মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

শিক্ষাঙ্গন

“নাপা সেন্টার” থেকে মুক্তি : বদলে যাচ্ছে জাবি মেডিকেল সেন্টারের চিত্র

হাবিবুর রহমান সাগর ,জাবি প্রতিনিধি একসময় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারকে শিক্ষার্থীরা মজা করে ডাকত “নাপা সেন্টার” নামে-কারণ প্রায় সব রোগেরই প্রেসক্রিপশন শেষ হতো এক ট্যাবলেট ‘নাপা’ দিয়ে। তবে সেই একমাত্র ঔষধনির্ভর মেডিকেল সেন্টার এখন যেন বদলে যাচ্ছে এক বহুমাত্রিক স্বাস্থ্যসেবায়। দীর্ঘদিনের স্থবিরতা ভেঙে এবার নতুন উদ্যোগে এগিয়ে এসেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। জানা গেছে, মেডিকেল সেন্টারের বার্ষিক ঔষধ […]

“নাপা সেন্টার” থেকে মুক্তি : বদলে যাচ্ছে জাবি মেডিকেল সেন্টারের চিত্র

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

১২ নভেম্বর ২০২৫, ২০:০৯

হাবিবুর রহমান সাগর ,জাবি প্রতিনিধি

একসময় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারকে শিক্ষার্থীরা মজা করে ডাকত “নাপা সেন্টার” নামে-কারণ প্রায় সব রোগেরই প্রেসক্রিপশন শেষ হতো এক ট্যাবলেট ‘নাপা’ দিয়ে। তবে সেই একমাত্র ঔষধনির্ভর মেডিকেল সেন্টার এখন যেন বদলে যাচ্ছে এক বহুমাত্রিক স্বাস্থ্যসেবায়।

দীর্ঘদিনের স্থবিরতা ভেঙে এবার নতুন উদ্যোগে এগিয়ে এসেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। জানা গেছে, মেডিকেল সেন্টারের বার্ষিক ঔষধ ক্রয় বাজেট ২৪ লক্ষ টাকা, যা চার ধাপে (প্রতি ধাপে ৬ লক্ষ টাকা) ব্যয় করা হয়। পূর্বে এই বাজেটের দায়িত্ব ছিল এককভাবে CMO বা চিফ মেডিকেল অফিসারের হাতে, ফলে ওষুধ কেনা সীমাবদ্ধ ছিল মাত্র ২০-৩০ ধরনের মধ্যে।

কিন্তু সম্প্রতি উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. সোহেল আহমেদ-এর নেতৃত্বে একটি নতুন ঔষধ ক্রয় কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির ধারাবাহিক বৈঠক ও সিদ্ধান্তের ফলে মেডিকেল সেন্টার ধীরে ধীরে ‘নাপা সেন্টার’ তকমা থেকে বেরিয়ে আসছে।

কমিটির আলোচনায় গুণগতমানসম্পন্ন কোম্পানির ওষুধ, আধুনিক অ্যান্টিবায়োটিক, ইনজেকশন, রেসপিরেটরি মেডিসিন, ডায়রিয়া প্রতিরোধী স্যালাইনসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরির ওষুধ অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ফলাফল চমকপ্রদ-আগে যেখানে ২০-৩০ ধরনের ওষুধ কেনা হতো, এখন একই বাজেটে কেনা হয়েছে ৮৫ ধরনের ওষুধ।

প্রথম ধাপে বরাদ্দ ৬ লক্ষ টাকার মধ্যে ইতোমধ্যে ৪ লক্ষ ২১ হাজার টাকার ওষুধ ক্রয় সম্পন্ন হয়েছে, যার সংখ্যা ৫৩ প্রকার। বাকি ১ লক্ষ ৬৯ হাজার টাকার ৩২ প্রকার ওষুধ খুব শিগগিরই সংগ্রহ করা হবে।

প্রথম ধাপে সংগৃহীত ওষুধের কিছু বিভাগ- অ্যান্টিবায়োটিক: ১১ প্রকার যেমন

সিপ্রোফ্লক্সাসিন, লেভোফ্লক্সাসিন, এমোক্সিসিলিন, ডক্সিসাইক্লিন, এজিথ্রোমাইসিন, সেফিউরোক্সিম,

মক্সিফ্লক্সাসিন প্রভৃতি। ব্যথানাশক: ৯ প্রকার- ঠান্ডা, কাশি ও শ্বাসযন্ত্রের ওষুধ: ৬ প্রকার (এর মধ্যে ফেক্সো ও মন্টিলুকাস্টও রয়েছে)।স্টেরয়েড: ৩ প্রকার,

