রাত পোহালেই অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশের সব কেন্দ্রে সন্ধ্যার মধ্যেই নির্বাচনি সরঞ্জাম পৌঁছে গেছে।
নির্বাচন ঘিরে গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সারা দেশে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় ১০ লাখ সদস্য মোতায়েন রয়েছে। মোট ৩০০টি আসনের মধ্যে একটি আসনে প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ভোটগ্রহণ স্থগিত থাকলেও বাকি আসনগুলোতে প্রায় ১২ কোটি ৭৫ লাখ ভোটারের জন্য প্রায় ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্র এবং আনুমানিক ২ লাখ ৬০ হাজার ভোটকক্ষ প্রস্তুত করা হয়েছে।
ঝুঁকির মাত্রা বিবেচনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা স্তরভিত্তিক করা হয়েছে। মহানগর এলাকা, পার্বত্য চট্টগ্রাম, দুর্গম অঞ্চল ও স্পর্শকাতর কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
পুলিশ মহাপরিদর্শক বাহরুল আলম সদস্যদের পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনআস্থা পুনরুদ্ধারে দায়িত্বশীল আচরণ জরুরি। তিনি সাইবার গোয়েন্দা কার্যক্রম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যবেক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার এস এম সাজ্জাত আলীও নির্বাচনি আচরণবিধি কঠোরভাবে মানার নির্দেশ দিয়ে বলেন, রাজনৈতিক আনুগত্যের ঊর্ধ্বে উঠে নিরপেক্ষ ও ত্রুটিমুক্ত নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) কৌশলগত ও স্পর্শকাতর এলাকায়, বিশেষ করে রাজধানী ও বড় শহরগুলোতে বিশেষ টহল শুরু করেছে। বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী জানান, ৪৮৯টি উপজেলায় ৩৭ হাজারের বেশি সদস্য মোতায়েন রয়েছে এবং ৬১টি সীমান্ত উপজেলায় বিজিবি একক দায়িত্ব পালন করবে।
তিনি বলেন, ভোটাররা যাতে অবাধ ও নিরাপদ পরিবেশে ভোট দিতে পারেন, সে জন্য বিজিবি পেশাদার ও রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ বাহিনী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। প্রয়োজনে হেলিকপ্টার, ড্রোন, কে-৯ ইউনিট ও কুইক রেসপন্স টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।