রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

ভাঙ্গারি ব্যবসায়ী থেকে কোটিপতি আ.লীগ নেতা মশিউর!

রাশিমুল হক রিমন, বরগুনা প্রতিনিধিঃ বরগুনার তালতলীর ৩৫০ মেগাওয়াট আইসোটেক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রকে ঘিরে চলছে দুর্নীতি ও লুটপাটের মহোৎসব। উপজেলা আওয়ামী লীগ সদস্য ও ভাঙ্গারি ব্যবসায়ী শেখ মো. মশিউর রহমানের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার যন্ত্রাংশ লুটের অভিযোগ উঠেছে। ওই তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে অবৈধভাবে মূল্যবান ধাতব সামগ্রী লুট করে রাতারাতি অঢেল সম্পদের মালিক বনে গেছেন তিনি। সরকারি জমিতে […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

০২ জুন ২০২৫, ১৯:৪৯

রাশিমুল হক রিমন, বরগুনা প্রতিনিধিঃ

বরগুনার তালতলীর ৩৫০ মেগাওয়াট আইসোটেক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রকে ঘিরে চলছে দুর্নীতি ও লুটপাটের মহোৎসব। উপজেলা আওয়ামী লীগ সদস্য ও ভাঙ্গারি ব্যবসায়ী শেখ মো. মশিউর রহমানের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার যন্ত্রাংশ লুটের অভিযোগ উঠেছে।

ওই তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে অবৈধভাবে মূল্যবান ধাতব সামগ্রী লুট করে রাতারাতি অঢেল সম্পদের মালিক বনে গেছেন তিনি। সরকারি জমিতে তিনতলা বিলাসবহুল ভবন নির্মাণ করেছেন। তার বিরুদ্ধে সোমবার শাহদাত হোসেন নামের একজন দুদক সমন্বিত কার্যালয় পটুয়াখালী অভিযোগ দিয়েছেন।

শেখ মশিউর রহমানের বাড়ী গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলায়। তিনি শেখ পরিবারের সদস্য বলে তালতলীতে পরিচয় দিতেন। স্থানীয়দের আরো অভিযোগ করেন, শেখ পরিবারের সদস্য পরিচয় দিয়েই তিনি তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র অধিকহারে লুটপাট করেছেন। 

এ বিষয়ে উপজেলা আওয়ামীলীগ সদস্য শেখ মশিউর রহমান বলেন, সাংবাদিকরা লেখলে কি হয় তা আমার জানা আছে? আপনারা লেখেন, যেখান থেকে থামানো দরকার সে স্থান আমি জানি ও চিনি। কত সাংবাদিকইতো আমার বিরুদ্ধে লেখলে তাতেতো কিছুই হয়নি।

আপনারাও লেখতে থাকেন। দেখি তাতে কি হয়? তিনি আরো বলেন, আমি কিভাবে টাকা আয় করেছি, তা আপনাদের জানার দরকার নেই। আমার আয়ের টাকা দিয়েই বাড়ি করেছি, জমি কিনেছি। তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের মালামাল লুটের অভিযোগ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, তালতলী উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি রেজবি-উল কবির জোমাদ্দারের চাচাতো বোনের ছেলে বড়বগী ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি তানভির সিকদার জয়ের সঙ্গে মশিউর রহমান তার মেয়ে মীমকে বিয়ে দেন।

এরপর তাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। আত্মীয়তার সুবাদে রেজবির সঙ্গে গড়ে তুলেন সখ্যতা। রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে মামা-ভাগ্নের প্রত্যক্ষ মদদে মশিউর আইসোটেক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে মুল্যবান ধাতব সামগ্রী চোরাই পথে লুটপাট শুরু করেন। 

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, মশিউর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে তামার তার, লোহার পাইপ, অ্যালুমিনিয়াম শিটসহ মূল্যবান যন্ত্রাংশ রাতের আঁধারে চুরি করেন। চোরাই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এসব মালামাল পাচার করে ঢাকা ও নারায়নগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করেছেন।

স্থানীয় ভাঙ্গারি ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত মশিউর বর্তমানে গোপালগঞ্জ, ঢাকাসহ একাধিক স্থানে জমি ও বাড়ির মালিক বনে গেছেন ।

