চট্টগ্রাম শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ২৪টি প্রতিষ্ঠানকে ২৪টি নগর ওয়ার্ডে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তবে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের মালিক বিএনপি এবং দলটির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
এই মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলো অন্তত ৪০০ কোটি টাকার ব্যবসা করবে। তবে, এসব প্রতিষ্ঠানের তেমন অভিজ্ঞতা না থাকায়, ময়লা ব্যবস্থাপনার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামেরও সংকট রয়েছে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে।
এ বিষয়ে মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) সংবাদ সম্মেলন করে। চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা কমান্ডার ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী জানান, বাসাবাড়ি থেকে ময়লা সংগ্রহে দীর্ঘদিনের নৈরাজ্য এবং ইচ্ছামতো টাকা আদায় রোধে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে । এই নীতিমালার আওতায়, বাসাবাড়ির ময়লা সংগ্রহে নির্দিষ্ট মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত টাকা আদায় বন্ধ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, চসিক ৪১টি ওয়ার্ডের জন্য টেন্ডার আহ্বান করে, যেখানে ১৯২টি শিডিউল বিক্রি হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানগুলোকে ময়লা সংগ্রহের দায়িত্ব দেওয়া হবে। তিনি বলেন, যদি কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসে, তবে প্রথমে সতর্কতা, এরপর চুক্তি বাতিলসহ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চট্টগ্রাম নগরীতে চলমান জলাবদ্ধতার জন্য বাসাবাড়ি থেকে যত্রতত্র ময়লা ফেলা এবং অপরিকল্পিত আবর্জনা ব্যবস্থাপনাকে দায়ী করে তিনি বলেন, ড্রেন পরিষ্কারের পর ময়লা আবার জমে যায়। এছাড়া, কিছু প্রতিষ্ঠান মসজিদ-মাদরাসা থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছে, যা সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে তাদের কোনো চুক্তি নেই। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
নতুন সিস্টেমে, প্রতিটি কোম্পানিকে শ্রমিকের বেতন, গাড়ির সংখ্যা এবং সক্ষমতা যাচাই করে অনুমোদন দেওয়া হবে। যারা শ্রম মন্ত্রণালয় থেকে লাইসেন্স পেয়েছে, তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, ২০০০ পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগের পর, অনেকেই তিন মাস ধরে কাজে আসছেন না, তাই ‘নো ওয়ার্ক, নো পে’ নীতিতে তাদের বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।