জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষারকে পুনর্বহাল করা হয়েছে সংগঠনের সকল কর্মকাণ্ডে। একইসঙ্গে তার বিরুদ্ধে জারি হওয়া শোকজ নোটিশও প্রত্যাহার করেছে এনসিপি।
শনিবার (২৩ আগস্ট) রাতে সংগঠনের যুগ্ম সদস্যসচিব (দপ্তর) সালেহ উদ্দিন সিফাত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১৭ জুন স্মারক নং এনসিপি/কেন্দ্র/শোকজ/২০২৫-২০২৬/০৫ অনুযায়ী সারোয়ার তুষারকে নৈতিক স্খলনের অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়েছিল। পরবর্তীতে তিনি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন, রাজনৈতিক পর্ষদ ও শৃঙ্খলা কমিটির কাছে লিখিত জবাব জমা দেন।
দলীয় পর্যবেক্ষণে দেখা হয়, ঘটনাটি ব্যক্তিগত যোগাযোগের বিষয় হলেও নারীর প্রতি সংবেদনশীলতা ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে এটি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। শোকজ নোটিশের ভিত্তিতে সারোয়ার তুষার গত দুই মাস এনসিপির সব ধরনের সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে বিরত ছিলেন। এই সময়ে তিনি জুলাই মাসের দেশব্যাপী পদযাত্রা, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে এনসিপির প্রতিনিধিত্ব, মিডিয়ায় দলের অবস্থান উপস্থাপন, নরসিংদীর পদযাত্রায় অংশগ্রহণসহ কোনো কার্যক্রমে যুক্ত হননি।
সার্বিক বিবেচনায়, লিখিত জবাব ও পর্যালোচনার ভিত্তিতে তাকে পুনরায় দলের সকল কর্মকাণ্ডে অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং শোকজ নোটিশ প্রত্যাহার করা হয়।
এর আগে, গত ১৬ জুন সারোয়ার তুষারের বিরুদ্ধে দলের এক নেত্রীকে কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। ওই নেত্রীর সঙ্গে তুষারের কথোপকথনের একটি অডিও সাংবাদিক জাওয়াদ নির্ঝর ফাঁস করেন। তিনি দাবি করেন, অডিওটি ৪৭ মিনিটের, যদিও ৩ মিনিট ৫০ সেকেন্ডের একটি অংশ নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে প্রকাশ করেন।
ঘটনার পরদিন এনসিপির পক্ষ থেকে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। এতে বলা হয়েছিল, নৈতিক স্খলনজনিত অভিযোগের কারণে কেন তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা লিখিতভাবে জানাতে হবে। একই সঙ্গে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে সব ধরনের সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
অবশেষে দুই মাস পর তদন্ত ও লিখিত জবাবের ভিত্তিতে সারোয়ার তুষারকে পুনর্বহাল করল এনসিপি।