বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

শিক্ষাঙ্গন

বাকৃবিতে অস্তিত্বহীন প্রসেসিং প্ল্যান্ট বসিয়ে গবেষণা

বাকৃবি প্রতিনিধি:  বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) পোল্ট্রি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ইলিয়া হোসেন বাকৃবি রিসার্চ সেন্টারের (বাউরেস) অর্থায়নে পরিচালিত গবেষণায় মিনি প্রসেসিং প্ল্যান্ট স্থাপনের মিথ্যা তথ্য প্রদান করে গবেষণা প্রতিবেদন দাখিল করেন। জানা যায়, ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে অনুষ্ঠিত বাউরেসের বার্ষিক কর্মশালায় তিনি বাকৃবির পোল্ট্রি খামারে প্রসেসিং প্ল্যান্টস্থাপনের মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করেছিলেন। বাউরেসের কর্মশালার প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপে তিনি জানান, প্রকল্পের কার্যক্রম দুটি ধাপে সম্পন্ন হয়েছে। প্রথমত, ময়মনসিংহের স্থানীয় বাজারে পোল্ট্রি জবাই এলাকার অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা এবং স্থানীয় বাজার ও প্রক্রিয়াকরণ ইউনিট থেকে […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৩ মার্চ ২০২৫, ০৫:২৮

বাকৃবি প্রতিনিধি: 

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) পোল্ট্রি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ইলিয়া হোসেন বাকৃবি রিসার্চ সেন্টারের (বাউরেস) অর্থায়নে পরিচালিত গবেষণায় মিনি প্রসেসিং প্ল্যান্ট স্থাপনের মিথ্যা তথ্য প্রদান করে গবেষণা প্রতিবেদন দাখিল করেন।

জানা যায়, ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে অনুষ্ঠিত বাউরেসের বার্ষিক কর্মশালায় তিনি বাকৃবির পোল্ট্রি খামারে প্রসেসিং প্ল্যান্টস্থাপনের মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করেছিলেন।

বাউরেসের কর্মশালার প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপে তিনি জানান, প্রকল্পের কার্যক্রম দুটি ধাপে সম্পন্ন হয়েছে। প্রথমত, ময়মনসিংহের স্থানীয় বাজারে পোল্ট্রি জবাই এলাকার অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা এবং স্থানীয় বাজার ও প্রক্রিয়াকরণ ইউনিট থেকে উৎপাদিত মুরগির মাংসের জীবাণু গুণাগুণ মূল্যায়ন করা। দ্বিতীয়ত, বাকৃবি পোল্ট্রি খামারে একটি মিনিপ্রসেসিং প্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়েছিল। সেই খামারে একটি ১৫০ বর্গফুট খোলা-পার্শ্বযুক্ত প্রক্রিয়াকরণ প্ল্যান্ট প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

ওই তথ্য মতে, গতবছর প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল সেই মিনিপ্রসেসিং প্লান্ট। 

এদিকে সরজমিনে দেখা যায়, বাকৃবির পোল্ট্রি খামারে নেই অধ্যাপক ড. ইলিয়াসের কোনো সম্পূর্ণ প্রসেসিং প্ল্যান্ট। তবে রয়েছে ছাদ ও দেয়ালবিহীন একটি কাঠামো।

বাকৃবি পোল্ট্রি খামারের অফিসার-ইন-চার্জ লেকচারার তানভীর আহমেদ জানান, বর্তমান খামারে কোনো প্রসেসিং প্ল্যান্ট নেই। তবে একটি প্রসেসিং প্ল্যান্ট তৈরির কাজ চলমান আছে।

এদিকে বাউরেসের সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. পরেশকুমার শর্মা নিশ্চিত করেছেন, প্রকল্পটি ২০২৪ সালে শেষ হয়ে গেছে।

বাউরেসের নিয়ম অনুযায়ী, গবেষণা শেষে ফলাফল যাচাই করার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ওই কমিটিতে ছিলেন পশু প্রজনন ও কৌলিবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রুহুল আমিন, পশু পুষ্টি বিভাগের অধ্যাপক ড. খানমো. সাইফুল ইসলাম ও অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-মামুন।

কোনো প্রকার প্রসেসিং প্ল্যান্ট ছাড়াই কিভাবে গবেষণা ফলাফল জমা পড়েছে, সে বিষয়ে জানতে চাইলে পশু প্রজননও কৌলিবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. খান মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “ওই গবেষণার যাচাই টিমে আমি ছিলাম।তবে যাচাই টিমের কাজ হলো গবেষণা প্রবন্ধের ফাইন্ডিংস, অবজারভেশন অর্থাৎ গবেষণা সংক্রান্ত বিষয়সমূহ পর্যবেক্ষণকরে মূল্যায়ন করা।

আর্থিক মনিটরিংয়ের কাজ আমাদেরনয়, এটি করে থাকে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চসিস্টেম (বাউরেস)। আসলে প্রসেসিং প্ল্যান্টের বিষয়ে ওইগবেষণা প্রবন্ধে কিছু ছিল কিনা, সেটা আমরা দেখি না।এসব বিষয় নিয়ে কাজ করে থাকে বাউরেসের ফিনান্সিয়াল কমিটি। আমাদের কাজ হলো কিভাবে গবেষণা হয়েছে, কিভাবে করেছে, রেজাল্ট কী এসব বিবেচনা করা।”

অন্যদিকে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-মামুনকে বার বারমুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।

প্রসেসিং প্ল্যান্টবিহীন গবেষণা কিভাবে সম্পন্ন হয়েছে, সে বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক ড. ইলিয়াস জানান, “আমার গবেষণার লক্ষ্যই ছিলো যাতে বাকৃবির পোল্ট্রিখামার থেকে যত মুরগি বের হবে, সবগুলো যাতে প্রসেসিংপ্ল্যান্ট হয়ে বের হয়, যাতে পরিচ্ছন্নতা ও হাইজিন পরিপূর্ণভাবেমেনে চলা যায়।”

তিনি আরো বলেন, “তবে জায়গা, বিভাগের অন্যান্য শিক্ষকের পোল্ট্রি শেড তৈরির কারণে সময়মত মিনি প্রসেসিং প্ল্যান্টটি তৈরি সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে ডিপার্টমেন্টের আলোচনায় পোল্ট্রি খামারের ভিতরে অবস্থিত পুকুরের শেষ মাথায় জায়গা ঠিক করা হয় এবং ডিপার্টমেন্ট দায়িত্ব নিয়ে প্ল্যান্ট তৈরির কাজটি তদারকি করছে। গতবছর প্ল্যান্ট তৈরিরকাজ শুরু হলেও বর্ষাকালে কাজ করতে বেগ পেতে হয়েছে।পানি সরানো, মাটি ভরাটসহ বিভিন্ন কারণে সময় লেগেছে।বর্তমানে কাজের ৮০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। প্ল্যান্টের পিলার উঠানো শেষ, শুধু ছাদ ও টিন শেডের কাজ করলেই কাজটি শেষ হয়ে যাবে।”

শিক্ষাঙ্গন

সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনি প্রতিকার চেয়ে শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডি করেন ঢাবি শিক্ষিকা মোনামি

ব্যক্তিগত সংবেদনশীল তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া ও হুমকির মুখে থানায় জিডি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)। রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে তিনি এই জিডি করেন। তার দায়ের করা এই জিডির নম্বর ২০৩৮। জিডি সূত্রে জানা যায়, অনুমতি ছাড়া ফেসবুকে তার মোবাইল নম্বর, ইমেইল ঠিকানা ও বাসার ঠিকানা পোস্ট […]

সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনি প্রতিকার চেয়ে শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডি করেন ঢাবি শিক্ষিকা মোনামি

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

৩১ আগস্ট ২০২৬, ০০:৩৯

ব্যক্তিগত সংবেদনশীল তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া ও হুমকির মুখে থানায় জিডি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)।

রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে তিনি এই জিডি করেন। তার দায়ের করা এই জিডির নম্বর ২০৩৮।

জিডি সূত্রে জানা যায়, অনুমতি ছাড়া ফেসবুকে তার মোবাইল নম্বর, ইমেইল ঠিকানা ও বাসার ঠিকানা পোস্ট করা হয়। এর পর থেকেই বিভিন্ন অচেনা নম্বর থেকে কল করে তাকে নানাভাবে বাজে কথা বলা ও হুমকি প্রদান করা হচ্ছে। বাসা সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ্যে আসায় তিনি নিজের বাসভবনে অবস্থান করাকে অনিরাপদ মনে করছেন। সার্বিক নিরাপত্তা ও বিষয়টির আইনি প্রতিকার চেয়ে তিনি শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডিটি দায়ের করেন।

এ ঘটনায় শাহবাগ থানা পুলিশ জানায়, ঘটনাটির তদন্ত শুরু হয়েছে এবং বিষয়টির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।

শিক্ষাঙ্গন

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী মেসে অস্ত্র নিয়ে অজ্ঞাত যুবকের প্রবেশ ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী নিজ মেসে হামলার শিকার হয়েছেন। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোররাত আনুমানিক ৪টার দিকে শাহজাদপুর পৌর এলাকার একটি ছাত্রী মেসে এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী অনিকা তাবাসসুম বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অষ্টম ব্যাচের শিক্ষার্থী। মেসের অন্যান্য শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোররাতে অজ্ঞাত […]

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী মেসে অস্ত্র নিয়ে অজ্ঞাত যুবকের প্রবেশ ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:৩৮

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী নিজ মেসে হামলার শিকার হয়েছেন।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোররাত আনুমানিক ৪টার দিকে শাহজাদপুর পৌর এলাকার একটি ছাত্রী মেসে এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী অনিকা তাবাসসুম বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অষ্টম ব্যাচের শিক্ষার্থী।

মেসের অন্যান্য শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোররাতে অজ্ঞাত এক যুবক ধারালো অস্ত্র হাতে অনিকার কক্ষে প্রবেশ করে। অনৈতিক উদ্দেশ্যে যুবকটি এগোলে অনিকা সাহসিকতার সাথে বাধা দেন।

এ সময় উভয়ের মধ্যে হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তি হয়। অনিকার আত্মরক্ষা ও চিৎকারের মুখে পরিস্থিতি প্রতিকূলে দেখে হামলাকারী যুবক দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। ধস্তাধস্তির ফলে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মুখ, গলা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক আঘাত ও ক্ষতের দাগ পড়েছে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শাহজাদপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রাথমিক তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে একজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে। তবে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী অনিকার দেওয়া বিবরণ ও জবানবন্দির সাথে আটক ব্যক্তির চেহারার কোনো মিল না থাকায় যাচাই-বাছাই শেষে তাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

এ বিষয়ে স্থানীয় থানা পুলিশ জানায়, “ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বর্ণনা অনুযায়ী মূল অপরাধীকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। দ্রুতই তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।”

ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিরাপত্তার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা অতি দ্রুত মূল অপরাধীকে গ্রেফতার এবং মেস এলাকায় স্থায়ী নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিশ্চিত করেছে যে, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পাশে তারা রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখছে।

শিক্ষাঙ্গন

‎রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার অভিযোগ,গুরুতর আহত ৪

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় চার সাংবাদিক গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ছাড়া আরও অন্তত ১০ সাংবাদিক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। হামলায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। রোববার (৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত সাংবাদিকরা হলেন—বিডিনিউজ […]

‎রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার অভিযোগ,গুরুতর আহত ৪

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০০:৩৬

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় চার সাংবাদিক গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ছাড়া আরও অন্তত ১০ সাংবাদিক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। হামলায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।

রোববার (৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

গুরুতর আহত সাংবাদিকরা হলেন—বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আরিফ উজ্জামান কোরবান, আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল এবং দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজু। আহতদের বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

হামলায় রাবি ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবীব ও শরিফুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম এবং সহদপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলম অথিসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, রাত ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট এলাকা থেকে একদল ছাত্রদল নেতাকর্মী মিছিল নিয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে যান। তাদের কয়েকজনের হাতে রামদা, চাপাতি, হকি স্টিক, পাইপ ও বেসবল ব্যাটসহ দেশীয় অস্ত্র দেখা গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেন।

খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এ সময় সেখানে থাকা কয়েকজন ছাত্রদল নেতাকর্মীর ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, প্রথমে দৈনিক সমকালের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিকে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। আজকের পত্রিকার প্রতিনিধির মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ারও চেষ্টা করা হয়। পরে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিনিধিকেও মারধর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা হিসেবে কয়েকজন সাংবাদিককে হলের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়।

হামলার খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও সাংবাদিক ঘটনাস্থলে গেলে তাদের ওপরও হামলার অভিযোগ পাওয়া যায়। এতে দ্য ডেইলি স্টার ও আগামীর সময়ের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আহত হন। আগামীর সময়ের প্রতিনিধির মাথায় আঘাত লাগে। অন্য সাংবাদিকরা এগিয়ে গেলে তাদের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্ট ও মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বলে জানা গেছে। রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারকে নিয়ে ছাত্রদল নেতা আহসান হাবীবের একটি ফেসবুক পোস্টে মন্তব্য ঘিরে রাকিবুল নামের একজনের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়।

আহসান হাবীব অভিযোগ করেন, ওই মন্তব্যে তার মা ও বোনকে নিয়ে গালাগাল করা হয়েছে। অন্যদিকে রাকিবুল দাবি করেন, তাকে মারধরের হুমকি দিয়ে অবস্থান জানতে চাওয়া হয়েছিল। পরে দুজনই ফেসবুকে পাল্টাপাল্টি পোস্ট দিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন।

এ পরিস্থিতির মধ্যে রোববার বিকেলে ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী অবস্থান নেন। তাদের কারও কারও হাতে বেসবল ব্যাট দেখা যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ অবস্থানের সমালোচনা করে শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলামও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেন। এরপর উত্তেজনা আরও বাড়ে এবং একপর্যায়ে হলের সামনে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।

ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মাহবুবুর রহমান বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তারা ব্যর্থ হয়েছেন। পুলিশের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছিল বলেও জানান তিনি।

রাবি ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, বিষয়টি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলকে জানানো হয়েছে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।