্য দিতে হয়। ক্রেতারা জানান, শখের বশে ঈদের সময় শিশুদের ‘সালামি’ বা আত্মীয়দের দেওয়ার জন্য নতুন নোট দরকার হওয়ায় তারা বাড়তি টাকা দিয়ে এসব নোট কিনে থাকেন। এছাড়াও  ছোট নোটের বান্ডিলে কমিশন আরও বেশি হয় এবং ঈদের সময় এই ব্যবসা আরও বেড়ে যায় ।

সমস্যা কি এখানেই শেষ ? না, সাধারণ জনগণ যখন ছেঁড়া-ফাঁটা নোট ব্যাংকে দিতে যায় তখন অধিকাংশ  ব্যাংক সেই নোট গ্রহণ করে না। যার ফলে জনগণ বাধ্য হয়ে গুলিস্তানের টাকা ব্যবসায়ীদের কাছে নোট বিক্রি করে। সেখানেও প্রতি নোটের জন্য ভালো পরিমান টাকা গচ্ছা দিয়ে বিক্রি করতে হয় সাধারণ জনগণকে। বাস্তবে দেখা যায় ব্যাংক থেকেই গ্রাহকদের টাকার বান্ডিলে ছেঁড়া-ফাঁটা নোট ঢুকিয়ে দেয়। যার ফলে বলা যায়, ব্যাংক এইখানে চরম পর্যায়ে বৈষম্য সৃষ্টি করছে। আর এই বৈষম্য করার মূল লক্ষ্য হলো সিন্ডিকেটের সাথে বন্ধুত্ব করে সাধারণ জনগণের টাকা আত্মসাৎ করা।  

গুলিস্তানের নতুন টাকার উৎসের পিছনে রয়েছে এক অদৃশ্য সিন্ডিকেট। বাংলাদেশে নতুন নোট ছাপানোর বৈধ ক্ষমতা একমাত্র বাংলাদেশ ব্যাংকের হাতে। প্রতি বছর বিশেষ করে দুই ঈদের আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক পুরনো ও ছেঁড়া নোট সংগ্রহ করে এবং তার পরিবর্তে নির্দিষ্ট পরিমাণ নতুন নোট সরকারি বা বেসরকারি ব্যাংকে সরবরাহ করে। সাধারণ গ্রাহক যখন ব্যাংকের লাইনে দাঁড়িয়ে ‘নতুন টাকা নেই’ শুনে হতাশ হয়ে ফিরে যান, তখন গুলিস্তানের বাজারে নতুন টাকার স্তূপ দেখে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে। কারণ এর পেছনে একটি প্রভাবশালী মধ্যস্বত্বভোগী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে, যারা এই বেচাকেনা নিয়ন্ত্রণ করে। কিছু অসাধু ব্যাংক কর্মকর্তা ও কর্মচারী এই চক্রের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত। সাধারণ গ্রাহকদের জন্য বরাদ্দকৃত নতুন নোটের একটি বড় অংশ গোপনে এই সিন্ডিকেটের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এর বিনিময়ে সংশ্লিষ্টরা নির্দিষ্ট পরিমাণ কমিশন পেয়ে থাকেন।

এছাড়াও কিছু পেশাদার ‘লাইনম্যান’ রয়েছে, যাদের কাজই হলো বাংলাদেশ ব্যাংক বা বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের লাইনে দাঁড়িয়ে বারবার কৌশলে নতুন নোট সংগ্রহ করা। পরে তারা এসব নোট গুলিস্তানের ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে দেন। একইভাবে কিছু প্রভাবশালী ব্যবসায়ী তাদের প্রভাব ব্যবহার করে ব্যাংক থেকে বড় অংকের নতুন নোট সংগ্রহ করেন এবং পরে বেশি লাভের আশায় সেগুলো খোলা বাজারে ছাড়েন।

বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার, ১৯৭২ অনুযায়ী দেশের কাগুজে মুদ্রা ইস্যু ও নিয়ন্ত্রণের পূর্ণ দায়িত্ব বাংলাদেশ ব্যাংকের ওপর ন্যস্ত। নতুন নোট ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে সরাসরি জনগণের মধ্যে বিতরণের কথা। এসব নোট ব্যক্তিগতভাবে মজুদ করে অতিরিক্ত মূল্যে বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি করা আইনত অবৈধ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গি
ইসলামের দৃষ্টিতেও নতুন টাকার ব্যবসা বৈধ নয়। একই দেশের মুদ্রা কমবেশি করে কেনাবেচা করা শরিয়তের দৃষ্টিতে সুদের অন্তর্ভুক্ত বলে বিবেচিত হয়। কারণ টাকা বা কাগুজে মুদ্রা কোনো পণ্য নয়; বরং এটি নিজেই মূল্যমানের প্রতীক। তাই এটিকে লাভের উদ্দেশ্যে বেচাকেনা করা শরিয়তসম্মত নয়।
ইসলামি অর্থনীতিতে মুদ্রা বিনিময়কে বাইয়ুস সারফ বলা হয়। এ ক্ষেত্রে দুই ধরনের লেনদেন রয়েছে। প্রথমত, এক দেশের মুদ্রার সঙ্গে অন্য দেশের মুদ্রার বিনিময় এ ক্ষেত্রে কমবেশি হওয়া বৈধ, তবে লেনদেনের সময়ই অন্তত এক পক্ষকে মুদ্রা বুঝিয়ে দিতে হবে (জাদিদ ফিকহি মাসায়িল: ৪/২৮; জাদিদ মুআমালাত কে শরয়ী আহকাম: ১-১৩৯)। দ্বিতীয়ত, একই দেশের মুদ্রা হলে লেনদেনে সমতা বজায় রাখা বাধ্যতামূলক। অর্থাৎ ১০০ টাকার বিপরীতে ১০০ টাকাই হতে হবে; কমবেশি হলে তা সুদের অন্তর্ভুক্ত হবে (হিদায়া, কিতাবুল বুয়ু, বাবুর রিবা: ০৩/ ৮৫; মুসতাদরাক আলাস সাহিহাইন: ০২/ ৬৫-৬৬; শারহু মাআনিল আসার: ৫৫৫৪; সুনান দারু কুতনি: ৩০৬০) । আমাদের দেশে সাধারণত ছেঁড়া বা পুরোনো নোটের পরিবর্তে নতুন নোট সরবরাহ করে থাকে ব্যাংকগুলো, বিশেষ করে রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলো এই সেবা বিনামূল্যে দিয়ে থাকে। তাই প্রকাশ্যে বসে নতুন নোট কেনা- বেচার মতো ব্যবসা শরিয়তের দৃষ্টিতে বৈধতার কোনো সুযোগ নেই। নতুন নোট সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে বিতরণের কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক সময় তা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাণিজ্যিক পণ্যে পরিণত হচ্ছে এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এতে একদিকে যেমন আইনের লঙ্ঘন হচ্ছে, অন্যদিকে ইসলামি দৃষ্টিতেও এটি সুদের আওতায় পড়ে অনৈতিক হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই নতুন টাকার এই অবৈধ বাজার বন্ধ করতে হলে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, কঠোর নজরদারি এবং সংশ্লিষ্ট সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। একইসঙ্গে সচেতনতা বাড়ানোও প্রয়োজন, যাতে সাধারণ মানুষও এই ধরনের অনৈতিক লেনদেন থেকে বিরত থাকে।