গ্যাস্ট্রিক ও বমি প্রতিরোধক: ৫ প্রকার, 

IV ফ্লুইড/স্যালাইন: ৪ প্রকার DNS, Normal

Saline ইত্যাদি,খিঁচুনি প্রতিরোধক: ৩ প্রকার,মানসিক রোগের ওষুধ: ২ প্রকার,অ্যান্টিইমেটিক: ৩ প্রকার,

ভ্যাকসিন: ২ প্রকার টিটেনাস ও র‍্যাবিস, যা ছিল বহুদিনের দাবি,

এছাড়াও এখন পাওয়া যাচ্ছে ORS, ইনহেলার, নেবুলাইজার সলিউশন, কৃমিনাশক, অ্যান্টিসেপটিক, মাল্টিভিটামিন, অ্যান্টিফাঙ্গালসহ আরও নানান প্রয়োজনীয় মেডিসিন।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো-উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর সোহেল আহমেদের উদ্যোগে JMI Syringes and Medical Devices Ltd. কোম্পানির নির্বাহী পরিচালক সদয় হয়ে মেডিকেল সেন্টারকে উপহার দিয়েছেন-

২০০০ পিস ৩ml সিরিঞ্জ,১০০০ পিস ৫ml সিরিঞ্জ,২৮০ পিস IV সেট

 এই অগ্রগতি যেমন প্রশংসনীয়, তেমনি জন্ম দিচ্ছে এক নতুন প্রশ্নও-এতদিন এত কম ওষুধ কেনা হলো কেন? বাজেট থাকলেও তা সঠিকভাবে ব্যবহার হয়নি কেন? অতীতের সেই ঔষধ ক্রয়ে অনিয়ম বা দুর্নীতির দায় কার, তা খতিয়ে দেখার দাবি এখন শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের মুখে।

তবুও, বহুদিন পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার যেন নতুন প্রাণ ফিরে পাচ্ছে-একটি ‘নাপা সেন্টার’ থেকে সত্যিকারের স্বাস্থ্যকেন্দ্রের রূপে।

শিক্ষাঙ্গন

সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনি প্রতিকার চেয়ে শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডি করেন ঢাবি শিক্ষিকা মোনামি

ব্যক্তিগত সংবেদনশীল তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া ও হুমকির মুখে থানায় জিডি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)। রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে তিনি এই জিডি করেন। তার দায়ের করা এই জিডির নম্বর ২০৩৮। জিডি সূত্রে জানা যায়, অনুমতি ছাড়া ফেসবুকে তার মোবাইল নম্বর, ইমেইল ঠিকানা ও বাসার ঠিকানা পোস্ট […]

সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনি প্রতিকার চেয়ে শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডি করেন ঢাবি শিক্ষিকা মোনামি

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

৩১ আগস্ট ২০২৬, ০০:৩৯

ব্যক্তিগত সংবেদনশীল তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া ও হুমকির মুখে থানায় জিডি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)।

রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে তিনি এই জিডি করেন। তার দায়ের করা এই জিডির নম্বর ২০৩৮।

জিডি সূত্রে জানা যায়, অনুমতি ছাড়া ফেসবুকে তার মোবাইল নম্বর, ইমেইল ঠিকানা ও বাসার ঠিকানা পোস্ট করা হয়। এর পর থেকেই বিভিন্ন অচেনা নম্বর থেকে কল করে তাকে নানাভাবে বাজে কথা বলা ও হুমকি প্রদান করা হচ্ছে। বাসা সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ্যে আসায় তিনি নিজের বাসভবনে অবস্থান করাকে অনিরাপদ মনে করছেন। সার্বিক নিরাপত্তা ও বিষয়টির আইনি প্রতিকার চেয়ে তিনি শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডিটি দায়ের করেন।

এ ঘটনায় শাহবাগ থানা পুলিশ জানায়, ঘটনাটির তদন্ত শুরু হয়েছে এবং বিষয়টির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।

শিক্ষাঙ্গন

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী মেসে অস্ত্র নিয়ে অজ্ঞাত যুবকের প্রবেশ ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী নিজ মেসে হামলার শিকার হয়েছেন। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোররাত আনুমানিক ৪টার দিকে শাহজাদপুর পৌর এলাকার একটি ছাত্রী মেসে এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী অনিকা তাবাসসুম বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অষ্টম ব্যাচের শিক্ষার্থী। মেসের অন্যান্য শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোররাতে অজ্ঞাত […]

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী মেসে অস্ত্র নিয়ে অজ্ঞাত যুবকের প্রবেশ ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:৩৮

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী নিজ মেসে হামলার শিকার হয়েছেন।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোররাত আনুমানিক ৪টার দিকে শাহজাদপুর পৌর এলাকার একটি ছাত্রী মেসে এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী অনিকা তাবাসসুম বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অষ্টম ব্যাচের শিক্ষার্থী।

