রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

রাজনীতি

শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট মুখাকৃতি বানানো চিত্রশিল্পীর বাড়িতে আওয়ামী দুর্বৃত্তদের আগুন

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার গড়পাড়া বাজার এলাকায় চিত্রশিল্পী মানবেন্দ্র ঘোষের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) গভীর রাতে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা এই হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন মানবেন্দ্রের পরিবার। আগুনে তার বাড়ির একটি কক্ষ সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, পহেলা বৈশাখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত মঙ্গল শোভাযাত্রায় চিত্রশিল্পী মানবেন্দ্র ঘোষ একটি শোভামণ্ডপের শিল্পনির্মাণে […]

শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট মুখাকৃতি বানানো চিত্রশিল্পীর বাড়িতে আওয়ামী দুর্বৃত্তদের আগুন

ছবি : সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১৬ এপ্রিল ২০২৫, ১৪:৩৮

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার গড়পাড়া বাজার এলাকায় চিত্রশিল্পী মানবেন্দ্র ঘোষের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) গভীর রাতে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা এই হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন মানবেন্দ্রের পরিবার। আগুনে তার বাড়ির একটি কক্ষ সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে।

পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, পহেলা বৈশাখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত মঙ্গল শোভাযাত্রায় চিত্রশিল্পী মানবেন্দ্র ঘোষ একটি শোভামণ্ডপের শিল্পনির্মাণে অংশ নেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবিতে দাবি করা হয়, সেখানে প্রদর্শিত একটি শিল্পকর্মে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মুখাকৃতি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। যদিও মানবেন্দ্র এই দাবি সরাসরি অস্বীকার করে বলেন, “আমি শেখ হাসিনার কোনো মুখাকৃতি তৈরি করিনি, আমি বাঘের মোটিফ নির্মাণ করেছি, যেটি বৈশাখী শোভাযাত্রার ঐতিহ্যবাহী উপাদান।”

এই বিতর্কের পর মঙ্গলবার রাতে দুর্বৃত্তরা মানবেন্দ্র ঘোষের বাড়িতে হামলা চালিয়ে অগ্নিসংযোগ করে। আগুনে ঘরে থাকা বিভিন্ন চিত্রকর্ম, বইপত্র এবং আসবাবপত্র পুড়ে যায়। ঘটনার সময় পরিবারের সদস্যরা বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন, তবে ভাগ্যক্রমে বড় ধরনের হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

এ বিষয়ে বুধবার (১৬ এপ্রিল) নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে মানবেন্দ্র ঘোষ লিখেছেন, “আমাদের বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে।” এর কিছুক্ষণের মধ্যেই বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।

পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মানবেন্দ্র বলেন, “আমি ও আমার পরিবার এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমাদের বিরুদ্ধে যেভাবে গুজব ছড়ানো হচ্ছে, তাতে যেকোনো মুহূর্তে আরও বড় হামলার আশঙ্কা রয়েছে। আমি সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছি, যাতে আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয় এবং দোষীদের খুঁজে বের করা হয়।”

ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমান উল্লাহ। তিনি জানান, “ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।” ওসি আরও বলেন, “এখন পর্যন্ত কেউ এই ঘটনার দায় স্বীকার করেনি, তবে আমরা সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য সংগ্রহ করছি।”

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চিত্রশিল্পী মানবেন্দ্র ঘোষের বাড়ি সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের বাসার খুব কাছেই, একই এলাকার মধ্যে অবস্থিত। এলাকাবাসীর অনেকেই ধারণা করছেন, রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই শোভাযাত্রার একটি উপাদানকে কেন্দ্র করে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করে এই হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে।

প্রসঙ্গত, মঙ্গল শোভাযাত্রা জাতিসংঘের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তালিকাভুক্ত একটি বাঙালি নববর্ষ উদযাপনের অংশ, যেখানে প্রতীকী ভাস্কর্য ও মুখোশের মাধ্যমে সামাজিক-রাজনৈতিক বার্তা তুলে ধরা হয়। এবারের শোভাযাত্রায় মানবেন্দ্র ঘোষের সহকর্মী এবং শিক্ষার্থীদের তৈরি একটি শোভামণ্ডপ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর আলোচনা সৃষ্টি হয়, যেখানে কিছু রাজনৈতিক দলের অনুসারীরা অভিযোগ তোলে—শেখ হাসিনার ব্যঙ্গচিত্র নির্মাণ করা হয়েছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে শিল্পীর নিরাপত্তা, শিল্পের স্বাধীনতা এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসা—এই তিনটি ইস্যু আবারও জনমনে প্রশ্ন তুলেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই লিখেছেন, “শিল্পের ব্যাখ্যা যদি ভুল হয়, তাহলে দায় কি কল্পনার ওপর পড়ে?” কেউ কেউ আবার এটিকে সুশৃঙ্খল দমননীতির অংশ বলেও উল্লেখ করেছেন।

সরকারি পর্যায় থেকে এখনো পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে এই অগ্নিসংযোগের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। তবে মানবাধিকার সংগঠন এবং শিল্পমহলের প্রতিনিধিরা দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

এখন প্রশ্ন উঠছে—একজন শিল্পীর কল্পনা ও সৃষ্টিশীলতা যদি রাজনৈতিক প্রতিশোধের শিকার হয়, তাহলে সে সমাজ কতটা নিরাপদ, কতটা সহনশীল? মানবেন্দ্র ঘোষের ঘটনায় সেই প্রশ্ন আরও একবার সামনে উঠে এসেছে।

৩০ অক্টোবর ২০২৫
poll_title
জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট প্রশ্নে আপনার মতামত কী?

মোট ভোট: ১৪৫০৪

রাজনীতি

‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে, অপমান হজম না হওয়া পর্যন্ত সংসদে যাচ্ছি না : এমপি মনিরুল হক

সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় ‘অপমানিত’ হওয়ার অভিযোগে টানা ১১ দিন ধরে সংসদ অধিবেশন বর্জন করছেন কুমিল্লা-৬ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী। গত ১৪ জুন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের এক রুলিং ও সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ১৫ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত তিনি সংসদে যাননি। মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে। স্পিকার ফোন […]

‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে, অপমান হজম না হওয়া পর্যন্ত সংসদে যাচ্ছি না : এমপি মনিরুল হক

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৯ জুন ২০২৬, ১১:০২

সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় ‘অপমানিত’ হওয়ার অভিযোগে টানা ১১ দিন ধরে সংসদ অধিবেশন বর্জন করছেন কুমিল্লা-৬ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী। গত ১৪ জুন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের এক রুলিং ও সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ১৫ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত তিনি সংসদে যাননি।

মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে। স্পিকার ফোন করে সংসদে ফিরতে বললেও আমি এই অপমান এখনো হজম করতে পারছি না। যেদিন পারব, সেদিনই সংসদে যাব।’

গত ১৪ জুন, বাজেট আলোচনায় মনিরুল হক চৌধুরী বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহেরের বোরকা পরিহিত স্ত্রীর অতীতের একটি প্রসঙ্গ টানেন। একই সাথে সংসদে বোরকা পরা জামায়াতের নারী এমপিদের ইঙ্গিত করে কিছু মন্তব্য করেন। এতে সরকারি দলের এমপিরা হাসলেও বিরোধী দলের সদস্যরা তীব্র প্রতিবাদ জানান।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও পোশাক নিয়ে কথা বলতে নিষেধ করেন এবং মনিরুল হক চৌধুরীর বক্তব্যের বিতর্কিত অংশটুকু সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ (এক্সপাঞ্জ) করার ঘোষণা দেন।

এরপর মনিরুল হক চৌধুরী দুঃখপ্রকাশ করে আত্মপক্ষ সমর্থনে পুনরায় কথা বলার জন্য ফ্লোর চাইলে ডেপুটি স্পিকার তা নাকচ করে দেন। পরবর্তীতে পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং সরকারি দলের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বিষয়টি হালকা করার চেষ্টা করে মনিরুল হক চৌধুরীকে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ করলেও ডেপুটি স্পিকার তার সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন।

এই ঘটনার পর থেকেই ক্ষোভে সংসদ বয়কট করে চলেছেন এই সংসদ সদস্য।

১৩ নভেম্বর ২০২৫
poll_title
আপনি কি জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন?

মোট ভোট: ৭৩৮৩

রাজনীতি

‘আওয়ামী লীগ আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে’: সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

আওয়ামী লীগ রাজনীতি থেকে আউট হয়ে গেছে বা যাচ্ছে এরকম থাকবে না বলে মন্তব্য করে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন বলেছেন, আমার অনুমান তারা (আওয়ামী লীগ) দেশের আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে। সম্প্রতি দেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশনে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় হওয়া অত্যাচার-নিপীড়ন মানুষ ভুলে যাবে এমন […]

নিউজ ডেস্ক

২৫ মে ২০২৬, ২০:১২

আওয়ামী লীগ রাজনীতি থেকে আউট হয়ে গেছে বা যাচ্ছে এরকম থাকবে না বলে মন্তব্য করে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন বলেছেন, আমার অনুমান তারা (আওয়ামী লীগ) দেশের আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে।

সম্প্রতি দেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশনে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় হওয়া অত্যাচার-নিপীড়ন মানুষ ভুলে যাবে এমন ইঙ্গিত করে মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন বলেন, আমাদের মানুষজনের স্মৃতি শক্তি এতো দীর্ঘ না। আমার অনুমান তারা (আওয়ামী লীগ) দেশের আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে।

টেলিভিশনে দেয়া ওই সাক্ষাৎকারে সাবেক উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন দাবি করেন, সাত সদস্যের “কিচেন কেবিনেট” অন্তর্বর্তী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতো। তিনি জানান, প্রতি মঙ্গলবার নিয়মিত বৈঠক করতেন তারা। নিজ মন্ত্রণালয়ে একাধিক উপদেষ্টার প্রভাব ছিল জানিয়ে তিনবার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।

তবে, তা গৃহীত হয়নি বলে জানান তিনি। যুক্তরাষ্ট্র্রের সাথে বহুল আলোচিত বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিছু জানতো না- দাবি করেন তৌহিদ হোসেন। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১১ মে থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের।

৩০ অক্টোবর ২০২৫
poll_title
জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট প্রশ্নে আপনার মতামত কী?

মোট ভোট: ১৪৫০৪

রাজনীতি

“ওসব কিছুই চাই না, আমি বড় ক্লান্ত, একেবারে অবসর চাই- শুধু ঘুমাবো” : মির্জা ফখরুল

“আমি বড় ক্লান্ত… আমার এখন অবসর দরকার।” চব্বিশের ৫ আগস্ট-পূর্ববর্তী ১৭ বছর অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মুখে এমন উচ্চারণ শুনে মুহূর্তের জন্য থমকে যেতে হয়। রাজনীতির উত্তাল ময়দানে দীর্ঘদিনের দৃঢ় ও সংযত এই নেতার কণ্ঠে ক্লান্তির এমন স্বীকারোক্তি শুধু ব্যক্তিগত অনুভূতি নয়; বরং রাজনৈতিক মহলেও নতুন প্রশ্নের জন্ম […]

নিউজ ডেস্ক

০১ জুন ২০২৬, ২০:০৬

“আমি বড় ক্লান্ত… আমার এখন অবসর দরকার।”

চব্বিশের ৫ আগস্ট-পূর্ববর্তী ১৭ বছর অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মুখে এমন উচ্চারণ শুনে মুহূর্তের জন্য থমকে যেতে হয়। রাজনীতির উত্তাল ময়দানে দীর্ঘদিনের দৃঢ় ও সংযত এই নেতার কণ্ঠে ক্লান্তির এমন স্বীকারোক্তি শুধু ব্যক্তিগত অনুভূতি নয়; বরং রাজনৈতিক মহলেও নতুন প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে।

গত ২৩ এপ্রিল স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে গিয়েছিলাম তাঁর সঙ্গে দেখা করতে। বাইরে ছিল মানুষের ভিড়। প্রায় নিশ্চিত হয়েই ফিরে আসছিলাম—আজ আর দেখা হবে না। ঠিক তখনই তাঁর দীর্ঘদিনের সহকারী কৃষিবিদ ইউনুস আলী ডাক দিলেন।

মন্ত্রীর কক্ষে ঢুকেই চোখে পড়ল ভিন্ন এক মির্জা ফখরুলকে। রাজনীতির কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে লড়াইয়ে অভ্যস্ত মানুষটিকে সেদিন অস্বাভাবিক ক্লান্ত লাগছিল। চোখে ঘুমঘুম ভাব, মুখে অবসাদের রেখা।

অন্যদের বিদায় দেওয়ার পর বললাম, “আমার কোনো তদবির নেই, অনেক দিন দেখা হয় না—তাই শুধু সাক্ষাৎ করতে এলাম।”

শরীরের খোঁজ নিতেই তিনি ধীরে উত্তর দিলেন—

“আমি বড় ক্লান্ত… আমার এখন অবসর দরকার।”

কথাটি শুনে কিছুটা বিস্মিত হয়েই বললাম, “দেশের মানুষ আপনাকে এই মন্ত্রণালয়ের পর বঙ্গভবনে দেখতে চায়।”

তিনি হালকা হাসলেন। তারপর বললেন—

“ওসব কিছুই চাই না। একেবারে অবসর চাই… শুধু ঘুমাবো।”

এই কয়েকটি বাক্য যেন দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের এক অনুচ্চারিত ক্লান্তির ভাষা হয়ে উঠেছিল।

এরপর কথোপকথন গড়ায় স্মৃতির ভেতর। ২০০৮ সালে লন্ডন থেকে ফেরার পর প্রথম কোনো সাংবাদিক হিসেবে আমাকে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন তিনি।

তার কিছুদিন পর কাউন্সিলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পেয়ে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে তাঁর উত্থান ঘটে। স্মৃতিচারণে উঠে আসে বেগম খালেদা জিয়া, প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকা ও ইশরাক হোসেন প্রসঙ্গও।

১৩ নভেম্বর ২০২৫
poll_title
আপনি কি জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন?

মোট ভোট: ৭৩৮৩