মামা-ভাগ্নের ছত্রছায়া তাৎবিদ্যুৎ কেন্দ্রের মালামলা লুট করেই ক্ষ্যান্ত হয়নি শেখ মশিউর রহমান। রেজবি-উল কবির জোমাদ্দার খুশি হয়ে তাকে ( শেখ মশিউর রহমান) তালতলী উপজেলা আওয়ামীলীগ কমিটির সদস্য করেছেন। 

অনুসন্ধ্যানে বেড়িয়ে এসেছে, তালতলীতে মশিউর রহমানের বিলাসবহুল তিনতলা বাড়ির নির্মাণ সামগ্রী—ইট, পাথর, সিমেন্ট, বালু, রড এমনকি টাইলসও তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের। সরকারি জমিতে অবৈধভাবে এই ভবন নির্মাণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয় শাহ আলম নামের একজন।

ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার একজন এপিএসএর প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি রেজবি-উল কবির জোমাদ্দার এবং তানভীর সিকদার জয়ের প্রত্যক্ষ মদদে এসব কর্মকাণ্ড পরিচালিত করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় জব্বার, রাসেল ও আকবর আলী।

আরো অভিযোগ রয়েছে তালতলী থানার তৎকালীন কিছু অসাধু পুলিশ কর্মকর্তারও মদদ ছিল এই সিন্ডিকেটের পক্ষে। তথ্য অনুসন্ধানে আরো জানাগেছে, আওয়ামী লীগ শাসনামলে একাধিকবার অভিযোগ উঠলেও মশিউরের বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ প্রশাসন।

বরং তার স্ত্রী মাহমুদা বেগম ও কন্যা সুমী, মীম ও স্বপ্নের নামে একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কোটি কোটি টাকার লেনদেনের তথ্য রয়েছে। দুদক অনুসন্ধান করলেই বেড়িয়ে আসবে বলে জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তার এক নিকটাত্মীয়।

৫ আগষ্টের পরে তাকে একটু হিমসীম খেতে হয়। গত মার্চ মাসে উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মে সালমা আইসোটেক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের মালামাল সামগ্রীসহ মশিউর রহমানকে গ্রেপ্তার করেন। একমাস হাজতবাসের পরে তিনি ছাড়া পান।

তালতলী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা। এই বিপুল বাজেটের প্রকল্প থেকে দীর্ঘদিন ধরে যন্ত্রাংশ লুটের ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থাগুলোর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

তদন্ত হলে প্রকল্পে দুর্নীতির চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠবে বলে মনে করেন তারা । শেখ মশিউর রহমানের এমন কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে স্থানীয় শাহদাত হোসেন নামের একজন গত সোমবার দুদক সমন্বিত কার্যালয় পটুয়াখালী অভিযোগ দিয়েছেন।

নিষিদ্ধ ঘোষিত তালতলী উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি রেজবি-উল কবির জোমাদ্দারের মুঠোফোনে (01711979095) বারবার যোগযোগ করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। তবে তার এক আত্মীয় জানান ৫ আগষ্টের পর থেকে তিনি গা-ঢাকা দিয়ে আছেন।

এ বিষয়ে তালতলী আইসোটেক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পরিচালক এম আর সামসুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

পটুয়াখালী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক তানভির আহমেদ বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। যাছাই বাছাই করে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি আরো বলেন, তদন্ত করে অভিযোগ ঢাকা প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হবে। প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশ মত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সারাদেশ

আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’, পরিচয় দেন রাজুর স্ত্রী হিসেবে

কুমিল্লায় ধর্ষণ ও হত্যার শিকার স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) মৃত্যুর আগে কক্সবাজারে অবস্থানের নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সেখানকার একটি আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তার নাম লেখা হয়েছিল ‘তানজু আক্তার’। বয়স দেখানো হয় ১৮ বছর। আর সঙ্গে থাকা রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুকে পরিচয় দেওয়া হয় তার স্বামী হিসেবে। হোটেলের রেজিস্টার, সিসিটিভি ফুটেজ এবং রিয়াজের পরিচিত ব্যক্তিদের দেওয়া […]

আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’, পরিচয় দেন রাজুর স্ত্রী হিসেবে

