বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

শিক্ষাঙ্গন

ভ্রাতৃত্ব ও সংহতির বার্তা নিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে গণ-ইফতার

হাবিবুর রহমান সাগর  (জাবি প্রতিনিধি ): জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫০ তম আবর্তনের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে গণ-ইফতার কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হয়েছে।   বুধবার (১১ মার্চ) রমজানের ১০ম দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে এ কর্মসূচীর আয়োজন করেন শিক্ষার্থীরা। ইফতার মাহফিলে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়। ১ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী আজকের প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করেন। নারী শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথকভাবে বসার ব্যবস্থা করে আয়োজকরা। রমজান […]

নিউজ ডেস্ক

১২ মার্চ ২০২৫, ০২:১০

হাবিবুর রহমান সাগর  (জাবি প্রতিনিধি ):

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫০ তম আবর্তনের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে গণ-ইফতার কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

 বুধবার (১১ মার্চ) রমজানের ১০ম দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে এ কর্মসূচীর আয়োজন করেন শিক্ষার্থীরা।

ইফতার মাহফিলে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়। ১ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী আজকের প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করেন। নারী শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথকভাবে বসার ব্যবস্থা করে আয়োজকরা। রমজান মাসের পবিত্রতা এবং তার মর্যাদাকে গভীরভাবে অনুভব করা এই আয়োজনটি সবার জন্য ছিল অত্যন্ত মর্মস্পর্শী এবং আবেগময়।

গণ-ইফতার অনুষ্ঠানে সাধারণ রোজাদার ও শিক্ষার্থীরা আসরের নামাজের পর থেকে একে একে খেলার মাঠে জড়ো হতে শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে, কোরআন তিলাওয়াত, হামদ-নাত এবং ইসলামী বিভিন্ন পরিবেশনা উপস্থিত সবার মধ্যে এক আত্মিক প্রশান্তি ছড়িয়ে দেয়। এ পরিবেশনা গুলি ধর্মীয় একাত্মতা এবং রমজানের মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেছিল।

ইফতারের পূর্বে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ রাসেল হল মসজিদের ইমাম ও খতিব আবদুল্লাহ সাদ দোয়া-মোনাজাত পরিচালনা করেন। তাঁর মোনাজাতের মাধ্যমে উপস্থিত সকল রোজাদার আল্লাহর কাছে ক্ষমা, রহমত এবং শান্তি কামনা করেন। মাগরিবের আজান শোনার পর, সবাই একসঙ্গে ইফতার করেন এবং রোজা ভাঙেন। একত্রিত হয়ে রোজা ভাঙার এই মুহূর্তটি ছিল এক অতি আবেগময় অভিজ্ঞতা। যা রোজাদারদের মাঝে এক অভূতপূর্ব সম্পর্ক এবং ধর্মীয় ঐক্য সৃষ্টি করেছিল।

গণ-ইফতার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক সোহেল আহমেদ এবং প্রক্টর অধ্যাপক এ. কে. এম. রাশিদুল আলম অংশগ্রহণ করেন।

এসময় উপ-উপাচার্য বলেন,”এ গণ-ইফতার কর্মসূচি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০ তম আবর্তনের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে। যা এক নজির সৃষ্টি করেছে। শিক্ষার্থীরা এই কর্মসূচিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছে। এই আয়োজনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং শিক্ষার্থীদের একত্রিত করেছে। এটি একটি উৎসবে পরিণত হয়েছে।”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০তম আবর্তনের শিক্ষার্থী 

ঐশী ইসলাম বলেন,”ক্যাম্পাসে থাকাকালীন পরিবার ছাড়া ইফতার করা সবচেয়ে কষ্টকর।যখন শুনলাম যে গণইফতার হবে তখন এইটা ভেবে অনেক খুশি হয়েছি যে অন্তত একদিন একা ইফতার করতে হবে না। সবার সাথে ইফতার করার মাধ্যমে অন্যরকম একটা প্রশান্তি পেয়েছি। সবশেষে বলবো যে এত্তবড় একটি আয়োজন হয়েছে কিন্তু তা ছিল সুশৃঙ্খল ও সুন্দর, এমন ইফতার আয়োজন আরো বেশি বেশি হোক এটাই চাওয়া।”

৫০ তম আবর্তনের  শিক্ষার্থী জিয়া উদ্দিন আয়ান বলেন,

“গত বছর শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইফতার আয়োজনে বাঁধার প্রেক্ষিতে প্রতিবাদ স্বরূপ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ৪৯ ব্যাচের আয়োজনে গণ ইফতার আয়োজন করা হয়েছে। তারই ধারাবাহিক ৫০ ব্যাচের আয়োজনে এবার প্রায় ১হাজারের বেশি মানুষের ইফতার আয়োজন করা হয়েছে। রমজানের এই পবিত্র মাসে আমরা একসঙ্গে বসে ইফতার করার যে সৌভাগ্য অর্জন করেছি, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।

আমাদের প্রত্যাশা প্রতিবছর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে গণ ইফতার আয়োজন হোক। এই গণ ইফতার আয়োজন শুধু যেনো খাবার গ্রহণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং এটি আমাদের হৃদয়ে পারস্পরিক ভালোবাসা ও সহানুভূতির বন্ধন আরও দৃঢ় করবে। যা ইসলামি ভ্রাতৃত্ববোধের এক উজ্জ্বল উদাহরণ।

গণ-ইফতার অনুষ্ঠানটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঐক্য, সহযোগিতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার মনোভাব সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে। এটি শুধু একটি ধর্মীয় সমাবেশই নয় বরং একটি সামাজিক অনুষ্ঠানও ছিল। যেখানে সকল সম্প্রদায় এবং পেশার মানুষ মিলিত হয়ে একে অপরের সাথে ইফতার করেছেন।

এ আয়োজনে জাহাঙ্গীরবগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রমাণ করেছে যে, ইসলামের পবিত্র এই মাসের মূল্যবোধ শুধু ধর্মীয় দিক দিয়েই নয়, বরং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐক্যের এক দুর্দান্ত উদাহরণ। রমজানের প্রকৃত উদ্দেশ্য-সামাজিক সংহতি, মানবিকতা এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়ার চেতনা-এই গণ-ইফতার মাহফিলের মাধ্যমে পূর্ণ হয়েছে।

শিক্ষাঙ্গন

সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনি প্রতিকার চেয়ে শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডি করেন ঢাবি শিক্ষিকা মোনামি

ব্যক্তিগত সংবেদনশীল তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া ও হুমকির মুখে থানায় জিডি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)। রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে তিনি এই জিডি করেন। তার দায়ের করা এই জিডির নম্বর ২০৩৮। জিডি সূত্রে জানা যায়, অনুমতি ছাড়া ফেসবুকে তার মোবাইল নম্বর, ইমেইল ঠিকানা ও বাসার ঠিকানা পোস্ট […]

সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনি প্রতিকার চেয়ে শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডি করেন ঢাবি শিক্ষিকা মোনামি

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

৩১ আগস্ট ২০২৬, ০০:৩৯

ব্যক্তিগত সংবেদনশীল তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া ও হুমকির মুখে থানায় জিডি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)।

রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে তিনি এই জিডি করেন। তার দায়ের করা এই জিডির নম্বর ২০৩৮।

জিডি সূত্রে জানা যায়, অনুমতি ছাড়া ফেসবুকে তার মোবাইল নম্বর, ইমেইল ঠিকানা ও বাসার ঠিকানা পোস্ট করা হয়। এর পর থেকেই বিভিন্ন অচেনা নম্বর থেকে কল করে তাকে নানাভাবে বাজে কথা বলা ও হুমকি প্রদান করা হচ্ছে। বাসা সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ্যে আসায় তিনি নিজের বাসভবনে অবস্থান করাকে অনিরাপদ মনে করছেন। সার্বিক নিরাপত্তা ও বিষয়টির আইনি প্রতিকার চেয়ে তিনি শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডিটি দায়ের করেন।

এ ঘটনায় শাহবাগ থানা পুলিশ জানায়, ঘটনাটির তদন্ত শুরু হয়েছে এবং বিষয়টির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।

শিক্ষাঙ্গন

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী মেসে অস্ত্র নিয়ে অজ্ঞাত যুবকের প্রবেশ ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী নিজ মেসে হামলার শিকার হয়েছেন। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোররাত আনুমানিক ৪টার দিকে শাহজাদপুর পৌর এলাকার একটি ছাত্রী মেসে এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী অনিকা তাবাসসুম বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অষ্টম ব্যাচের শিক্ষার্থী। মেসের অন্যান্য শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোররাতে অজ্ঞাত […]

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী মেসে অস্ত্র নিয়ে অজ্ঞাত যুবকের প্রবেশ ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:৩৮

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী নিজ মেসে হামলার শিকার হয়েছেন।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোররাত আনুমানিক ৪টার দিকে শাহজাদপুর পৌর এলাকার একটি ছাত্রী মেসে এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী অনিকা তাবাসসুম বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অষ্টম ব্যাচের শিক্ষার্থী।

মেসের অন্যান্য শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোররাতে অজ্ঞাত এক যুবক ধারালো অস্ত্র হাতে অনিকার কক্ষে প্রবেশ করে। অনৈতিক উদ্দেশ্যে যুবকটি এগোলে অনিকা সাহসিকতার সাথে বাধা দেন।

এ সময় উভয়ের মধ্যে হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তি হয়। অনিকার আত্মরক্ষা ও চিৎকারের মুখে পরিস্থিতি প্রতিকূলে দেখে হামলাকারী যুবক দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। ধস্তাধস্তির ফলে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মুখ, গলা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক আঘাত ও ক্ষতের দাগ পড়েছে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শাহজাদপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রাথমিক তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে একজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে। তবে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী অনিকার দেওয়া বিবরণ ও জবানবন্দির সাথে আটক ব্যক্তির চেহারার কোনো মিল না থাকায় যাচাই-বাছাই শেষে তাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

এ বিষয়ে স্থানীয় থানা পুলিশ জানায়, “ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বর্ণনা অনুযায়ী মূল অপরাধীকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। দ্রুতই তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।”

ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিরাপত্তার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা অতি দ্রুত মূল অপরাধীকে গ্রেফতার এবং মেস এলাকায় স্থায়ী নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিশ্চিত করেছে যে, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পাশে তারা রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখছে।

শিক্ষাঙ্গন

‎রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার অভিযোগ,গুরুতর আহত ৪

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় চার সাংবাদিক গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ছাড়া আরও অন্তত ১০ সাংবাদিক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। হামলায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। রোববার (৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত সাংবাদিকরা হলেন—বিডিনিউজ […]

‎রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার অভিযোগ,গুরুতর আহত ৪

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০০:৩৬

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় চার সাংবাদিক গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ছাড়া আরও অন্তত ১০ সাংবাদিক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। হামলায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।

রোববার (৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

গুরুতর আহত সাংবাদিকরা হলেন—বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আরিফ উজ্জামান কোরবান, আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল এবং দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজু। আহতদের বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

হামলায় রাবি ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবীব ও শরিফুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম এবং সহদপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলম অথিসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, রাত ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট এলাকা থেকে একদল ছাত্রদল নেতাকর্মী মিছিল নিয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে যান। তাদের কয়েকজনের হাতে রামদা, চাপাতি, হকি স্টিক, পাইপ ও বেসবল ব্যাটসহ দেশীয় অস্ত্র দেখা গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেন।

খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এ সময় সেখানে থাকা কয়েকজন ছাত্রদল নেতাকর্মীর ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, প্রথমে দৈনিক সমকালের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিকে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। আজকের পত্রিকার প্রতিনিধির মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ারও চেষ্টা করা হয়। পরে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিনিধিকেও মারধর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা হিসেবে কয়েকজন সাংবাদিককে হলের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়।

হামলার খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও সাংবাদিক ঘটনাস্থলে গেলে তাদের ওপরও হামলার অভিযোগ পাওয়া যায়। এতে দ্য ডেইলি স্টার ও আগামীর সময়ের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আহত হন। আগামীর সময়ের প্রতিনিধির মাথায় আঘাত লাগে। অন্য সাংবাদিকরা এগিয়ে গেলে তাদের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্ট ও মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বলে জানা গেছে। রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারকে নিয়ে ছাত্রদল নেতা আহসান হাবীবের একটি ফেসবুক পোস্টে মন্তব্য ঘিরে রাকিবুল নামের একজনের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়।

আহসান হাবীব অভিযোগ করেন, ওই মন্তব্যে তার মা ও বোনকে নিয়ে গালাগাল করা হয়েছে। অন্যদিকে রাকিবুল দাবি করেন, তাকে মারধরের হুমকি দিয়ে অবস্থান জানতে চাওয়া হয়েছিল। পরে দুজনই ফেসবুকে পাল্টাপাল্টি পোস্ট দিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন।

এ পরিস্থিতির মধ্যে রোববার বিকেলে ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী অবস্থান নেন। তাদের কারও কারও হাতে বেসবল ব্যাট দেখা যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ অবস্থানের সমালোচনা করে শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলামও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেন। এরপর উত্তেজনা আরও বাড়ে এবং একপর্যায়ে হলের সামনে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।

ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মাহবুবুর রহমান বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তারা ব্যর্থ হয়েছেন। পুলিশের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছিল বলেও জানান তিনি।

রাবি ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, বিষয়টি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলকে জানানো হয়েছে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।