বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ভারত সবার সঙ্গে সম্পর্ক রাখুক, জনগণের মধ্যে অবাধ যোগাযোগ হোক। তিনি উল্লেখ করেন, একসময় কলকাতার কলেজ স্ট্রিট থেকে বই কেনা, সিনেমা ও থিয়েটার দেখার মতো সুযোগ ছিল, আবার সেই পরিবেশ ফিরে আসতে হবে। ভিসা প্রক্রিয়া সহজ হতে হবে এবং ভারতীয়দেরও বাংলাদেশে স্বাগত জানানো হবে। ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে মানুষে মানুষে বন্ধন আরও দৃঢ় করার আহ্বান জানান তিনি।
সম্প্রতি গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধে ভারত বাংলাদেশের সহযোগী ছিল, এক কোটি মানুষকে আশ্রয় দিয়েছিল। ভৌগোলিকভাবেও বাংলাদেশের তিন দিক ঘিরে আছে ভারত। তাই প্রভাব থাকবেই। কিন্তু সমস্যা হলো, ভারতের নীতিনির্ধারকরা বাংলাদেশ বলতে কেবল আওয়ামী লীগকেই বুঝেছে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগের বক্তব্য মেনে বিএনপি ও জামায়াতকে একই সঙ্গে ফেলে দেওয়া হয়েছে, অথচ বিএনপি ও জামায়াতের রাজনীতি এক নয়। বিএনপি অসাম্প্রদায়িক, মধ্যপন্থী ও গণতান্ত্রিক দল। মুক্তিযুদ্ধের অর্জিত সংবিধান রক্ষায় আজও বিএনপি স্বাধীনতা-বিরোধীদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে এবং এ সংগ্রামে বাম রাজনৈতিক শক্তিও তাদের সঙ্গে রয়েছে।
নির্বাচন প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ, তাদের শরীক এবং জাতীয় পার্টিসহ সবাই নির্বাচনে অংশ নিক। যেন একটি অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট অনুষ্ঠিত হয়। তবে এ ধরনের অবস্থান নেওয়ায় অনেকেই তাকে ভারতের এজেন্ট বা আওয়ামী দালাল বলে গালি দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা গত ১৫ বছরে প্রতিপক্ষকে ভোটে দাঁড়াতেই দেননি, তার শাস্তি তিনি পেয়েছেন। একই পথ বিএনপি অনুসরণ করবে না। ফখরুলের দাবি, জনগণ এত রক্ত দিয়েছে, এত প্রাণহানি ঘটেছে—আজ তাদের মধ্যে প্রবল আওয়ামী বিরোধিতা তৈরি হয়েছে।