মেসের অন্যান্য শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোররাতে অজ্ঞাত এক যুবক ধারালো অস্ত্র হাতে অনিকার কক্ষে প্রবেশ করে। অনৈতিক উদ্দেশ্যে যুবকটি এগোলে অনিকা সাহসিকতার সাথে বাধা দেন।

এ সময় উভয়ের মধ্যে হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তি হয়। অনিকার আত্মরক্ষা ও চিৎকারের মুখে পরিস্থিতি প্রতিকূলে দেখে হামলাকারী যুবক দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। ধস্তাধস্তির ফলে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মুখ, গলা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক আঘাত ও ক্ষতের দাগ পড়েছে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শাহজাদপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রাথমিক তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে একজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে। তবে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী অনিকার দেওয়া বিবরণ ও জবানবন্দির সাথে আটক ব্যক্তির চেহারার কোনো মিল না থাকায় যাচাই-বাছাই শেষে তাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

এ বিষয়ে স্থানীয় থানা পুলিশ জানায়, “ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বর্ণনা অনুযায়ী মূল অপরাধীকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। দ্রুতই তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।”

ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিরাপত্তার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা অতি দ্রুত মূল অপরাধীকে গ্রেফতার এবং মেস এলাকায় স্থায়ী নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিশ্চিত করেছে যে, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পাশে তারা রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখছে।

শিক্ষাঙ্গন

‎রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার অভিযোগ,গুরুতর আহত ৪

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় চার সাংবাদিক গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ছাড়া আরও অন্তত ১০ সাংবাদিক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। হামলায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। রোববার (৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত সাংবাদিকরা হলেন—বিডিনিউজ […]

‎রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার অভিযোগ,গুরুতর আহত ৪

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০০:৩৬

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় চার সাংবাদিক গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ছাড়া আরও অন্তত ১০ সাংবাদিক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। হামলায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।

রোববার (৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

গুরুতর আহত সাংবাদিকরা হলেন—বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আরিফ উজ্জামান কোরবান, আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল এবং দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজু। আহতদের বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

হামলায় রাবি ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবীব ও শরিফুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম এবং সহদপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলম অথিসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, রাত ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট এলাকা থেকে একদল ছাত্রদল নেতাকর্মী মিছিল নিয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে যান। তাদের কয়েকজনের হাতে রামদা, চাপাতি, হকি স্টিক, পাইপ ও বেসবল ব্যাটসহ দেশীয় অস্ত্র দেখা গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেন।

খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এ সময় সেখানে থাকা কয়েকজন ছাত্রদল নেতাকর্মীর ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, প্রথমে দৈনিক সমকালের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিকে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। আজকের পত্রিকার প্রতিনিধির মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ারও চেষ্টা করা হয়। পরে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিনিধিকেও মারধর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা হিসেবে কয়েকজন সাংবাদিককে হলের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়।

হামলার খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও সাংবাদিক ঘটনাস্থলে গেলে তাদের ওপরও হামলার অভিযোগ পাওয়া যায়। এতে দ্য ডেইলি স্টার ও আগামীর সময়ের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আহত হন। আগামীর সময়ের প্রতিনিধির মাথায় আঘাত লাগে। অন্য সাংবাদিকরা এগিয়ে গেলে তাদের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্ট ও মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বলে জানা গেছে। রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারকে নিয়ে ছাত্রদল নেতা আহসান হাবীবের একটি ফেসবুক পোস্টে মন্তব্য ঘিরে রাকিবুল নামের একজনের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়।

আহসান হাবীব অভিযোগ করেন, ওই মন্তব্যে তার মা ও বোনকে নিয়ে গালাগাল করা হয়েছে। অন্যদিকে রাকিবুল দাবি করেন, তাকে মারধরের হুমকি দিয়ে অবস্থান জানতে চাওয়া হয়েছিল। পরে দুজনই ফেসবুকে পাল্টাপাল্টি পোস্ট দিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন।

এ পরিস্থিতির মধ্যে রোববার বিকেলে ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী অবস্থান নেন। তাদের কারও কারও হাতে বেসবল ব্যাট দেখা যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ অবস্থানের সমালোচনা করে শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলামও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেন। এরপর উত্তেজনা আরও বাড়ে এবং একপর্যায়ে হলের সামনে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।

ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মাহবুবুর রহমান বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তারা ব্যর্থ হয়েছেন। পুলিশের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছিল বলেও জানান তিনি।

রাবি ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, বিষয়টি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলকে জানানো হয়েছে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।