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৮

কুমিল্লায় ধর্ষণ ও হত্যার শিকার স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) মৃত্যুর আগে কক্সবাজারে অবস্থানের নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সেখানকার একটি আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তার নাম লেখা হয়েছিল ‘তানজু আক্তার’। বয়স দেখানো হয় ১৮ বছর। আর সঙ্গে থাকা রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুকে পরিচয় দেওয়া হয় তার স্বামী হিসেবে।

হোটেলের রেজিস্টার, সিসিটিভি ফুটেজ এবং রিয়াজের পরিচিত ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য থেকে তাজমিনের কক্সবাজারে অবস্থান ও বাড়ি ফেরার আগের ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে এসব তথ্য জানা গেছে।

হোটেলের রেজিস্টার অনুযায়ী, গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে কক্সবাজারের কলাতলীতে কুটুমবাড়ি-সংলগ্ন সড়কের শেষ মাথায় অবস্থিত একটি তিনতলা আবাসিক হোটেলের ৩০২ নম্বর কক্ষে ওঠে তাজমিন ও রিয়াজ। সেখানে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’ এবং বয়স ১৮ বছর উল্লেখ করা হয়। রিয়াজের ঠিকানা হিসেবে বান্দরবানের লামা এলাকার তথ্য দেওয়া হয়। তার বাবার নাম লেখা হয় মনির আহমদ।

হোটেলের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এক রাত অবস্থানের পর ৭ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে তারা হোটেল ছেড়ে চলে যান। রেজিস্টারে রিয়াজের দুটি মুঠোফোন নম্বর ও একটি জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বরও পাওয়া গেছে।

তথ্য অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর হোটেল ছাড়ার পর রিয়াজ তাজমিনকে কুমিল্লাগামী একটি বাসে তুলে দেন। এরপর বাড়ি ফেরার পথে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠে তাজমিন। অভিযোগ অনুযায়ী, অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করেন।

পরদিন ৮ অক্টোবর সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার ভোরালজগপুর উত্তরপাড়া গ্রামের একটি ধানক্ষেতের আইল থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় করা হত্যা মামলায় সিএনজিচালক সুমন মিয়াকে (৩৫) চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোন উদ্ধার করা হয়।

রিয়াজের এক সহকর্মীর দাবি, ঘটনার প্রায় ১৭ দিন আগে ফেসবুকের মাধ্যমে তাজমিনের সঙ্গে রিয়াজের পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। পরে তাজমিন কক্সবাজারে গেলে তারা একসঙ্গে সময় কাটান।

তবে রিয়াজের ঘনিষ্ঠ অন্য একটি সূত্রের দাবি, প্রায় পাঁচ মাস আগে তাদের পরিচয় হয়েছিল এবং এরপর থেকে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল।

তাজমিনের বাড়ি ছাড়ার বিষয়ে জানা যায়, গত ৪ অক্টোবর এক বান্ধবীকে হাতঘড়ি দেওয়া নিয়ে মায়ের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। এরপর সে বাড়ি থেকে বের হয়ে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক বান্ধবীর কাছে যায়।

সেখান থেকে মুঠোফোনে রিয়াজের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে কক্সবাজারে আসতে বলা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। যাতায়াতের খরচ হিসেবে রিয়াজ বিকাশের মাধ্যমে ৫০০ টাকা পাঠিয়েছিলেন বলেও জানা গেছে।

সহকর্মী জানান, কক্সবাজার থেকে ফেরার জন্য ‘আইকনিক এক্সপ্রেস’ পরিবহনের একটি বাসের টিকিট কিনে তাজমিনকে তুলে দেন রিয়াজ। টিকিটের মূল্য ছিল ৯০০ টাকা।

ওই সহকর্মীর ভাষ্য অনুযায়ী, কুমিল্লায় পৌঁছে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠার পরও তাজমিনের সঙ্গে রিয়াজের মুঠোফোনে যোগাযোগ হচ্ছিল। এমনকি অটোরিকশাচালক সম্পর্কে কিছু তথ্যও রিয়াজকে জানিয়েছিল তাজমিন।

তবে রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে তাজমিনের মুঠোফোনের লাইভ লোকেশন বন্ধ হয়ে যায়। এরপর তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেন ওই সহকর্মী।

পরদিন টেলিভিশনের সংবাদে তাজমিনের হত্যার খবর জানতে পেরে রিয়াজ হতবাক হয়ে পড়েন বলেও জানান তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রিয়াজের এক সহকর্মী আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের খবর প্রকাশের পর রিয়াজ তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। এ সময় তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে সহযোগিতা চান। তাজমিনের হত্যার সঙ্গে নিজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

ওই সহকর্মীর তথ্য অনুযায়ী, রিয়াজ প্রায় তিন বছর ধরে কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলে কাজ করছেন। ঘটনার পর তিনি কর্মস্থল থেকে ছুটিতে রয়েছেন।

এদিকে রিয়াজের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য সরাসরি জানা সম্ভব হয়নি।

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, তাজমিন হত্যার ঘটনায় মুঠোফোনের কললিস্টসহ বিভিন্ন তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার আসামি হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তদন্ত শেষ হলে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ও পরিষ্কার হবে।

তবে তাজমিনের কক্সবাজারে অবস্থান, হোটেলের রেজিস্টারে ভিন্ন নাম ও বয়স ব্যবহার এবং রিয়াজের সঙ্গে তার যোগাযোগের বিষয়গুলো তদন্তে কীভাবে বিবেচিত হচ্ছে, তা এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি।

সারাদেশ

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা […]

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৫ জুলাই ২০২৬, ২১:২০

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা খাইয়ো না। তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না। একপর্যায়ে তিনি শিক্ষার্থীদের পা ধরে শান্ত থাকার অনুরোধ জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মানববন্ধনের সময় শিক্ষার্থীরা বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় মোহাম্মদ মহসিন আন্দোলন থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটা আমার বদলির অংশ। আমি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেবো না। এরপর তিনি আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা আমাদের শিক্ষকদের কোনো ক্ষতি হতে দেব না। স্যার সরকারি চাকরিজীবী। চাকরি নিয়ে শঙ্কা থেকেই তিনি আমাদের সামনে কান্না করেছেন। সামান্য বৃষ্টির পানিকে ইস্যু করে একসঙ্গে সাতজন শিক্ষককে বদলি করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, এই মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে যদি শিক্ষকদের ওপর কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হয়, তাহলে আন্দোলন শুধু মহিলা কলেজে সীমাবদ্ধ থাকবে না, প্রয়োজন হলে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বৃষ্টির পানি কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ সাতজন শিক্ষককে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীরা ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন এবং বদলির আদেশ পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে আসছেন।

সারাদেশ

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরি, লুট মালামাল

আমজাদ শিবলু, সেনবাগ উপজেলা প্রতিনিধি  নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার বীজবাগ নুরজাহান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটেছে। রাতের কোনো একসময় বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে চারটি সিলিং ফ্যান, একটি ল্যাপটপ, একটি চার্জার ফ্যানসহ বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার (০৭ অক্টোবর) সকালে বিদ্যালয়ে এসে বিষয়টি শিক্ষকদের নজরে আসে। পরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোকেয়া বেগম […]

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরি, লুট মালামাল

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২৭

আমজাদ শিবলু, সেনবাগ উপজেলা প্রতিনিধি 

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার বীজবাগ নুরজাহান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটেছে। রাতের কোনো একসময় বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে চারটি সিলিং ফ্যান, একটি ল্যাপটপ, একটি চার্জার ফ্যানসহ বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।

বুধবার (০৭ অক্টোবর) সকালে বিদ্যালয়ে এসে বিষয়টি শিক্ষকদের নজরে আসে। পরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোকেয়া বেগম উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ ও সেনবাগ থানা পুলিশকে ঘটনাটি জানান।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, চোরেরা অফিস কক্ষে প্রবেশের পর দুটি স্টিলের আলমিরা ও একটি ফাইল কেবিনেটের তালা ভেঙে ফেলে। এরপর সেখান থেকে বিভিন্ন মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষক রোকেয়া বেগম বাদী হয়ে সেনবাগ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

সেনবাগ থানার ওসি (তদন্ত) মো. হযরত আলী মিলন গণমাধ্যমকে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি এবং এ ঘটনায় কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি।