সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

দগ্ধদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিতে সরকারের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ, ১৭ বিদেশি চিকিৎসক দেশে

২০১০ সালের ৩ জুন রাতে রাসায়নিকের গুদামে রক্ষিত দাহ্য পদার্থের কারণে পুরান ঢাকার নবাব কাটরার নিমতলীতে ভয়াবহ আগুনে ঝরে যায় ১২৪টি প্রাণ। সে সময় আহত হয় কয়েক শতাধিক মানুষ। এ ঘটনায় দেশিয় ডাক্তার দিয়েই চলছিলো আহতদের চিকিৎসা। কিন্তু রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল এন্ড কলেজে ভয়াবহ বিমান দূর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসায় বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব […]

দগ্ধদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিতে সরকারের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ, ১৭ বিদেশি চিকিৎসক দেশে

দগ্ধদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিতে সরকারের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ, ১৭ বিদেশি চিকিৎসক দেশে

নিউজ ডেস্ক

২৫ জুলাই ২০২৫, ১৯:৪২

২০১০ সালের ৩ জুন রাতে রাসায়নিকের গুদামে রক্ষিত দাহ্য পদার্থের কারণে পুরান ঢাকার নবাব কাটরার নিমতলীতে ভয়াবহ আগুনে ঝরে যায় ১২৪টি প্রাণ। সে সময় আহত হয় কয়েক শতাধিক মানুষ। এ ঘটনায় দেশিয় ডাক্তার দিয়েই চলছিলো আহতদের চিকিৎসা।

কিন্তু রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল এন্ড কলেজে ভয়াবহ বিমান দূর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসায় বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। সরকারের এমন আন্তরিকতাকে স্বাগত জানিয়েছেন দেশের সচেতন মানুষ।

আহতদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে সিঙ্গাপুর থেকে ২ জন ডাক্তার ২ জন নার্স এবং ভারত থেকে দুইজন বার্ন ও ট্রমা চিকিৎসায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং একজন প্রশিক্ষিত নার্স আনা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) রাত ১১-১২ টার মধ্যে চায়না থেকে ৫ জন এবং সিঙ্গাপুর থেকে ৫ জন বার্ণ সার্জন এসে দেশে পৌঁছেছেন। বিদেশ থেকে আসা ডাক্তাররা হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে উঠেছেন। জাতীয় বার্ণ এন্ড সার্জারি ইনস্টিটিউট কাছে হওয়ায় তাদেরকে ইন্টার কন্টিনেন্টালে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।

এর আগে গত মঙ্গলবার মাইলস্টোনে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় দগ্ধ ও আহতদের চিকিৎসা সহায়তায় সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. চোং সি জ্যাক ঢাকায় এসেছেন।

বুধবার আরও তিনজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বাংলাদেশে এসেছেন। তারা হলেন সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র ডিরেক্টর বিজয়া রাও, পুন লাই কুয়ান ও লিম ইউ হান জোভান।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারি সচিব খন্দকার রবিউল ইসলাম বলেন, সিঙ্গাপুর এবং চীন থেকে আসা মেডিকেল টিমকে বিমানবন্দর থেকে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে পৌঁছিয়ে দেয়া হয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকে তারা আহতদের চিকিৎসা দেয়া শুরু করবেন।

আসার সময় তারা বেশ কিছু উন্নতমানের সরঞ্জামাদি নিয়ে এসেছেন বলেও তিনি জানান।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আহত শিক্ষার্থীদেরকে সুস্থ্য করে তোলার জন্য প্রয়োজনে বিদেশ থেকে আরো চিকিৎসক আনার পরিকল্পনার কথা জানান।

বৃহস্পতিবার সিঙ্গাপুর থেকে যারা এসেছেন তারা হলেন, ড. জু ইয়ংজি, ওয়ে গুইরু, তান কি ইউয়েন, অং জোলিন এবং ইরিনি অং মেই জিন।

চীন থেকে যারা এসেছেন তারা হলেন, লিও সুহুয়া, ইয়ান ফেই, লি জে, জাহাং জিলিন এবং লিও হুয়ান।

বিদেশ থেকে যে সব বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এসেছেন তাদের সেবায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের পরিচালক ডা. অধ্যাপক নাসির উদ্দিন।

তিনি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বলেন, বিদেশ থেকে যারা এসেছেন তারা অনেক প্রশিক্ষিত ডাক্তার। আমাদের নিজস্ব ডাক্তার এবং বিদেশী ডাক্তারদের সমন্বয়ে আহতদের চিকিৎসা সুন্দরভাবে সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সিঙ্গাপুরের চিকিৎসকরা ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আহতদের চিকিৎসা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, পরামর্শ ও প্রয়োজনে তারা সরাসরি চিকিৎসা কার্যক্রমেও অংশ নিচ্ছনে। আমাদের চিকিৎসার সঙ্গে তারা একমত। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে তারা পরামর্শ দিচ্ছেন। তারা কতদিন থাকবেন সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি। তারা যতদিন চান যুক্ত থাকতে পারেন।

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ জুলাই ট্রাজেডিতে এ পর্যন্ত ৩৩ জন নিহত হয়েছেন আহত হয়েছেন প্রায় ২ শতাধিক। তবে গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসা নিচ্ছেন ৫১ জন, যাদের মধ্যে শিক্ষার্থী রয়েছেন ৪০ জন।

সরকারের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মালেকা পারভীন বলেন, আমাদের দেশিয় এবং বিদেশি ডাক্তাররা মিলে নিশ্চয়ই আহতদেরকে সুস্থ্য করে তুলবেন। বিদেশি ডাক্তার আমন্ত্রণ করে এনে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা নিঃসন্দেহে একটি ভালো কাজ হয়েছে।

তিনি বলেন, বিদেশি চিকিৎসকরা সেবা দিতে আসায় আহতদের মানসিকতা চাঙ্গা হবে যেটা চিকিৎসার সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে সরকারকে গোটা জাতি আজ সাধুবাদ জানাচ্ছে।

ঢাকার ব্যবসায়ী শরিফুর রহমান বলেন, আহতদের চিকিৎসায় সরকারের আন্তরিকতায় আমরা মুগ্ধ। আমাদের সন্তানরা ভালো হয়ে উঠবে এমন স্বপ্ন আমরা দেখছি। সরকার এ ভাবে আমাদের সকল বিপদে তড়িৎ সিদ্ধান্ত নিবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

চলতি বছরের এপ্রিল মাসে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবার ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিশেষ জ্ঞান বিনিময় এবং অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে স্বাস্থ্যখাতকে শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ সিঙ্গাপুরের সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ।

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক মো. সায়েদুর রহমান জানান, সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের সঙ্গে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) রয়েছে। দুর্ঘটনার পর আহতদের চিকিৎসায় এই হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তাদের পাঠানো কেস রিপোর্টের ভিত্তিতেই চিকিৎসক দলটি বাংলাদেশে আসছে।

এদিকে, ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স¤প্রতি এ দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে বাংলাদেশের জন্য সর্বাত্মক চিকিৎসা সহায়তার আশ্বাস দিয়েছিলেন। তার ঘোষণার পর দ্রুত উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশন বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় করে মেডিকেল দল পাঠানোর ব্যবস্থা করে।

বাংলাদেশ সরকার ভারতীয় চিকিৎসকদের এই মানবিক সহায়তা উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করেছে যে, দুই দেশের অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় দগ্ধদের উন্নত ও দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

জাতীয়

মোটরসাইকেলসহ সব গাড়ির মালিক-চালকদের জন্য বড় সুখবর

মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের মোটরযানের কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স জরিমানা ছাড়াই হালনাগাদের সময়সীমা আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার। এ সময়ের মধ্যে শুধু মূল কর ও ফি পরিশোধ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ করা যাবে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। বিআরটিএ জানায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো জরিমানা ছাড়াই […]

মোটরসাইকেলসহ সব গাড়ির মালিক-চালকদের জন্য বড় সুখবর

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২৭

মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের মোটরযানের কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স জরিমানা ছাড়াই হালনাগাদের সময়সীমা আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার। এ সময়ের মধ্যে শুধু মূল কর ও ফি পরিশোধ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ করা যাবে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিআরটিএ জানায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো জরিমানা ছাড়াই মোটরযানের ফিটনেস, ট্যাক্স-টোকেন ও রুট পারমিটসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ করা যাবে। একই সুবিধা পাওয়া যাবে ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রেও।

গ্রাহকদের জন্য এটিকে শেষ সুযোগ উল্লেখ করে আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স হালনাগাদ করে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে সংস্থাটি।

এদিকে, গাড়ি বিক্রির পর দ্রুত মালিকানা পরিবর্তনের বিষয়েও সতর্ক করেছে বিআরটিএ। সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী মোটরযান বিক্রির পর মালিকানা পরিবর্তন বাধ্যতামূলক। কিন্তু অনেক ক্রেতা মালিকানা পরিবর্তন না করেই গাড়ি ব্যবহার করছেন। এতে পুরনো মালিককে বিভিন্ন আইনি ও আর্থিক জটিলতায় পড়তে হচ্ছে।

বিআরটিএ জানিয়েছে, মালিকানা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া এখন আরও সহজ করা হয়েছে। অনলাইনে আবেদন করার পর বিক্রেতার বায়োমেট্রিক বা আঙুলের ছাপ যাচাই করে একই দিনেই মালিকানা পরিবর্তনের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে। নতুন মালিকও ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেটের জন্য বায়োমেট্রিক দিতে পারছেন।

নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী দ্রুত মালিকানা পরিবর্তন না করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে বিআরটিএ।

অন্যদিকে, সড়ক পরিবহন আইন কঠোরভাবে কার্যকরের অংশ হিসেবে ড্রাইভিং লাইসেন্সের পয়েন্ট কর্তনের কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। প্রতিটি ড্রাইভিং লাইসেন্সে ১২টি পয়েন্ট থাকে। আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে জরিমানা বা কারাদণ্ডের পাশাপাশি চালকের লাইসেন্স থেকে দোষসূচক পয়েন্টও কেটে নেওয়া হচ্ছে।

জাতীয়

বারিধারায় পাকিস্তানি হাইকমিশনারের বাসভবনে আগুন, আইসিইউতে হাইকমিশনার

রাজধানীর বারিধারায় পাকিস্তান হাইকমিশনারের সরকারি বাসভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হাইকমিশনার ইমরান হায়দার ও তার স্ত্রী নাইমা ইমরান অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের চিকিৎসার জন্য গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ভোরে ৪টা ৫৬ মিনিটে আগুনের সংবাদ পায় ফায়ার সার্ভিস। বিষয়টি নিশ্চিত করে ফায়ার সার্ভিসের সদরদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন বলেন, আজ বৃহস্পতিবার […]

বারিধারায় পাকিস্তানি হাইকমিশনারের বাসভবনে আগুন, আইসিইউতে হাইকমিশনার

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৬ আগস্ট ২০২৬, ২২:২৬

রাজধানীর বারিধারায় পাকিস্তান হাইকমিশনারের সরকারি বাসভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হাইকমিশনার ইমরান হায়দার ও তার স্ত্রী নাইমা ইমরান অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের চিকিৎসার জন্য গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে নেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ভোরে ৪টা ৫৬ মিনিটে আগুনের সংবাদ পায় ফায়ার সার্ভিস।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ফায়ার সার্ভিসের সদরদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন বলেন, আজ বৃহস্পতিবার ভোর চারটা ৫৬ মিনিটে গুলশান ডিপ্লোমাটিক এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের সংবাদ পেয়ে বারিধারা ফায়ার স্টেশন থেকে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়।

ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট সেখানে গিয়ে দেখতে পায়, রুমে তেমন আগুন নেই তবে ধোয়া ছিল। পরে বালতি ও মগে করে পানি দিয়ে আগুন নিভিয়ে ফেলা হয়।

তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিস পূর্ণাঙ্গ চেক করে মেশিন দ্বারা ধোঁয়া বের করে ফেলে। প্রাথমিকভাবে আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে জানা যায় বাসায় টিভিতে বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে আগুনের সৃষ্টি হয়।

জানা যায়, আগুন নিয়ন্ত্রণের সময় এবং পর পাকিস্তানি হাই কমিশনার ও তার স্ত্রী মোটামুটি সুস্থ ছিলেন। তবে প্রচণ্ড ধোয়া সৃষ্টি হওয়ার কারণে তারা অসুস্থ হয়ে পড়লে সকাল ৯টার দিকে তাদের গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সন্ধ্যার পর কন্টিনেন্টাল হাসপাতালের অ্যাডমিশন বিভাগে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, আজ সকালে পাকিস্তানি হাই কমিশনার ও তার স্ত্রী হাসপাতালটিতে ভর্তি হয়েছেন। হাইকমিশনের স্ত্রী বর্তমানে ক্যাবিনে এবং হাইকমিশনার নিজে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

জাতীয়

মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়তে পারেন অনেকেই, নতুন করে আলোচনায় যেসব নাম

বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাস পূর্ণ হতে যাচ্ছে আগামী ১৬ আগস্ট। এ সময়কে সামনে রেখে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের বিষয়ে সরকারের ভেতরে জোর আলোচনা চলছে। সরকার ও দলীয় সূত্রের দাবি, কর্মদক্ষতা, প্রশাসনিক সক্ষমতা, জনসম্পৃক্ততা এবং ভাবমূর্তির মূল্যায়নের ভিত্তিতে মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। এতে কয়েকজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বাদ পড়ার পাশাপাশি নতুন মুখ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও […]

মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়তে পারেন অনেকেই, নতুন করে আলোচনায় যেসব নাম

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ আগস্ট ২০২৬, ১১:৫৯

বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাস পূর্ণ হতে যাচ্ছে আগামী ১৬ আগস্ট। এ সময়কে সামনে রেখে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের বিষয়ে সরকারের ভেতরে জোর আলোচনা চলছে। সরকার ও দলীয় সূত্রের দাবি, কর্মদক্ষতা, প্রশাসনিক সক্ষমতা, জনসম্পৃক্ততা এবং ভাবমূর্তির মূল্যায়নের ভিত্তিতে মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। এতে কয়েকজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বাদ পড়ার পাশাপাশি নতুন মুখ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত ছয় মাসে মন্ত্রীদের কার্যক্রম নিয়ে সরকার অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন করছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজের অগ্রগতি, প্রশাসনিক দক্ষতা, জনসেবামূলক কার্যক্রম এবং সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষায় ভূমিকা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব মন্ত্রী বিতর্কে জড়িয়েছেন বা প্রত্যাশিত কর্মদক্ষতা দেখাতে পারেননি, তাদের বিষয়ে আলাদা করে আলোচনা চলছে।

সূত্রগুলো জানায়, বর্তমানে ২৪ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রীর পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করা হচ্ছে। সেই মূল্যায়নের ফলাফলের ভিত্তিতেই মন্ত্রিসভায় রদবদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পুনর্বণ্টন এবং প্রয়োজনে মন্ত্রিসভার আকারও বাড়ানো হতে পারে।

সরকারের উচ্চপর্যায়ে টেকনোক্র্যাট, অতিরিক্ত উপদেষ্টা এবং অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়েও আলোচনা রয়েছে। একই সঙ্গে দলের ত্যাগী ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতাদের পাশাপাশি তরুণ সংসদ সদস্যদেরও মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি বা স্পিকার পদে নতুন নিয়োগ না হলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান এবং সেলিমা রহমানের নাম সম্ভাব্য মন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।

এ ছাড়া নতুন মুখ হিসেবে বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, জাতীয় সংসদের হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান এবং রকিবুল ইসলাম বকুলের নামও বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে।

সরকারের শরিক ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর কয়েকজন নেতাকেও মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার আলোচনা রয়েছে। এ তালিকায় নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, শাহাদাত হোসেন সেলিম এবং বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকের নাম বিভিন্ন সূত্রে উঠে এসেছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে অন্তত ১২ জন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন। অতিরিক্ত দায়িত্বের কারণে কিছু মন্ত্রণালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছে সরকার। সে কারণেই দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

সরকারি সূত্রগুলোর ভাষ্য, মন্ত্রীদের মূল্যায়নে নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অগ্রগতি, প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন, জনদুর্ভোগ কমাতে নেওয়া উদ্যোগ, মাঠ প্রশাসনের ওপর নিয়ন্ত্রণ, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা এবং জাতীয় সংসদে সক্রিয় অংশগ্রহণের মতো বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রিসভায় থাকা বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বলেন, কয়েকজন মন্ত্রী একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। অন্যদিকে, কিছু প্রতিমন্ত্রী তুলনামূলক ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে তাদের পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি সংসদ সদস্য, বিএনপি এবং সমমনা রাজনৈতিক দলের কয়েকজন নেতাও টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রিসভায় যুক্ত হতে পারেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী।